উৎপাদন বৃদ্ধি, মানসম্মত প্রোবায়োটিকস ব্যবহার ও লাভজনক চাষ ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বারোপ
এগ্রিলাইফ২৪ ডটকম: মাছ ও চিংড়ি চাষে উৎপাদন বৃদ্ধি, অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানো এবং আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক খামার ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে বাগেরহাটের যাত্রাপুরে প্রশিক্ষণ কর্মশালা ও মতবিনিময় সভার আয়োজন করেছে এডভান্স এগ্রোটেক বাংলাদেশ। ২৯ অক্টোবর ২০২৬, বৃহস্পতিবার স্থানীয় পরিবেশক প্রতিষ্ঠান সততা এন্টারপ্রাইজের সহযোগিতায় আয়োজিত এ কর্মশালায় প্রায় ৬০ জন মাছ ও চিংড়িচাষি, হ্যাচারি মালিক, মৎস্য ব্যবসায়ী এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে মূল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ একুয়া প্রোডাক্ট কোম্পানিজ অ্যাসোসিয়েশনের (বাপকা) সাবেক সভাপতি ও এডভান্স এগ্রোটেক বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান। কারিগরি প্রশিক্ষক হিসেবে ছিলেন প্রতিষ্ঠানের কারিগরি ও বিপণন বিভাগের প্রধান কৃষিবিদ রেজাউল হক। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রতিষ্ঠানের যশোর ও বাগেরহাট অঞ্চলের নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন। এ ছাড়া খুলনা ও সাতক্ষীরা অঞ্চলের জ্যেষ্ঠ নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ হাসান এবং বাগেরহাট, খুলনা ও গোপালগঞ্জ জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত কারিগরি ও বিপণন কর্মকর্তা মো. আকাশ আহমেদ ও মো. তাওহীদ উপস্থিত ছিলেন।
পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন কারি মো. আবদুল বাশার। মূল আলোচনায় মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান মাছ ও চিংড়ি চাষে প্রোবায়োটিকের ভূমিকা, কার্যকারিতা এবং সঠিক ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, লাভজনক চাষের জন্য মাটি ও পানির গুণগত মান, অক্সিজেন ও অ্যামোনিয়ার মাত্রা এবং পুকুরের তলদেশের জৈব বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বিশেষ নজর দিতে হবে। পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় ও অকার্যকর পণ্য ব্যবহার না করে মানসম্মত ও প্রয়োজনভিত্তিক উপকরণ নির্বাচনের মাধ্যমে উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
কারিগরি প্রশিক্ষক কৃষিবিদ রেজাউল হক বাংলাদেশের অর্থনীতি ও রপ্তানি খাতে চিংড়ি চাষের গুরুত্ব তুলে ধরে পুকুর প্রস্তুতি, মানসম্মত পিএল (পোস্ট লার্ভা) নির্বাচন ও মজুত, খাদ্য প্রয়োগ, পানির গুণগত মান নিয়ন্ত্রণ এবং উৎপাদন বৃদ্ধির কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি রোগের কারণ শনাক্ত না করে ওষুধ বা অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার না করার পরামর্শ দেন। রোগ প্রতিরোধ, জৈব নিরাপত্তা এবং প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ বা স্থানীয় মৎস্য কর্মকর্তার পরামর্শ গ্রহণের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে সততা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী রাফিউল ইসলাম জানান, তিনি গত তিন বছর ধরে এডভান্স এগ্রোটেক বাংলাদেশের পণ্য ব্যবহার করছেন। নিজের মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি প্রতিষ্ঠানটির পণ্যের কার্যকারিতা সম্পর্কে সন্তোষ প্রকাশ করেন। বিশেষ করে নতুন দানাদার প্রোবায়োটিক ‘অ্যাকুয়া প্রো-জি’ ব্যবহারে পুকুরের তলদেশের কালো কাদা ও দুর্গন্ধ কমানোর ইতিবাচক অভিজ্ঞতা তিনি উপস্থিত চাষিদের সঙ্গে ভাগ করে নেন।
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী চাষিরা তাঁদের বাস্তব অভিজ্ঞতা, সমস্যা ও বিভিন্ন প্রশ্ন তুলে ধরেন। আলোচকরা সেগুলোর উত্তর দিয়ে প্রয়োজনীয় কারিগরি পরামর্শ প্রদান করেন। সমাপনী বক্তব্যে চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান সবাইকে ধন্যবাদ জানান।
প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে এডভান্স এগ্রোটেক বাংলাদেশের মাছ চাষ বিষয়ক বই ও টি-শার্ট বিতরণ করা হয়। স্থানীয় অংশ গ্রহণ কারীরা এ ধরনের উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে আরও বেশি চাষির অংশগ্রহণে নিয়মিত প্রশিক্ষণ আয়োজনের আহ্বান জানান। তাঁদের মতে, এ ধরনের কর্মসূচি আধুনিক ও লাভজনক চাষপদ্ধতি সম্পর্কে বাস্তব জ্ঞান অর্জনে সহায়ক হবে।