এগ্রিলাইফ২৪ ডটকম:যশোরের মণিরামপুরে SAFAL for Integrated Water Resource Management (IWRM) প্রকল্পের আওতায় উপজেলা সমন্বিত পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা কমিটির নিয়মিত ত্রৈমাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (৩১ আগস্ট) উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় উপজেলার জলাবদ্ধতা নিরসন, পুনঃখননকৃত খালের পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখা এবং সমন্বিত পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সম্রাট হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভার শুরুতে সলিডারিডাড নেটওয়ার্ক এশিয়ার সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার কৃষিবিদ ড. এস এম ফেরদৌস বিগত সভার সিদ্ধান্ত ও তার বাস্তবায়ন অগ্রগতি সম্পর্কে সভাকে অবহিত করেন। পরে জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের ওয়াটার ক্লাস্টার অফিসার কৃষিবিদ তাহেরা ইসলাম মুনিয়া SAFAL for IWRM প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রমের ওপর একটি পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনা করেন।
সভায় উপজেলা সমন্বিত পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য ও কারিগরি সদস্যবৃন্দ, মাইক্রো-ওয়াটারশেড সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও প্রশাসক এবং মাইক্রো-ওয়াটারশেড নির্বাহী কমিটির সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।
সভায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সম্রাট হোসেন উপজেলার জলাবদ্ধতা নিরসনে আরও অধিক সংখ্যক খাল পুনঃখননের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি সরকারের খাল খনন কর্মসূচি সফল করতে সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি সংস্থা এবং সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে সমন্বিতভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, পুনঃখননকৃত খালগুলোর পানি প্রবাহ ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও জনসচেতনতা জরুরি। খালের প্রবেশমুখে সলিডারিডাড নেটওয়ার্ক এশিয়ার প্রস্তাবিত জনসচেতনতামূলক বিলবোর্ডের মূল বার্তা অনুসরণ করে খাল সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ এবং খাল কমিটির নির্বাহী সদস্যদের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
পুনঃখননকৃত খালগুলোর বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনাকালে বিভিন্ন খালে নেট-পাটা, চায়না জাল ও কচুরিপানার উপস্থিতির কারণে পানি প্রবাহ ও নিষ্কাশন ব্যাহত হওয়ার বিষয়টি আলোচনায় প্রাধান্য পায়। এসব প্রতিবন্ধকতা দূর করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় জনগণকে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর সভায় গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় SAFAL for IWRM প্রকল্পের কার্যক্রমের প্রশংসা করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলেন, প্রকল্পটির কার্যক্রম পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও জলাবদ্ধতা নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। প্রকল্পের কার্যক্রম শেষ হওয়ার পরও এর সুফল অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, প্রকল্পটি বর্ধিত করার কোনো সুযোগ থাকলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করা হবে।
সভায় উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) ও সদস্য সচিব ইয়াকুব আলী মণিরামপুর উপজেলার জলাবদ্ধতা নিরসনে এ ধরনের খাল পুনঃখনন কার্যক্রমকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয় বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসন ও পানি ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
মনোহরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানও সলিডারিডাড নেটওয়ার্ক এশিয়া ও জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের খাল পুনঃখনন কর্মসূচির প্রশংসা করেন। তিনি এ কার্যক্রমকে সরকারের চলমান খাল খনন কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ উল্লেখ করে অংশগ্রহণমূলক কৌশলে খাল পুনঃখনন এবং খালের স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখতে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন।
সভায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহির দেওয়ান আমিন, মণিরামপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী উত্তম কুমার মজুমদার, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ সেলিম রেজা, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ জোনায়েদ হাবিব, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার প্রতিনিধি মোঃ বোরহান, সহকারী প্রকৌশলী (জনস্বাস্থ্য) জয়দেব কুমার দত্ত, উপজেলা সমন্বয়ক অনুপম কুমার ঘোষ, বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের বিশ্বজিত ঘোষ, বিএডিসির উপসহকারী প্রকৌশলী আবদুল্লাহ আল মামুন এবং বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী মোঃ শরীফ রেজাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এবং SAFAL for IWRM প্রকল্পের জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের মণিরামপুরের ওয়াটার ক্লাস্টার অফিসার মোঃ জসীম উদ্দিন, ওয়াটার ক্লাস্টার ফ্যাসিলিটেটর মোঃ মাসুদুর রহমান, তপন সরকার ও ফাল্গুনী হালদার উপস্থিত ছিলেন।