Wednesday, October 28, 2026
নওগাঁ জেলার পত্নীতলার নকুচা গ্রামের সফল ফল চাষী মোঃ দেলোয়ার হোসেন
28, Oct 2026 | ফারমার্স এন্ড ফার্মিং

মো: দেলোয়ার হোসেন:বাংলাদেশের গ্রামীন এলাকায় পরিকল্পিত ফল বাগান স্থাপন টেকসই কৃষি উন্নয়ন ও পুষ্টি নিরাপত্তা অর্জনের একটি কার্যকর উপায়। ফল চাষের গুরুত্ব বিবেচনায় নওগাঁ জেলাতে গড়ে উঠেছে অসংখ্য ফল বাগান। যেখানে চাষ হচ্ছে আম, লিচু, কমলা, মাল্টা, ড্রাগন, কদবেল ও লেবুসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফলের চাষ। শস্য ভান্ডার খ্যাত নওগাঁ জেলায় বিভিন্ন ফসল উৎপাদনের পাশাপাশি ফল উৎপাদনে দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে।

নওগাঁ জেলার পত্নীতলা উপজেলার দিবর ইউনিয়নের নকুচা গ্রামের সফল কৃষক মো: দেলোয়ার হোসেন বাবুন। তিনি মাত্র ১০ বছর বয়সে কৃষি কাজে যুক্ত হন এবং ১৫ বছর বয়সে ফল গাছ রোপন করে বাগান তৈরী করেন। এখন তাঁর ফল বাগানের পরিমান ৫০ বিঘা। যেখানে কমলা ও মাল্টা বাগান ২২ বিঘা, লিচু বাগান ১০ বিঘা, আম ৫ বিঘা, ড্রাগন ৭ বিঘা, লেবু ৪ বিঘা ও কদবেল বাগান ২ বিঘা এবং ফল বাগানের পাশাপাশি ফসলের আবাদ হিসেবে টমেটো রয়েছে ৩ বিঘা, সীম রয়েছে ৩ বিঘা এবং স্কোয়াশ চাষ করেছেন ১.৫ বিঘা জমিতে।
  
তিনি ছোট বেলায় পিতা রিয়াজ উদ্দিনকে হারিয়ে ফেলেন। ২ ভাই ও ৬ বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার ছোট। বাবার মৃত্যুর পর বড় ভাইয়ের সংগে কৃষি কাজের পাশাপাশি লেখাপড়া চালিয়ে যান এবং ১৯৯৮ সালে বিএ ডিগ্রী অর্জন করেন। তাঁর পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত ২৫ বিঘা জমি নিয়ে সফলতার পথে যাত্রা শুরু করে বর্তমানে নিজস্ব সম্পতি হয়েছে ৩৫ বিঘা।

ফল চাষী বাবুন বলেন, নিজস্ব জমিতে প্রথমে থাইবরই বাগান করেন। তারপর লিচু ও থাই পেয়ারা এবং আম বাগান করেন। তবে ২০০৫ সালে বানিজ্যিক ভাবে আম, লিচু ও মাল্টা বাগান করেন। আম বাগান কমিয়ে মাল্টা, কমলা ও ড্রাগন বাগান বৃদ্ধি করতে থাকেন। বর্তমানে ২৪ বিঘা জমি লিজ নিয়ে বাগান স্থাপন করেন। তিনি বাগানের পরিচর্যায় বছরে ২ বার রাসায়নিক সার, খৈল ও জৈব সার প্রয়োগ করেন এবং বালাইনাশক বছরে ২-৩ বার প্রয়োগ করেন। তিনি বলেন, বাগানে বর্তমানে বারি ড্রাগন-১ ও ২ জাতের ৩৮০০ টি, কমলা ও মাল্টার ভিয়েতনাম, মরক্কো ও চায়না জাতের ৩৭৫০ টি, ছিডলেস লেবু গাছ ৮০০ টি, বোম্বাই ও চায়না জাতের লিচু ২১০ টি, বারোমাসি কদবেল ১০০ টি এবং আম ৪১০ টি গাছ আছে। তিনি বলেন, প্রতি মাসে গড়ে ৩০০ জন লেবার কাজ করেন। বাগানে লেবার, সার ও ঔষধ বাবদ মোট খরচ হয় প্রায় ১৯ লক্ষ টাকা। তাঁর বাগানে খরচ বাদে বছরে লাভ থাকে প্রায় ১৮ লক্ষ টাকা এবং তাঁর ১৫ বিঘার পুকুর থেকে লাভ আসে প্রায় ৫ লক্ষ টাকা। ফলে নীট লভ্যাংশ থাকে প্রায় ২১ লক্ষ টাকা। তিনি বলেন, অধিক পরিমান ফল বাগান স্থাপন করা হলে দেশে ফলের চাহিদা পূরুন হবে, বিদেশী ফলের আমদানী নির্ভরশীলতা কমবে, বৈদেশিক মূদ্রার সাশ্রয় হবে, পুষ্টি চাহিদা পূরণসহ বেকারত্ব দুর করে দেশ স্বনির্ভর হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

পত্নীতলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো: সোহরাব হোসেন বলেন, খাদ্য উদ্বৃত্ত্ব জেলা নওগাঁয় ফল বাগান রয়েছে ৩৪,০৪০ হেক্টার তন্মর্ধ্যে পত্নীতলা উপজেলায় রয়েছে ৫,৭১৫ হেক্টর জমিতে। উপজেলায় অনেক ফল বাগান রয়েছে , যার মধ্যে বাবুন এর বাগান উল্লেখযোগ্য। তাঁর বাগানে ড্রাগন, কমলা, মাল্টা, লিচুসহ কদবেল ও লেবু বাগান রয়েছে। যেখান থেকে প্রচুর লাভবান হচ্ছেন। তিনি আরো বলেন, নকুচা ব্লকের উপ সহকারী কৃষি অফিসার বাবুনসহ সকল ফল চাষীর সার্বক্ষণিক পরামর্শ প্রদান করছেন। তাঁর পরামর্শে বাগান পরিচর্যা, সার প্রয়োগ ও বালাইনাশক ব্যবহার করে থাকেন। তিনি বলেন, বাবুনের সফলতা দেখে উপজেলার যুব উদ্যেক্তাগণ এগিয়ে আসছে। তাই তিনি ফল বাগান স্থাপন করে আয় বৃদ্ধি, পারিবারিক পুষ্টি চাহিদা নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির অনুরোধ জানান।     

Agrilife24 Logo

Agriculturist Md. Shafiul Azam, Editor & CEO
Dhaka Office: 141/4, Lake Circus, Kalabagan, Dhanmondi, Dhaka-1205.
Bogura Office: Hakim Son's House, Seujgari, Bogura-5800.
Email: info@agrilife24.com, editor@agrilife24.com, news@agrilife24.com
Contact: +880 2-48112812, Whatsapp: +880 1912-837-999

Social Share

© Agrilife24 . All Rights Reserved. Developed by Innovative Soft