নিজস্ব প্রতিবেদক: সাতক্ষীরার অনানুষ্ঠানিক বসতিতে বসবাসকারী প্রায় ৭৫ শতাংশ জলবায়ু-বাস্তুচ্যুত পরিবার তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। বাংলাদেশ খাদ্য নিরাপত্তা নেটওয়ার্ক-খানি বাংলাদেশ ও পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড অ্যাকশান নেটওয়ার্ক-প্রান প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘কপ৩১ এবং বাস্তুচ্যুত মানুষের জলবায়ু ন্যায়বিচার’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে ‘বাস্তুচ্যুত, বঞ্চিত’ শিরোনামের প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। এতে গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন প্রানের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর উম্মে সালমা পপি।
গবেষণায় দেখা গেছে, সাতক্ষীরা পৌরসভার ৪৭টি অনানুষ্ঠানিক বসতিতে প্রায় ৭ হাজার ৫৭৩টি জলবায়ু-বাস্তুচ্যুত পরিবার বসবাস করছে। ৩৫টি বসতির ৩৫৮টি পরিবারের ওপর পরিচালিত জরিপে ৭৪.৯ শতাংশ পরিবার তীব্র এবং ২৩.২ শতাংশ পরিবার মাঝারি খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে। জরিপে কোনো পরিবারকেই খাদ্য নিরাপদ হিসেবে পাওয়া যায়নি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ৫২.২ শতাংশ পরিবারকে কখনো কখনো সারা দিন না খেয়ে থাকতে হয়। ৯০.৮ শতাংশ পরিবারের ঘরে কোনো খাবার মজুত নেই অথবা সর্বোচ্চ তিন দিনের খাবার রয়েছে। এছাড়া ৯৫.২ শতাংশ পরিবারের প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যরা শিশুদের খাবার নিশ্চিত করতে নিজেদের খাবারের পরিমাণ কমিয়ে দেন। অথচ মাত্র ৭.৫ শতাংশ পরিবার সরকারি সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বাস্তুচ্যুত মানুষের আবাসন, কর্মসংস্থান, নিরাপদ পানি ও খাদ্যসংকটের বিষয়টি তুলে ধরেন বক্তারা। তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবে বাস্তুচ্যুত এসব মানুষ দীর্ঘদিন ধরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাদের পুনর্বাসন, সামাজিক সুরক্ষা এবং মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে কার্যকর সরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন।
আসন্ন জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলন কপ৩১-এ বাস্তুচ্যুত মানুষের খাদ্য ও পুষ্টির অধিকারকে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরার আহ্বান জানান বক্তারা। আগামী ৯ থেকে ২০ নভেম্বর তুরস্কের আন্তালিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য এ সম্মেলনে জলবায়ু ন্যায়বিচার ও ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টি অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানান তারা।
প্রতিবেদনে বাস্তুচ্যুত পরিবারের স্থায়ী আবাসন, জরুরি খাদ্য সহায়তা, নিরাপদ পানি, পুষ্টিসেবা, কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি জলবায়ু অভিযোজন কার্যক্রমে শহরের অনানুষ্ঠানিক বসতিতে বসবাসকারী বাস্তুচ্যুত মানুষদের অন্তর্ভুক্তি এবং ঋণনির্ভরতার পরিবর্তে অনুদানভিত্তিক জলবায়ু অর্থায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।