Saturday, September 26, 2026
পোকা মানেই শত্রু নয়: কৃষিতে 3R থেকে 4R
25, Sep 2026 | গবেষণা ও ফিচার

সমীরণ বিশ্বাস:কৃষকের চোখে ফসলের জমিতে পোকা দেখা মানেই অনেক সময় বিপদের সংকেত। পাতায় পোকা, গাছে পোকার ক্ষত বা ফলের গায়ে দাগ দেখলেই কীটনাশক প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কৃষক না জেনে না বুঝেই উপকারী পোকা-মাকড় মেরে ফেলছে কৃষক। কিন্তু কৃষিবিজ্ঞানের বাস্তবতা অনেক বেশি জটিল। জমিতে থাকা প্রতিটি পোকা ফসলের শত্রু নয়। বরং অসংখ্য পোকা কৃষি-প্রতিবেশব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ, কেউ পরাগায়নে সহায়তা করে, কেউ ক্ষতিকর পোকার ডিম ও লার্ভা খেয়ে ফেলে, কেউ মাটির জৈবিক প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখে। অর্থাৎ, পোকা মানেই অপকারী, এই ধারণা কৃষির জন্য বিপজ্জনক।

কৃষিজমির পোকামাকড়ের বৈচিত্র্য একটি এলাকার জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশগত ভারসাম্য বোঝার গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে কাজ করতে পারে। অথচ নির্বিচারে কীটনাশক ব্যবহারের ফলে ক্ষতিকর পোকার পাশাপাশি উপকারী পোকাও মারা যায়। এর ফলে প্রকৃতির নিজস্ব পোকা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে। খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে গিয়ে যদি আমরা কৃষির জীববৈচিত্র্য নষ্ট করি, তবে দীর্ঘমেয়াদে সেই কৃষিই আরও বেশি রাসায়নিক নির্ভর হয়ে উঠতে পারে। তাই প্রশ্ন শুধু  কীটনাশক ব্যবহার করব কি না , এটি নয়; বরং প্রশ্ন হলো, কখন, কেন, কোন পোকায়, কোন পদ্ধতিতে এবং কতটুকু ব্যবহার করব? কৃষক না জেনে উপকারী পোকা মেরে ফেলছেন।

একটি ধান বা সবজির জমিতে একই সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের পোকা থাকতে পারে। এর মধ্যে কিছু ফসলের ক্ষতি করে, আবার কিছু ক্ষতিকর পোকাকে প্রাকৃতিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করে। যেমন বিভিন্ন শিকারি পোকা ও পরজীবী পোকা ক্ষতিকর পোকার সংখ্যা কমাতে ভূমিকা রাখে। এদের উপস্থিতি অনেক সময় কৃষকের জন্য বিনামূল্যের ‘প্রাকৃতিক কীটনাশক’ হিসেবে কাজ করে। কিন্তু কৃষক যদি পোকা শনাক্ত না করেই ‘পোকা দেখেছি, ওষুধ দিতে হবে’ সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে লক্ষ্য পোকার সঙ্গে উপকারী পোকাও ধ্বংস হতে পারে। FAO-এর সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা বা IPM ধারণার মূল কথাই হলো, ক্ষতিকর পোকার সংখ্যা, অর্থনৈতিক ক্ষতির মাত্রা এবং পরিবেশগত বিষয় বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া; অকারণে কীটনাশক ব্যবহার নয়। ফলে কৃষকের প্রথম কাজ হওয়া উচিত পোকা চেনা। কোনটি ক্ষতিকর, কোনটি উপকারী এবং কোন পর্যায়ে ক্ষতিকর পোকা অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণ হতে পারে, এসব তথ্যের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

ইনসেক্ট হলো জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ সূচক। একটি কৃষি-প্রতিবেশব্যবস্থা যত বেশি বৈচিত্র্যময়, সেখানে খাদ্যশৃঙ্খল ও পারস্পরিক সম্পর্কও তত বেশি জটিল। ক্ষতিকর পোকা, শিকারি পোকা, পরজীবী পোকা, পরাগায়নকারী পোকা এবং অন্যান্য জীব একে অন্যের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই জমিতে সব পোকাকে ধ্বংস করা কোনো টেকসই সমাধান নয়। বরং লক্ষ্য হওয়া উচিত ক্ষতিকর পোকার সংখ্যা এমন পর্যায়ে রাখা, যাতে তা অর্থনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য সীমার মধ্যে থাকে এবং একই সঙ্গে উপকারী জীবের ভূমিকা অক্ষুণ্ণ থাকে। FAO-এর IPM কাঠামোও রাসায়নিক, জৈবিক, শারীরিক ও কৃষিতাত্ত্বিক বিভিন্ন পদ্ধতিকে সমন্বিত করার ওপর গুরুত্ব দেয়।

