ইসলামিক ডেস্ক:পরম করুণাময় মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন এই মহাবিশ্ব, মানুষ এবং জিন জাতিকে সৃষ্টি করেছেন। পবিত্র কোরআনের অন্যতম হৃদয়স্পর্শী ও সুমধুর সূরা হলো ‘সূরা আর-রহমান’। এই সূরার শেষ আয়াতে (৭৮ নম্বর আয়াত) মহান আল্লাহর সুমহান মর্যাদা ঘোষণা করে বলা হয়েছে, “তোমার রবের নাম বরকতময়, যিনি মহামহীম ও মর্যাদাবান।” সমগ্র সূরা জুড়ে আল্লাহ তাআলা তাঁর সৃষ্টিজগতের প্রতি নেয়ামতসমূহের বিবরণ দিয়েছেন। বিশেষ করে মানুষ ও জিন জাতিকে উদ্দেশ্য করে তিনি বারবার একটি চমৎকার প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন, যার অর্থ: “অতএব, তোমরা উভয়ে (মানুষ ও জিন) তোমাদের রবের কোন কোন নেয়ামতকে অস্বীকার করবে?”
ইসলামিক স্কলার ও মুফাসসিরগণের মতে, সূরা আর-রহমানের শানে নজুল (অবতীর্ণ হওয়ার প্রেক্ষাপট) অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মক্কার কাফেররা যখন মহান আল্লাহর ‘আর-রহমান’ (পরম দয়ালু) গুণবাচক নাম নিয়ে উপহাস করত এবং বলত, “রহমান আবার কে?”, তখন তাদের এই অজ্ঞতা ও ঔদ্ধত্যের জবাবে আল্লাহ তাআলা নিজের পরিচয় ও তাঁর অসীম নেয়ামতের বিবরণ দিয়ে এই সূরাটি নাজিল করেন। অন্য একটি রেওয়ায়েতে জানা যায়, রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন এই সূরাটি জিনদের সামনে তিলাওয়াত করেছিলেন, তখন প্রতিবারই ‘তোমরা রবের কোন কোন নেয়ামত অস্বীকার করবে’ আয়াতটি আসার পর জিনেরা উত্তর দিত, “হে আমাদের রব! আপনার কোনো নেয়ামতকেই আমরা অস্বীকার করি না, সমস্ত প্রশংসা কেবল আপনারই।”
এই সূরায় বর্ণিত মহান আল্লাহর নেয়ামতসমূহ মানব ও জিন জাতির অস্তিত্বের প্রতিটি পরতে পরতে জড়িয়ে আছে। আকাশ, পৃথিবী, সূর্য, চন্দ্র, ফলমূল, বৃক্ষরাজি এবং সমুদ্রের তলদেশের মুক্তা থেকে শুরু করে মানুষের জীবনধারণের সব উপকরণ আল্লাহ তাআলার এক অনন্য দান। মানুষ ও জিন সৃষ্টিগতভাবে দুর্বল এবং তারা আল্লাহর নেয়ামতের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল। জীবনের শ্বাস-প্রশ্বাস থেকে শুরু করে মহাবিশ্বের সুশৃঙ্খল নিয়ম সবই আল্লাহর দয়ার বহিঃপ্রকাশ। এই বাস্তবতার সামনে দাঁড়িয়ে কোনো বিবেকবান মানুষ বা জিনের পক্ষে আল্লাহর কোনো একটি নেয়ামতকেও অস্বীকার করার উপায় নেই।
সূরার শেষ আয়াতের এই বরকতময় ঘোষণা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, আমরা যতই নেয়ামত ভোগ করি না কেন, আমাদের একমাত্র কাজ হলো সেই মহামহীম ও মর্যাদাবান রবের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা।