
ইসলামিক নিউজ ডেস্ক:মানুষের স্বভাবগত দুর্বলতা হলো সে সহজেই তার রবের নেয়ামতসমূহ ভুলে যায়। পবিত্র কুরআনের সূরা আল-আদিয়াতের ৬ষ্ঠ থেকে ১১তম আয়াতে আল্লাহ তাআলা মানবজাতির এই গভীর ত্রুটির দিকে ইশারা করেছেন। আয়াতগুলোর অর্থ ও ব্যাখ্যা নিম্নে উপস্থাপন করা হলো—
আয়াতসমূহের অর্থ ও ব্যাখ্যা:
৬নং আয়াত: “নিশ্চয়ই মানুষ তার রবের প্রতি বড়ই অকৃতজ্ঞ।”
তাফসীরকারকগণ বলেন, এখানে ‘মানুষ’ বলতে সাধারণ মানবজাতিকে বোঝানো হয়েছে, যারা সুখ-সম্পদ পেলে আল্লাহকে ভুলে যায় এবং বিপদে পড়লে ফিরে আসে। অথচ প্রতিটি নিঃশ্বাস, খাদ্য, নিরাপত্তা সবই তাঁর দান।
৭নং আয়াত: “আর নিশ্চয়ই সে ওই বিষয়ে সাক্ষী।”
অর্থাৎ, মানুষ নিজের অকৃতজ্ঞতা সম্পর্কে নিজেই সচেতন। তার বিবেক ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সাক্ষ্য দেবে যে সে জেনেশুনে কৃতজ্ঞতা থেকে মুখ ফিরিয়েছে।
৮নং আয়াত: “আর নিশ্চয়ই সে ধন-সম্পদের ভালোবাসায় অত্যন্ত কঠিন।”
এখানে ‘কঠিন’ অর্থ প্রবল আসক্ত। মানুষ মাল-দৌলতের প্রতি এতটাই মাতোয়ারা যে তার কারণে হালাল-হারামের পার্থক্য ভুলে যায়, আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করে, এমনকি আল্লাহর হকও আদায় করে না।
৯নং আয়াত: “তবে কি সে জানে না যখন কবরে যা আছে তা উঠানো হবে?”
মৃত্যুর পর কবরে মানুষের আমল, ঈমান বা কুফরের ফল বের করা হবে। কেয়ামতের প্রাক্কালে কবর থেকে পুনরুত্থান অনিবার্য।
১০নং আয়াত: “আর মানুষের অন্তরে যা আছে তা প্রকাশ করা হবে।”
সেদিন লুকানো গোপন ইচ্ছা, কপটতা, হিংসা-বিদ্বেষ সবই ফাঁস হয়ে যাবে। দুনিয়ার ধন-সম্পদের আসক্তি যাদের অন্তরে ছিল, তা তাদের জন্য লজ্জার কারণ হবে।
১১নং আয়াত: “নিশ্চয়ই সেদিন তাদের রব তাদের সম্পর্কে সবকিছু ভালো করেই জানেন।”
অর্থাৎ, কেয়ামতের দিন আল্লাহ তাদের বাহ্যিক ও আভ্যন্তরীণ সব অবস্থাই পুরোপুরি অবগত হয়ে যথাযোগ্য প্রতিফল দেবেন। কেউ সামান্য অণু পরিমাণ ভালো বা মন্দ কাজ করলেও তার হিসাব দিতে হবে।
এই আয়াতগুলো আমাদের সতর্ক করে যে
১) কৃতজ্ঞতাকে অভ্যাসে পরিণত করতে হবে। প্রতিটি নেয়ামতের জন্য “আলহামদুলিল্লাহ” বলা শুধু মুখের কথা নয়, বরং সেই নেয়ামত আল্লাহর পথে ব্যবহার করাই প্রকৃত কৃতজ্ঞতা।
২) ধন-সম্পদের মোহ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। সম্পদ যদি অহংকার, অপচয় ও অধিকারের লঙ্ঘনের কারণ হয়, তবে তা ধ্বংসের উপকরণ।
৩) পরকালীন প্রস্তুতি জরুরি। কবর, পুনরুত্থান ও তারপর চিরস্থায়ী জীবন—এই বাস্তবতা সামনে রেখে দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী মায়া পরিত্যাগ করতে হবে।
৪) অন্তরকে পরিশুদ্ধ করতে হবে। আল্লাহ যা জানেন সেদিন তা প্রকাশ পাবে; তাই আমরা গোপনে যা করি, তাও যেন হয় সৎ ও আন্তরিক।
আমরা যেন দুনিয়ার ভোগ-বিলাসে বিভ্রান্ত না হয়ে মহান রাব্বুল আলামিনের প্রতি সদা কৃতজ্ঞ থাকি এটাই এই আয়াতসমূহের শিক্ষা। আসুন, আজ থেকেই নিজের জীবনকে পর্যালোচনা করি: আমি কি আমার রবের প্রতি কৃতজ্ঞ? নাকি ধন-সম্পদের এমন আসক্তিতে পড়েছি যা আমাকে অকৃতজ্ঞ বানিয়েছে?
দোয়া: হে আল্লাহ! আপনি আমাদের ইহকাল ও পরকাল উভয় স্থানেই আপনার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকার তাওফিক দান করুন। আমাদের দুনিয়ার মোহ থেকে বাঁচিয়ে কবর ও কেয়ামতের ভয়াবহতা থেকে নিরাপদ রাখুন। আমিন।