
এগ্রিলাইফ২৪ ডটকমঃ মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, বাংলাদেশ একটি তরুণদের দেশ। দেশের উন্নয়ন ও আত্মনির্ভরতার জন্য ডেইরি ইন্ডাস্ট্রিতে তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে। এ খাতে উদ্যোগ বাড়াতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেবে। তিনি বলেন, আমরা একটি সংগ্রামী জাতি দেশের উন্নয়নের জন্য এই সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে হবে।
শনিবার সকালে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহা এ কে এগ্রো এন্ড ডেইরি হাব সংলগ্ন মাঠে অনুষ্ঠিত “চট্টগ্রাম অঞ্চলে ডেইরি খাতের উন্নয়ন: সম্ভাবনা ও করণীয়” শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রেড চিটাগাং ক্যাটল (আরসিসি)-এর গুরুত্ব তুলে ধরে ফরিদা আখতার বলেন, চট্টগ্রাম লাল গরুর দেশ। দুধ উৎপাদন তুলনামূলক কম হলেও মাংস উৎপাদন ও জাতগত বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে রেড চিটাগাং ক্যাটলের তুলনা পৃথিবীর কোথাও নেই। তাই এই দেশীয় জাত সংরক্ষণ করা আমাদের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ প্রতিবছর প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে গুঁড়া দুধ আমদানি করে। এই অর্থ যদি দেশীয় দুধ উৎপাদন বাড়াতে ব্যয় করা যায়, তাহলে আমদানির প্রয়োজন কমবে। গুঁড়া দুধ ব্যবহারের ফলে তরল দুধে ভেজালের ঝুঁকিও বাড়ছে। তাই আমদানি কমিয়ে দেশীয় তরল দুধের উৎপাদন বাড়ানোর জন্য সবাইকে শপথ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বিদ্যুৎ বিল ও ভর্তুকি প্রসঙ্গে উপদেষ্টা জানান, ব্যাপক আলোচনা ও প্রচেষ্টার পর মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ বিল রেয়াত এবং ১০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়া সম্ভব হয়েছে। এটি একটি প্রাথমিক উদ্যোগ হলেও ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী এ সহায়তা আরও বাড়ানোর চেষ্টা করা হবে।
খামারি নিবন্ধনের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, নিবন্ধন ছাড়া প্রকৃত চিত্র জানা সম্ভব নয়। অনলাইনে নিবন্ধনের মাধ্যমে সব তথ্য এক জায়গায় পাওয়া যাবে, যা নীতিনির্ধারণকে আরও সহজ ও কার্যকর করবে।
প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্প (এলডিডিপি) প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, এ প্রকল্পের মাধ্যমে খামারিরা প্রশিক্ষণ পেয়েছেন, পিজি গ্রুপ গড়ে উঠেছে এবং ডেইরি কার্যক্রম অনেকের জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে। অনেকেই লাভ-ক্ষতির হিসাব না করেই এ খাতকে জীবনের অংশ হিসেবে নিয়েছেন, যা ভবিষ্যতে টেকসই জীবিকার ভিত্তি গড়ে তুলবে।
নারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দুধ শুধু উৎপাদনের পরিসংখ্যান নয় মানুষ কতটা দুধ গ্রহণ করছে সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্কদের জন্য দুধ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়, যা হাড়ের রোগ ও অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধে সহায়ক। এলডিডিপির আওতায় স্কুল ফিডিং প্রোগ্রামের সাফল্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্কুলে দুধ সরবরাহ শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের মেধা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে, যা দরিদ্র ও শহুরে শিশুদের জন্য একটি কার্যকর উদ্যোগ।
সেমিনারে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মোঃ আবু সুফিয়ানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ডেইরি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক মিজ শাহীনা ফেরদৌসী, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (কৃত্রিম প্রজনন) মোঃ শাহজামান খান তুহিন, পরিচালক (সম্প্রসারণ) ডা. বেগম শামছুননাহার, চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (পরিচালক) ডা. মোঃ আতিয়ার রহমান এবং এ কে এগ্রো এন্ড ডেইরি ফার্মের পরিচালক মোহাম্মদ ইকবাল হোসেইন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোঃ বয়জার রহমান। এছাড়া এলডিডিপির আওতায় “ডেইরি হাব কার্যক্রম: বাস্তবায়ন, অগ্রগতি ও সম্ভাবনা” শীর্ষক উপস্থাপনা ও ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করেন প্রকল্প পরিচালক ডা. মোঃ মোস্তফা কামাল।
সেমিনারে বাংলাদেশ ডেইরি এন্ড ফ্যাটেনিং ফার্মারস এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান ভুট্টো, সিনিয়র সহ-সভাপতি মালিক মোঃ ওমর, সহ-সভাপতি মোঃ নুরুল হুদা, সহ-সভাপতি আনোয়ার উল্লাহ পাভেল, সহ সাধারণ সম্পাদক মোঃ কাউসার শাহ্, আন্তর্জাতিক সম্পাদক মোঃ আলমগীর চৌধুরী, সহ প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক মোঃ আব্দুল মান্নান, বাজার মনিটরিং সম্পাদক মোঃ জাকারিয়া, সমবায় বিষয়ক সম্পাদক মোঃ নুর, বিভাগীয় সমবায় বিষয়ক সম্পাদক সালে জহুর, ক্রীড়া সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, সদস্য শাতিল রহমান ও রাসেলসহ স্থানীয় প্রায় সহস্রাধিক খামারি উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান শেষে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবানি দিয়ে অতিথিদের আপ্যায়ন করা হয়। এর আয়োজন করেন বাংলাদেশ ডেইরি এন্ড ফ্যাটেনিং ফার্মারস এসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ ইকবাল হোসেইন।