এগ্রিলাইফ২৪ ডটকম:দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পুনরুজ্জীবিত মাইক্রো-ওয়াটারশেডের মাটি ও পানির গুণগত মান এবং বর্তমান অবস্থা তুলে ধরতে খুলনায় ‘Soil and Water Quality Assessment of Rejuvenated Micro-watersheds in South-West Bangladesh’ শীর্ষক রেজাল্ট শেয়ারিং কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ ১৭ আগস্ট সোমবার দৌলতপুরস্থ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, খুলনা অঞ্চলের সম্মেলন কক্ষে সলিডারিডাড নেটওয়ার্ক এশিয়া (SNA) ও উত্তরণের উদ্যোগে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, খুলনা অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ মো. রফিকুল ইসলাম। প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. আসাদুজ্জামান সরকার।
কর্মশালার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য এবং আইডব্লিউআরএম প্রকল্পের কার্যক্রমের ওপর পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপন করেন SNA খুলনার ম্যানেজার-আইডব্লিউআরএম কৃষিবিদ মোস্তফা নুরুল ইসলাম। প্রকল্প এলাকার মাটির বর্তমান অবস্থা এবং মাটির স্বাস্থ্য রক্ষায় SNA-এর গৃহীত কার্যক্রম তুলে ধরেন SNA-এর সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার কৃষিবিদ ড. এস এম ফেরদৌস।
SNA-এর ম্যানেজার, ওয়াটার সিকিউরিটি অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি ড. উৎপল কুমার অনলাইনে যুক্ত হয়ে খুলনা অঞ্চলের মাইক্রো-ওয়াটারশেডগুলোর পানি পরীক্ষার ফলাফল উপস্থাপন করেন এবং অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। খুলনা অঞ্চলের পানির বর্তমান অবস্থা নিয়ে পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপন করেন এশিয়া আর্সেনিক নেটওয়ার্কের রসায়নবিদ আবু শামীম খান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর ড. মো. আসাদুজ্জামান সরকার বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলের মাটির স্বাস্থ্য রক্ষায় অধিক পরিমাণে জৈব সার ব্যবহার করতে হবে। তিনি SNA-এর খাল পুনঃখনন কার্যক্রমকে শহীদ জিয়ার খাল খনন কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ উল্লেখ করে খালের পানির প্রবাহ ও পরিবেশ সুরক্ষায় উপকারভোগীদের সচেতন থাকার আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে কৃষিবিদ মো. রফিকুল ইসলাম খুলনা অঞ্চলের পুনঃখননকৃত খালগুলোর পানির টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করতে খালের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জনগণকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান।
কর্মশালায় খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি), বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি), বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা)-এর বিজ্ঞানী, খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, মাইক্রো-ওয়াটারশেডের প্রতিনিধি এবং SNA ও উত্তরণের উন্নয়নকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।
উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন খুলনার উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. নজরুল ইসলাম, ব্রির বিজ্ঞানী কৃষিবিদ ড. মামুনউর রশীদ, বিনার বিজ্ঞানী কৃষিবিদ ড. কামরুজ্জামান, বারির বিজ্ঞানী কৃষিবিদ কামরুল ইসলাম, বাগেরহাটের অতিরিক্ত উপপরিচালক ড. মো. মনিরুজ্জামান, ক্লাইমেট স্মার্ট কৃষি প্রকল্পের কৃষিবিদ শেখ ফজলুল হক মনি, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নাজমুল হুদা, কৃষিবিদ মো. এনামুল হকসহ অনেকে।
আলোচকরা SNA-এর পক্ষ থেকে উপস্থাপিত মাটি ও পানির গুণগত মানসংক্রান্ত তথ্যকে সময়োপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি প্রকল্পের কর্ম এলাকা সম্প্রসারণের মাধ্যমে কৃষি প্রযুক্তি বিস্তার ও টেকসই কৃষি উন্নয়নে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।