কীটনাশকের অতিরিক্ত ব্যবহারে 3R-এর ঝুঁকি। অপরিকল্পিত ও বারবার কীটনাশক ব্যবহারের ক্ষেত্রে তিনটি বড় সমস্যা সামনে আসে, Resistance, Resurgence এবং Residue; সংক্ষেপে বলা যায় 3R. 

প্রথম R-Resistance বা প্রতিরোধক্ষমতা। একই ধরনের কীটনাশক বারবার ব্যবহার করলে পোকার একটি অংশ সেই কীটনাশকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধক্ষম হয়ে উঠতে পারে। ফলে আগের ওষুধ আর আগের মতো কাজ করে না। তখন কৃষক মাত্রা বাড়াতে বা আরও শক্তিশালী ওষুধ খুঁজতে পারেন। এতে সমস্যা আরও জটিল হতে পারে। IRAC-এর নির্দেশনায় একই Mode of Action বারবার ব্যবহারের পরিবর্তে বিভিন্ন কার্যপদ্ধতির কীটনাশক পর্যায়ক্রমে ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
দ্বিতীয় R-Resurgence বা পোকার পুনরুত্থান। কীটনাশক প্রয়োগের পর ক্ষতিকর পোকা সাময়িকভাবে কমে গেলেও তার প্রাকৃতিক শত্রু বা উপকারী পোকা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হলে পরবর্তী সময়ে ক্ষতিকর পোকার সংখ্যা আবার দ্রুত বেড়ে যেতে পারে। FAO উল্লেখ করেছে যে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের সঙ্গে pest resurgence এবং secondary pest outbreak-এর মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

তৃতীয় R-Residue বা অবশিষ্টাংশ। কীটনাশকের ভুল প্রয়োগ, অতিরিক্ত ব্যবহার অথবা ফসল কাটার আগে নির্ধারিত অপেক্ষাকাল না মানার ফলে খাদ্য ও পরিবেশে অবশিষ্টাংশের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। ফলে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের প্রশ্নটি সরাসরি কীটনাশক ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত। অর্থাৎ, আজ একটি পোকা মেরে ফেলার তাৎক্ষণিক সুবিধার পাশাপাশি আগামী মৌসুমের কৃষি ব্যবস্থার ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে।

কীটনাশক ব্যবহারে 4R: সঠিক সিদ্ধান্তের চার ধাপ:  এই পরিস্থিতিতে কৃষকের জন্য একটি সহজ ব্যবহারিক কাঠামো হতে পারে 4R, সঠিক পোকা চেনা, সঠিক সময়, সঠিক নির্বাচন এবং সঠিক প্রয়োগ।

সঠিক পোকা চেনা, Right Pest Identification: প্রথমেই নিশ্চিত হতে হবে, সমস্যাটি আসলে কী? কোন পোকা? কোন রোগ? নাকি অন্য কোনো কারণে গাছের ক্ষতি হচ্ছে? শুধু পাতায় ছিদ্র দেখেই কীটনাশক প্রয়োগ করা ঠিক নয়। ছবি, মাঠ পর্যবেক্ষণ, কৃষি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ এবং প্রয়োজন হলে ডিজিটাল AI-ভিত্তিক শনাক্তকরণ ব্যবস্থার সহায়তা নেওয়া যেতে পারে। ভুল পোকা শনাক্ত করে সঠিক ওষুধ প্রয়োগ করা সম্ভব নয়।

সঠিক সময়,  Right Timing: পোকা দেখা গেলেই সঙ্গে সঙ্গে স্প্রে করার প্রয়োজন নেই। পোকার জীবনচক্র, আক্রান্ত ফসলের বয়স, পোকার সংখ্যা এবং সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ক্ষতি বিবেচনা করতে হবে। IRAC-এর নির্দেশনাতেও কীটনাশক প্রয়োগের সময় সঠিকভাবে নির্ধারণ এবং ক্ষতিকর পোকার অর্থনৈতিক মাত্রা বিবেচনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, সময় ভুল হলে ভালো ওষুধও অকার্যকর হয়ে যেতে পারে।

