ইসলামিক ডেস্ক:ইসলামে মানুষের উপার্জিত ধন-সম্পদে কেবল তাদের নিজেদেরই একক অধিকার বা মালিকানা দেওয়া হয়নি। বরং সমাজ ও আশেপাশের সাহায্যপ্রার্থী এবং বঞ্চিত মানুষের যে অধিকার বা হক রয়েছে, তা অকাতরে দান করার মাধ্যমে আদায় করার জন্য পবিত্র কুরআনে জোরালো নির্দেশনা রয়েছে।
পবিত্র সূরা আজ-যারিয়াত (সূরা নম্বর ৫১)-এর ১৯ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ তাআলা স্পষ্ট ঘোষণা করেছেন, "আর তাদের ধন-সম্পদে সাহায্যপ্রার্থী ও বঞ্চিতদের হক রয়েছে।" এই ঐশী বাণীর মূল তাৎপর্য হলো, সমাজে যারা সামর্থ্যবান, তাদের সম্পদে অভাবী মানুষের অংশ নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে ইসলামে দান করাকে ধনীদের পক্ষ থেকে কোনো দয়া বা করুণা হিসেবে দেখা হয়নি, বরং এটিকে বঞ্চিতদের প্রাপ্য অধিকার হিসেবে সাব্যস্ত করা হয়েছে।
এই সামাজিক দায়বদ্ধতা ও দানশীলতার বিধান মেনে চলার মাধ্যমে সমাজে অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা পায় এবং ধনী ও দরিদ্রের মধ্যকার বৈষম্য দূর হয়। নিয়মিত দান করার ফলে দাতার উপার্জিত সম্পদ যেমন পবিত্র ও বরকতময় হয়, তেমনি সমাজের প্রতিটি স্তরে পারস্পরিক সহমর্মিতা ও ভালোবাসার পরিবেশ তৈরি হয়। নিজের অভাব মিটিয়ে আশেপাশের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের প্রাপ্য অধিকার সুচারুভাবে বুঝিয়ে দেওয়া প্রতিটি মুমিনের অন্যতম প্রধান নৈতিক দায়িত্ব। তাই ইসলামের এই শাশ্বত আদর্শকে ধারণ করে সমাজের প্রতিটি স্তরে বিত্তবানদের অকাতরে দান ও মানবকল্যাণে এগিয়ে আসা জরুরি, যা একটি সুষম ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে সবচেয়ে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।