নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন সকলের সম্মিলিত দায়িত্ব-সিকৃবি ভিসি

Category: ফোকাস Written by Shafiul Azam

এগ্রিলাইফ২৪ ডটকম: সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিকৃবি) ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ আলিমুল ইসলাম বলেছেন, আমাদেরকে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে। মানুষের বেঁচে থাকার জন্য খাদ্য নিরাপত্তার পাশাপাশি নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি করার কোন বিকল্প নেই। আর এজন্য রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার কমিয়ে জৈব চাষ, আইপিএম কৌশল প্রয়োগ এবং ফেরোমন ট্রাপের মতো পরিবেশ বান্ধব নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের উপর জোর দিতে হবে। কৃষি ও খাদ্য উৎপাদন থেকে শুরু করে বিপণন পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে অধুনিক ব্যবস্থাপনা, স্বচ্ছতা এবং ভেজালমুক্ত কার্যক্রম নিশ্চিত করে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা করতে হবে।

এসময় তিনি বলেন, “নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা শুধু সরকারের একক দায়িত্ব নয়; এটি শিক্ষক, গবেষক, কৃষক, উৎপাদক ও ভোক্তা সবার সম্মিলিত দায়িত্ব। নিরাপদ খাদ্য মানে কেবল বিষমুক্ত খাদ্য নয়, বরং এটি জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত।

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে মৎস্য অনুষদের কনফারেন্স রুমে দেশীয় ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়াল বায়োএজেন্ট ব্যবহার করে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বায়োপেস্টিসাইড ফর্মুলেশন উন্নয়ন বিষয়ক ওয়ার্কশপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

৩১ জানুয়ারি (শনিবার)“ডেভেলপমেন্ট অব হাই-পারফরম্যান্স বায়ো-পেস্টিসাইডস ফর্মুলেশন ইউটিলাইজিং নেটিভ ফাঙ্গাল অ্যান্ড ব্যাকটেরিয়াল বায়োএজেন্টস” শীর্ষক এই কর্মশালাটি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা ও উদ্ভাবন কেন্দ্র (বাউ-রিক) এর উদ্যোগে এবং ওয়ার্ল্ড ব্যাংক এবং এজ এর সহায়তায় আয়োজন করা হয়।

বাউ-রিক এর প্রধান সমন্বয়কারী প্রফেসর ড. মোঃ আবদুল আউয়ালের সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিকৃবি’র ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ আলিমুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান, সিকৃবি’র ট্রেজারার প্রফেসর ড. এ. টি. এম. মাহবুব-ই-ইলাহী, বাংলাদেশ টি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পরিচালক ড. মোঃ ইসমাইল হোসেন।

অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সামিউল আহসান তালুকদার, অর্থ ও হিসাব দপ্তরের পরিচালক প্রফেসর ড. মোঃ রুহুল আমিন, জনসংযোগ ও প্রকাশনা দপ্তরের পরিচালক কৃষিবিদ খসরু মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন, প্রক্টর প্রফেসর ড. মোঃ জসিম উদ্দিন আহাম্মদ, রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. মোঃ আসাদ-উদ-দৌলা প্রমুখ।

কর্মশালার মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রকল্পের প্রধান গবেষক ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগের প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শাহজাহান মঞ্জিল।
কর্মশালায় বক্তারা বলেন, দেশে প্রতিবছর ৫০ লক্ষ মে.টন রাসায়নিক সার ব্যবহার করা হয়। ইউরিয়া সারে শতকরা ৪৬ ভাগ নাইট্রোজেন এবং টিএসপি সারে শতকরা ২১ ভাগ ফসফরাস থাকার নিয়ম থাকলেও তা থাকেনা, অন্যদিকে রাসায়নিক সারে প্রচুর পরিমাণে ভারী ধাতু সীসা, ক্রোমিয়াম, ক্যাডমিয়াম থাকায় খাদ্য শিকলের মাধ্যমে তা অনবরত মানব দেহে প্রবেশ করছে। যার ফলে মানুষ অনায়াশেই বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এই সকল সমস্যা থেকে রক্ষা পেতে হলে রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমিয়ে বায়োপেস্টিসাইডের ব্যবহার বাড়াতে হবে।