এগ্রিলাইফ২৪ ডটকম:ময়মনসিংহের ত্রিশাল ও ভালুকা এলাকায় পাঙ্গাস মাছের আকস্মিক মৃত্যুহার কমাতে গবেষণা ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জনের দাবি করেছেন পুষ্টিবিদ সাইফি নাসির। তাঁর দাবি, ২০২৪ সাল থেকে পরিচালিত গবেষণা ও মাঠপর্যায়ের পর্যবেক্ষণের ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালে এসে পর্যবেক্ষণাধীন পাঙ্গাস খামারগুলোতে মাছের মৃত্যুহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২৪, ২০২৫ ও ২০২৬ সালে ত্রিশাল ও ভালুকা অঞ্চলের বিভিন্ন পাঙ্গাস খামারে বিশেষ করে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাসে মাছের আকস্মিক মৃত্যুর সমস্যা দেখা দেয়। এ সময়ে আবহাওয়া ও পানির তাপমাত্রার ওঠানামাসহ বিভিন্ন পরিবেশগত কারণে খামারিরা বড় আকারের পাঙ্গাস মাছের আকস্মিক মৃত্যুর মুখে পড়েন। অনেক ক্ষেত্রে পরিস্থিতি বুঝে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আগেই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মাছ মারা যায়, যার ফলে খামারিরা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হন।
এ সমস্যা মোকাবিলায় ২০২৪ সাল থেকে ত্রিশাল এলাকার বেশ কয়েকটি পাঙ্গাস চাষ প্রকল্পে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কার্যক্রম শুরু করেন পুষ্টিবিদ সাইফি নাসির। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহ, মাছের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং গবেষণার অংশ হিসেবে Kluyveromyces marxianus প্রজাতির ইস্টভিত্তিক পোস্টবায়োটিক (Postbiotic) ব্যবহার করা হয়। এই কার্যক্রমের মাধ্যমে ২০২৬ সালে পর্যবেক্ষণাধীন খামারগুলোতে মাছের মৃত্যুহার কমানোর ক্ষেত্রে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে বলে তিনি জানান।
সাইফি নাসিরের দাবি, গত দুই বছরের তুলনায় গবেষণা ও পর্যবেক্ষণের আওতাভুক্ত খামারগুলোতে মৃত্যুহার অনেকাংশে কমেছে এবং খামারিরা তুলনামূলক ভালো উৎপাদন ফলাফল পেয়েছেন। তবে এ সাফল্যের পরিমাণ ও পোস্টবায়োটিকের কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে বিস্তারিত পরিসংখ্যান, নিয়ন্ত্রিত পরীক্ষা এবং স্বাধীন বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন প্রয়োজন।
তিনি জানান, পাঙ্গাস মাছের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও আকস্মিক মৃত্যুর ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতে কৈ, তেলাপিয়া এবং অন্যান্য চাষযোগ্য মাছের রোগপ্রতিরোধ ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে গবেষণা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
মৎস্য চাষে আবহাওয়া ও তাপমাত্রার পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবিলা, মাছের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং খামারিদের উৎপাদন ক্ষতি কমাতে এ ধরনের গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। গবেষণার ফলাফল আরও বিস্তৃতভাবে যাচাই ও প্রকাশ করা গেলে দেশের মৎস্য খাতে এর সম্ভাব্য প্রয়োগ সম্পর্কে কার্যকর ধারণা পাওয়া যাবে ।