
বাকৃবি প্রতিনিধি: গবাদিপশুর লাম্পি স্কিন ডিজিজ (এলএসডি) প্রতিরোধ ও চিকিৎসার জন্য প্রস্তুত করা একটি পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা নির্দেশনা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের (ডিএলএস) কাছে হস্তান্তর করেছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) প্যাথলজি বিভাগ। আজ বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন "ইনভেস্টিগেশন অব লাম্পি স্কিন ডিজিজ (এলএসডি) অ্যাফেক্টেড হার্ডস অ্যান্ড ফরম্যুলেশনস অব কন্ট্রোল স্ট্র্যাটেজিস" প্রকল্পের প্রধান গবেষক বাকৃবির প্যাথলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. রোখসানা পারভীন। ওই প্রকল্প থেকেই চিকিৎসা নির্দেশনা তৈরি করা হয়েছে বলে জানান অধ্যাপক ড. রোখসানা পারভীন। তিনি প্রকল্পের লক্ষ্য ও অর্জন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার পাশাপাশি এলএসডি প্রতিকার ও প্রতিরোধে গৃহীত কৌশলসমূহ তুলে ধরেন।
ড. রোখসানা পারভীন বলেন, গতকাল মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই নির্দেশনাটি প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মাঠপর্যায়ে এসব নির্দেশনা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে এলএসডি নিয়ন্ত্রণে টেকসই সমাধান নিশ্চিত হবে এবং গবাদিপশু খাতে অর্থনৈতিক ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে বলে আমরা আশাবাদী।
এ বিষয়ে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবু সুফিয়ান জানান, দেশে ছয় বছরেরও বেশি সময় ধরে এলএসডি রোগটি বিদ্যমান। শুরুতে গবেষণার ক্ষেত্রে কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও বর্তমানে এ রোগ নিয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য পরিবর্তনের কারণে আক্রান্ত পশুর মৃত্যুহার বেড়ে যাওয়ায় রোগটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
তিনি আরও বলেন, মহাখালীর প্রাণিসম্পদ গবেষণা প্রতিষ্ঠান (এলআরআই) টিকা উৎপাদনের মাধ্যমে এলএসডি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। তবে বর্তমান উৎপাদন সক্ষমতা মাঠপর্যায়ের মোট চাহিদার তুলনায় এখনও অপর্যাপ্ত।
ড. আবু সুফিয়ান জানান, যেহেতু এলএসডি একটি ভাইরাসজনিত রোগ, তাই প্রতিরোধের পাশাপাশি আক্রান্ত পশুর যথাযথ চিকিৎসা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য একটি বাস্তবসম্মত ও সুস্পষ্ট চিকিৎসা নির্দেশনার প্রয়োজন ছিল। বাকৃবি প্যাথলজি বিভাগের প্রণীত নতুন এই নির্দেশনাটি প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের বিদ্যমান গাইডলাইনকে আরও কার্যকর, সমৃদ্ধ ও সময়োপযোগী করে তুলবে বলে তিনি মনে করেন।