এগ্রিলাইফ২৪ ডটকম:খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার শরাফপুর ইউনিয়নে রাজকীয় নেদারল্যান্ডস্ দূতাবাসের অর্থ সহায়তায় ও সলিডারিডাড নেটওয়ার্ক এশিয়ার উদ্যোগে এবং উত্তরণের বাস্তবায়নে পুনঃখননকৃত কাইনমারা মাইক্রো-ওয়াটারসেড পরিদর্শন করেছেন চীন থেকে আগত ইউনান এগ্রিকালচারাল ইউনিভার্সিটির স্কুল অব ইকোনমিকস অ্যান্ড ম্যানেজমেন্টের অধ্যাপক ড. লু ফেং ও ইয়ান ঝাংসহ দেশি-বিদেশি প্রতিনিধিদল। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত এ পরিদর্শনে মাইক্রো-ওয়াটারসেড পুনঃখননের ফলে কৃষি কর্মকাণ্ড, পানি ব্যবস্থাপনা ও স্থানীয় জনগণের জীবনযাত্রায় দৃশ্যমান পরিবর্তন সম্পর্কে প্রতিনিধিদলকে অবহিত করা হয়।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. নজরুল ইসলাম, খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. ফেরদৌস আরা হ্যাপি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলরের ব্যক্তিগত সচিব কৃষিবিদ মো. রুহুল মোমিন।
কাইনমারা মাইক্রো-ওয়াটারসেড পরিদর্শনকালে সলিডারিডাড নেটওয়ার্ক এশিয়ার খুলনা কার্যালয়ের সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার মাইক্রো-ওয়াটারসেড গভর্ণন্যান্স কৃষিবিদ ড. এস এম ফেরদৌস প্রতিনিধিদলকে সফল ফর ইন্টিগ্রেটেড ওয়াটার রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট (SAFAL for IWRM) প্রকল্পের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি সমন্বিত পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, পানির কার্যকর ব্যবহার এবং স্থানীয় পর্যায়ে মাইক্রো-ওয়াটারসেডের টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. নজরুল ইসলাম মাইক্রো-ওয়াটারসেড পুনঃখননের পর এর ক্যাচমেন্ট এলাকায় কৃষি কর্মকাণ্ডে দৃশ্যমান পরিবর্তনগুলো উপস্থাপন করেন। পানি ব্যবস্থাপনার উন্নতির ফলে কৃষি উৎপাদন ও কৃষিকাজের সুযোগে কী ধরনের পরিবর্তন এসেছে, সে বিষয়েও প্রতিনিধিদলকে অবহিত করা হয়।
এ সময় কাইনমারা মাইক্রো-ওয়াটারসেডের নির্বাহী কমিটির সভাপতি মো. আব্দুর রশীদ, সহ-সভাপতি নাসরিন বেগম, সাধারণ সম্পাদক সাগরিকা কুন্ডু, কোষাধ্যক্ষ নারায়ণ মহলদার এবং উপদেষ্টা আমল হোসেন মিঠুসহ কমিটির সদস্যরা পুনঃখননের ফলে তাঁদের জীবনযাত্রায় আসা পরিবর্তনের অভিজ্ঞতা প্রতিনিধিদলের কাছে তুলে ধরেন। তাঁরা মাইক্রো-ওয়াটারসেডের পানি ব্যবস্থাপনা, কৃষিকাজ এবং স্থানীয় জনগণের জীবিকার সঙ্গে এর সম্পৃক্ততার বিষয়গুলো তুলে ধরেন।
প্রতিনিধিদল সলিডারিডাড নেটওয়ার্ক এশিয়ার উদ্যোগে স্থাপিত সবজি সংগ্রহ কেন্দ্রটিও পরিদর্শন করেন। এ সময় কৃষিপণ্য সংগ্রহ ও বিপণনের ক্ষেত্রে এ ধরনের উদ্যোগের ভূমিকা সম্পর্কে তাঁরা অবহিত হন। মাইক্রো-ওয়াটারসেডের নির্বাহী কমিটির সদস্যরা এর ব্যবস্থাপনা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ কার্যক্রম পরিচালনা নিয়ে তাঁদের উৎসাহ ও পরিকল্পনা প্রতিনিধিদলের সামনে তুলে ধরেন। তাঁদের অংশগ্রহণ, উদ্যোগ ও পরিকল্পনা শুনে প্রতিনিধিদল সন্তোষ প্রকাশ করেন।
পরিদর্শন কার্যক্রম সফল করতে উত্তরণের ওয়াটার কমিউনিটি ফ্যাসিলিটেটর সৈয়দ ইমরান ও শেখ জুয়েল পারভেজ মাইক্রো-ওয়াটারসেড নির্বাহী কমিটির সদস্যদের সমবেত করেন এবং প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মতবিনিময়ের ব্যবস্থা করেন। এ পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে কাইনমারা মাইক্রো-ওয়াটারসেডের পুনঃখনন-পরবর্তী পরিবর্তন, স্থানীয় জনগণের অভিজ্ঞতা এবং পানি সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনায় কমিউনিটিভিত্তিক উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।