ক্যাম্পাস ডেস্ক:শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) নিরাপদ খাদ্য বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং উচ্চশিক্ষা ও গবেষণাকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে ‘Food Safety’ বিষয়ক এ সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়। এ অনুষ্ঠানে খাদ্য নিরাপদতার বর্তমান চ্যালেঞ্জ, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ, গবেষণার সুযোগ এবং জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে খাদ্য নিরাপত্তার সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. বেলাল হোসেন। ফুড সেফটি প্রোগ্রামের কো- অর্ডিনেটর অধ্যাপকঃ ড. মোহাম্মদ আরিফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফুড সেফটি অথরিটি এর সদস্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শোয়েব, বিশ্ববিদ্যালয়ের পোস্ট গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজ এর ডীন প্রফেসর ড. সালাউদ্দিন মাহমুদ চৌধুরী, সাউরেস এর পরিচালক প্রফেসর ড. এফ. এম. আমিনুজ্জামান, আইকিউএসি এর পরিচালক প্রফেসর ড. মো. রজ্জব আলী ও নেদারল্যান্ড এম্বেসীর সিনিয়র পলিসি এডভাইজার ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রফেসর ড. মো. তাজুল ইসলাম চৌধুরী। এছাড়া অনুষ্ঠানে নিরাপাদ খাদ্য বিষয়ে কাজ করা শিক্ষক, গবেষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, খাদ্য উৎপাদন থেকে শুরু করে প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ, পরিবহন ও ভোক্তার টেবিল পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে আধুনিক গবেষণা, দক্ষ মানবসম্পদ, কার্যকর নজরদারি এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
তারা আরও বলেন, বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা ও খাদ্য চাহিদার প্রেক্ষাপটে শুধু পর্যাপ্ত খাদ্য উৎপাদন করাই যথেষ্ট নয়; একই সঙ্গে খাদ্যের নিরাপদতা, গুণগত মান ও পুষ্টিমান নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে নিরাপদ খাদ্য বিষয়ে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
অনুষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্ব ছিল প্রথম থিসিস ডিফেন্স। ৫ জন শিক্ষার্থী নিরাপদ খাদ্য বিষয়ে আজ তাদের উপস্থাপনা তুলে ধরেন। গবেষণা কাজের উপস্থাপনা ও মূল্যায়নের মাধ্যমে এ ডিফেন্স অনুষ্ঠিত হয়। গবেষণার ফলাফল, পদ্ধতি, বিশ্লেষণ ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে পরীক্ষক ও গবেষকের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
প্রথম থিসিস ডিফেন্সকে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপদ খাদ্য শিক্ষাক্রমের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করা হয়। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের গবেষণা বাংলাদেশের নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে কার্যকর অবদান রাখবে।
সেমিনার ও থিসিস ডিফেন্সে অংশগ্রহণকারীরা খাদ্যের নিরাপদতাকে জাতীয় উন্নয়ন ও জনস্বাস্থ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করে গবেষণা, শিক্ষা ও বাস্তব প্রয়োগের মধ্যে আরও কার্যকর সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।