এগ্রিলাইফ২৪ ডটকম:দেশে জনগণের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত প্রাণিজ খাদ্য (দুধ, মাংস ও ডিম) নিশ্চিত করার লক্ষ্যে “মৎস্য ও পশুখাদ্য আইন ২০১০ বাস্তবায়ন ও মান নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জোরদারকরণ” শীর্ষক এক দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল ২২ আগস্ট (শনিবার) সকাল ১০:০০টায় ঢাকার ফার্মগেটে অবস্থিত মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের মাল্টিপারপাস হলে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তর, ঢাকা বিভাগ।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব জনাব মোঃ দেলোয়ার হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জনাব নীলুফা আক্তার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কৃষিবিদ মোঃ শাহজামান খান।
কর্মশালায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, ফিড ও ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের মালিক ও প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অংশীজন অংশগ্রহণ করেন।
কর্মশালায় মৎস্য ও পশুখাদ্য আইন ২০১০-এর কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর জোর দেওয়া হয়। পশুখাদ্যের উৎপাদন, আমদানি, সংরক্ষণ, বিপণন ও ব্যবহারে কঠোর মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার নির্দেশনা দেওয়া হয়।এছাড়া জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পশুখাদ্যের গুণগত মান রক্ষায় নিয়মিত পরিদর্শন, নমুনা সংগ্রহ, ল্যাব পরীক্ষা ও মনিটরিং ব্যবস্থা আরও জোরদার করার কথা বলা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা উল্লেখ করেন, জাতীয় পর্যায়ে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিরাপদ পশুখাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে তা প্রাণিস্বাস্থ্য রক্ষা, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং নিরাপদ দুধ, মাংস ও ডিম উৎপাদনের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।
ফিড ও ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা এবং মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা আইন বাস্তবায়নে তাঁদের অভিজ্ঞতা, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ ও মাঠপর্যায়ের নানা বাস্তব তুলে ধরেন। সব পক্ষের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ ও তদারকি বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
কর্মশালা শেষে পশুখাদ্যে অননুমোদিত উপাদান ও ভেজাল প্রতিরোধে আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়, যা দেশের প্রাণিসম্পদ খাতের টেকসই উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।