সঠিক নির্বাচন,  Right Selection: যদি কীটনাশক ব্যবহার করতেই হয়, তবে লক্ষ্য পোকার জন্য নিবন্ধিত ও উপযুক্ত পণ্য নির্বাচন করতে হবে। শুধু ব্র্যান্ডের নাম পরিবর্তন করলেই কীটনাশকের কার্যপদ্ধতি পরিবর্তন হয় না। প্রতিরোধ ব্যবস্থাপনায় Mode of Action বা কার্যপদ্ধতি বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ। এখানেই কৃষি পরামর্শ ব্যবস্থার গুরুত্ব বাড়ে। কৃষককে জানতে হবে কোন পণ্য কোন পোকার বিরুদ্ধে, কোন মাত্রায় এবং কী ধরনের কার্যপদ্ধতিতে কাজ করে।

সঠিক প্রয়োগ ,  Right Application:  সঠিক ওষুধ, সঠিক মাত্রা, সঠিক সময়, সবকিছু ঠিক থাকার পরও প্রয়োগ পদ্ধতি ভুল হলে ফল পাওয়া যাবে না। তাই লেবেল নির্দেশনা, নির্ধারিত মাত্রা, স্প্রে ব্যবধান, নিরাপত্তা বিধি এবং ফসল কাটার আগে অপেক্ষাকাল মেনে চলতে হবে। একই সঙ্গে বাতাস, বৃষ্টি, তাপমাত্রা ও মাঠের অবস্থাও বিবেচনায় নিতে হবে। অপ্রয়োজনীয় বারবার স্প্রে না করে পর্যবেক্ষণ করতে হবে, প্রয়োগের পর কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া গেছে কি না।

বায়োপেস্টিসাইড: বিকল্প ব্যবস্থার দিকে এগোতে হবে। কৃষিতে রাসায়নিক কীটনাশকের প্রয়োজন একেবারে অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তবে টেকসই কৃষির জন্য এর ওপর একমাত্র নির্ভরশীলতাও গ্রহণযোগ্য নয়। এখানেই বায়োপেস্টিসাইড, জৈবিক নিয়ন্ত্রণ, ফসল ব্যবস্থাপনা, যান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ এবং অন্যান্য IPM পদ্ধতির গুরুত্ব। বায়োপেস্টিসাইড ব্যবহারের মাধ্যমে লক্ষ্য পোকার ব্যবস্থাপনায় তুলনামূলকভাবে পরিবেশবান্ধব বিকল্প তৈরি করা সম্ভব হতে পারে। তবে ‘বায়ো’ শব্দটি দেখেই কোনো পণ্যকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিরাপদ বা কার্যকর ধরে নেওয়া উচিত নয়। নিবন্ধিত পণ্য, সঠিক লক্ষ্যবস্তু, সঠিক মাত্রা, প্রয়োগের সময় এবং সংরক্ষণ পদ্ধতি, সবই গুরুত্বপূর্ণ। সবচেয়ে কার্যকর পথ হলো রাসায়নিক নিয়ন্ত্রণকে IPM-এর একটি অংশ হিসেবে দেখা, পুরো ব্যবস্থাপনা হিসেবে নয়।

প্রযুক্তি হতে পারে কৃষকের সিদ্ধান্তের সহায়ক: বাংলাদেশের কৃষিতে এখন AI, IoT, আবহাওয়া তথ্য, ডিজিটাল কৃষি পরামর্শ এবং মাঠভিত্তিক ডেটা ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এই প্রযুক্তিকে কীটনাশকের বিকল্প হিসেবে নয়, বরং সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সহায়ক ব্যবস্থা হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। কৃষক যদি জানতে পারেন, কোন পোকা দেখা গেছে, তার ঘনত্ব কত, আবহাওয়ার পরিস্থিতি কী, রোগ বা পোকার বিস্তারের সম্ভাবনা কতটা এবং কখন ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, তাহলে অপ্রয়োজনীয় স্প্রে কমানো সম্ভব হতে পারে। বিশেষ করে AI-ভিত্তিক পোকা শনাক্তকরণ ব্যবস্থা, মাঠ পর্যবেক্ষণ এবং স্থানীয় কৃষি বিশেষজ্ঞের পরামর্শকে একসঙ্গে কাজে লাগানো গেলে ‘দেখলাম, স্প্রে করলাম’ ধরনের সিদ্ধান্তের পরিবর্তে ‘চিহ্নিত করলাম, বিশ্লেষণ করলাম, প্রয়োজন হলে ব্যবস্থা নিলাম’ সংস্কৃতি তৈরি করা সম্ভব।

