
এগ্রিলাইফ২৪ ডটকম: উৎপাদক থেকে ভোক্তা সব পর্যায়ে চাই সচেতনতা। কৃষকের মাঠ থেকে খাবার টেবিলে পর্যন্ত আসার প্রতিটি সময় সচেতনতা জরুরী। কৃষক এবং ভোক্তা পর্যায়ে এই সচেতনতা তৈরী করতে কৃষি তথ্য সার্ভিসের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করতে হবে।
আজ সোমবার (২ ফেব্রুয়ারী) রাজধানীর খামারবাড়িস্থ কৃষি তথ্য সার্ভিসের কনফারেন্স রুমে কৃষি তথ্য সার্ভিসের আঞ্চলিক কার্যালয় ঢাকা কর্তৃক আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের পিপিসি অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ডঃ মোঃ মাহমুদুর রহমান। তিনি আরও বলেন কৃষি ভিত্তিক টেলিভিশন চালু করা এখন সময়ের দাবি। এর মাধ্যমে সকল পর্যায়ের কৃষকেরা কৃষির তথ্য সেবার আওতায় আসবে। তিনি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সাথে এআইএসকে যৌথভাবে কাজ করার পরামর্শ প্রদান করেন। সকল কৃষি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা কর্মচারীদের কৃষিকথার গ্রাহক হওয়ার আহবান জানান তিনি।
নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে কৃষি তথ্য সার্ভিসের করণীয় শীর্ষক সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আবু নোমান ফারুক আহমেদ, অধ্যাপক,উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগ, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। মূল প্রবন্ধের উপর আলোচনা করেন ডঃমোঃ জাকির হোসেন,পরিচালক, কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তর ঢাকা অঞ্চল ও মোহাম্মদ সফিউজ্জামান, মূখ্য প্রশিক্ষক, কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট, ঢাকা।
বিশেষ অতিথি দিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোঃওবায়দুর রহমান মন্ডল, পরিচালক, সরেজমিন উইং, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর,খামারবাড়ি, ঢাকা। বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতের ধাপ হিসেবে জৈব বালাইনাশক ব্যবহার জনপ্রিয় করতে হবে। কৃষকদের মাঝে সঠিক সময়ের তথ্য মোবাইলে এসএমএস এর মাধ্যমে দেয়া, গ্রাম পর্যায়ে বিভিন্ন ব্লগারদের সাথে একত্রিত হয়ে তাদের মাধ্যমে তথ্য সেবা পৌছানো, রাসায়নিক সার ব্যবহারের ক্ষেত্রে ছোট ছোট রিলসের মাধ্যমে সচেতনতা তৈরী, ফুড সেফটির জন্য ই লার্নিং ব্যবহার করাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে এসময় আলোচনা করা হয়। এ সময় বক্তারা বলেন দায়িত্বশীল কৃষিই হতে পারে স্থায়িত্বশীল কৃষি।
কৃষি তথ্য সার্ভিসের পরিচালক মোঃ মসীহুর রহমানের সভাপতিত্বে আয়োজিত উক্ত সেমিনারে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনস্ত দপ্তরসংস্থার প্রতিনিধি , কৃষক প্রতিনিধি, সাংবাদিক প্রতিনিধি, ছাত্র প্রতিনিধি সহ ৫০ জন অংশগ্রহনকারী অংশ নিয়েছে।
সেমিনার শেষে কৃষিকথা ম্যাগাজিনে গ্রাহকসংখ্যা বৃদ্ধিতে অবদান রাখায় ঢাকা অঞ্চলের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দশ জন কর্মকর্তাকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। আঞ্চলিক কৃষি তথ্য অফিসার সাবরিনা আফরোজ জানান কৃষি তথ্য সার্ভিসের গৌরবময় পথচলার অংশীদার কৃষিকথা। সুদীর্ঘকাল থেকে মাসিক এ কৃষি ম্যাগাজিনটি কৃষক-কৃষানী, সম্প্রসারণকর্মী, ছাত্রছাত্রী সহ আপামর কৃষিজীবীদের কৃষি তথ্য চাহিদা পুরনে সচেষ্ট আছে। ১৪৩২ বঙ্গাব্দে সর্বোচ্চ গ্রাহক সংগ্রহ ও মাঠ পর্যায়ে কৃষি তথ্য সেবা পৌছে দেবার কাজে সহায়তা করার জন্য কৃষি তথ্য সার্ভিসের পক্ষ থেকে সম্মাননা প্রদান করা হচ্ছে।
এবারের সম্মাননা প্রাপ্ত ব্যক্তিগণ হলেন মোঃ ওবায়দুল ইসলাম খান অপু, উপজেলা কৃষি অফিসার, মিঠামইন, কিশোরগঞ্জ, অভিজিত সরকার, উপজেলা কৃষি অফিসার, অষ্টগ্রাম, কিশোরগঞ্জ, ফারজানা তাসলিম, সিনিয়র সহকারী পরিচালক, নাটা এবং সাবেক উপজেলা কৃষি অফিসার, কালীগঞ্জ, গাজীপুর,মোঃ আব্দুস সামাদ, উপজেলা কৃষি অফিসার, নিকলী, কিশোরগঞ্জ,সুমাইয়া সুলতানা বন্যা, উপজেলা কৃষি অফিসার, শ্রীপুর, গাজীপুর,নূর ই আলম, উপজেলা কৃষি অফিসার,পাকুন্দিয়া কিশোরগঞ্জ ,আশরাফুল আলম, উপজেলা কৃষি অফিসার, বাজিতপুর, কিশোরগঞ্জ, জয়নুল আলম তালুকদার,উপজেলা কৃষি অফিসার, সদর, কিশোরগঞ্জ, মোঃ আরিফুর রহমান, উপজেলা কৃষি অফিসার, ধামরাই,ঢাকা এবং ডঃ মোঃ সাদিকুর রহমান, উপপরিচালক, কিশোরগঞ্জ।