মো: আমিনুল ইসলাম:রাজশাহী বিভাগের আট জেলার সার, বীজ, সেচ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ বিষয়ক সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। ০৪ নভেম্বর ২০২৬ (বুধবার) সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়, রাজশাহীর সম্মেলন কক্ষে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মো. রেজাউল আলম সরকার এর সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের কৃষি মন্ত্রণালয় এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত মন্ত্রী জনাব মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ ।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে সারের কোনো সংকট নেই এবং ভবিষ্যতেও সংকটের কোনো আশঙ্কা নেই। কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সব ধরনের সার সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। গত বছরের চেয়ে এই সময়ে ৩৫ শতাংশ বেশি সার মজুত রয়েছে। তিনি সার পাচার রোধে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সীমান্ত এলাকায় কঠোর নজরদারি রাখার নির্দেশ প্রদান করেন। সারের দোকান অবশ্যই সকাল ৯টার মধ্যে খুলতে হবে এবং বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার আগে বন্ধ করা যাবে না বলে ডিলারদের নির্দেশ প্রদান করেন। তিনি আরও বলেন, ডিলারশিপ নিয়ে অনিয়ম, বরাদ্দ করা সার নির্দিষ্ট সময়ে না তুললে সংশ্লিষ্ট ডিলারকে খেলাপি বা ডিফল্টার হিসেবে চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্ত্রী কৃষি উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল, আধুনিক ও কৃষকবান্ধব করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। আমদানি নির্ভরতা কমাতে সংশ্লিষ্ট সকলকে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। সভায় রাজশাহী বিভাগের কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষকের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং সামগ্রিক খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
অনুষ্ঠিত এ মতবিনিময় সভায় মন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে বিশেষ অতিথি ছিলেন মন্ত্রীর একান্ত সচিব মো. খোরশেদ আলম, মন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব মো. আমিনুল ইসলাম, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, খামারবাড়ি, ঢাকার মহাপরিচালক কৃষিবিদ মো. আব্দুর রহিম।
এ ছাড়া সভায় কৃষি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, পুলিশ কর্মকর্তা, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের প্রতিনিধি, বিভিন্ন সংস্থার প্রধান, সাংবাদিকসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা অংশগ্রহণ করেন।
সভায় সার, বীজ, সেচ, মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ তথ্য সার্বিক কৃষি উৎপাদন, বিতরণ ও মাঠ পর্যায়ের ব্যবস্থাপনা নিয়ে অংশীজনদের সাথে মুক্ত আলোচনা হয়।