কৃষিতে নতুন দর্শন: পোকা দমন নয়, পোকা ব্যবস্থাপনা:  আমাদের কৃষি ব্যবস্থাপনায় একটি মৌলিক পরিবর্তন প্রয়োজন। ‘পোকা দেখলেই মেরে ফেলতে হবে’, এই ধারণা থেকে বেরিয়ে এসে ‘ক্ষতিকর পোকাকে অর্থনৈতিক ক্ষতির সীমার নিচে রাখতে হবে’, এই বৈজ্ঞানিক ধারণায় যেতে হবে। এ জন্য কৃষকের প্রশিক্ষণ, ডিলারদের দায়িত্বশীলতা, মাঠ পর্যায়ের পরামর্শ, কীটনাশক ব্যবহারের রেকর্ড, সঠিক লেবেলিং এবং কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা জরুরি। একই সঙ্গে কৃষি সম্প্রসারণ ব্যবস্থায় IPM, উপকারী পোকা শনাক্তকরণ ও সংরক্ষণকে আরও গুরুত্ব দিতে হবে।

কৃষকের জমিতে থাকা প্রতিটি পোকা শত্রু নয়। অনেক পোকাই কৃষকের অদৃশ্য সহযোগী। তারা ক্ষতিকর পোকার সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করে, পরাগায়নে সহায়তা করে এবং কৃষি-প্রতিবেশব্যবস্থার ভারসাম্য রক্ষা করে। তাই নির্বিচারে পোকা নিধন শেষ পর্যন্ত কৃষির নিজের স্বাভাবিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকেই দুর্বল করতে পারে। অতিরিক্ত ও ভুল কীটনাশক ব্যবহারের ফলে 3R- Resistance, Resurgence ও Residue-এর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এর বিপরীতে কৃষকের সিদ্ধান্ত গ্রহণে 4R-Right Pest Identification, Right Timing, Right Selection ও Right Application নীতি অনুসরণ করা জরুরি।

একই সঙ্গে বায়োপেস্টিসাইড, জৈবিক নিয়ন্ত্রণ, ফসল ব্যবস্থাপনা এবং অন্যান্য IPM/GAP পদ্ধতিকে মূলধারায় আনতে হবে। কারণ টেকসই কৃষির লক্ষ্য শুধু আজকের পোকা দমন নয়; আগামী দিনের মাটি, পানি, জীববৈচিত্র্য, খাদ্য নিরাপত্তা এবং কৃষকের আয় সুরক্ষাও। কৃষির ভবিষ্যৎ তাই ‘বেশি কীটনাশক’ নয়, বেশি জ্ঞান, বেশি পর্যবেক্ষণ, সঠিক প্রযুক্তি এবং কম অপ্রয়োজনীয় প্রয়োগ। পোকাকে শুধু শত্রু হিসেবে না দেখে কৃষি-প্রতিবেশের অংশ হিসেবে দেখার সময় এসেছে। পোকা চিনুন, প্রয়োজন বুঝুন, 4R মানুন, আর কৃষিকে ফিরিয়ে দিন তার প্রাকৃতিক ভারসাম্য।
লেখক:কৃষি ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞ

Agrilife24 Logo

Agriculturist Md. Shafiul Azam, Editor & CEO
Dhaka Office: 141/4, Lake Circus, Kalabagan, Dhanmondi, Dhaka-1205.
Bogura Office: Hakim Son's House, Seujgari, Bogura-5800.
Email: info@agrilife24.com, editor@agrilife24.com, news@agrilife24.com
Contact: +880 2-48112812, Whatsapp: +880 1912-837-999

Social Share

© Agrilife24 . All Rights Reserved. Developed by Innovative Soft