এগ্রিলাইফ প্রতিনিধি: রোগ কমানো, উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপদ মাছ উৎপাদনে বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন মৎস্য বিশেষজ্ঞরা। গতকাল ২০ সেপ্টেম্বর (রবিবার), শেরপুরের নকলা বাইপাস এলাকার গ্রাম বাংলা হোটেলে Advance Agrotech Bangladesh আয়োজিত মৎস্যচাষি প্রশিক্ষণ কর্মশালায় এ পরামর্শ দেওয়া হয়। কর্মশালায় এলাকার অর্ধশতাধিক ছোট-বড় মৎস্যচাষি অংশ নেন।
গৌড়দ্বার উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর মাস্টারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নকলায় বাণিজ্যিকভাবে পাঙ্গাশ চাষের পথিকৃৎ হাজী মো. নুরুল আমিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন উজ্জ্বল এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী।
প্রধান বক্তা Advance Agrotech Bangladesh-এর Head of Technical, Marketing & Sales কৃষিবিদ রেজাউল হক বলেন, মাছ চাষে শুধু খাবার ও ওষুধের ওপর নির্ভর করলে হবে না; পানি, খাদ্য, মাছের স্বাস্থ্য ও পুকুরের পরিবেশ—সবকিছুর সমন্বিত ব্যবস্থাপনাই সফল চাষের মূল চাবিকাঠি।
তিনি বলেন, রোগ হওয়ার পর চিকিৎসার চেয়ে রোগ প্রতিরোধ বেশি কার্যকর ও সাশ্রয়ী। তাই মানসম্মত পোনা, সঠিক মজুদ ঘনত্ব, সুষম খাদ্য এবং নিয়মিত DO, pH, অ্যামোনিয়া ও তাপমাত্রা পর্যবেক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। অপ্রয়োজনীয় অ্যাকুয়া মেডিসিন ব্যবহার না করে সমস্যার কারণ শনাক্ত করে সঠিক পণ্য, সঠিক মাত্রা ও সঠিক সময়ে প্রয়োগের পরামর্শ দেন তিনি।
সহকারী বক্তা Mymensingh Region Sales & Technical Manager রাহুল রায় বলেন, মাছের খাবার কমে যাওয়া, অস্বাভাবিক সাঁতার, পানির ওপর ভেসে থাকা, শরীরে ক্ষত বা পরজীবীর উপস্থিতি—এসব রোগের প্রাথমিক সংকেত হতে পারে। এসব লক্ষণ দেখা দিলে আগে পানির গুণগত মান পরীক্ষা করে সমস্যার কারণ চিহ্নিত করা জরুরি।
তিনি আরও বলেন, “রোগ দেখা দিলেই একসঙ্গে একাধিক পণ্য ব্যবহার না করে সমস্যার ধরন বুঝে ব্যবস্থা নিতে হবে।” পুকুরের পানি ভালো রাখা, অতিরিক্ত খাদ্য এড়িয়ে চলা এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে অনেক সমস্যা শুরুতেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
কর্মশালায় চাষিরা তাঁদের খামারের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরলে প্রশিক্ষকেরা সেগুলো নিয়ে আলোচনা করেন এবং প্রয়োজনীয় কারিগরি পরামর্শ দেন। আয়োজকরা জানান, মাঠপর্যায়ে আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক মাছ চাষের জ্ঞান ছড়িয়ে দিতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।