বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমি আয়োজিত ৬ষ্ঠ ইয়ং সায়েন্টিস্ট কংগ্রেস সম্পন্ন: এআই বিপ্লবে তরুণদের ক্ষমতায়নের নতুন দিগন্ত

Category: ফোকাস Written by Shafiul Azam

এগ্রিলাইফ২৪ ডটকম:‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের জন্য তরুণ বিজ্ঞানী’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমি (বিএএস) আয়োজিত দুই দিনব্যাপী (৪-৫ এপ্রিল) ‘৬ষ্ঠ ইয়ং সায়েন্টিস্ট কংগ্রেস ২০২৬’ (YSC) আজ রাজধানীতে অত্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তরুণ বিজ্ঞানীদের বিশ্বসেরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির সাথে পরিচিত করা এবং জাতীয় উন্নয়নে এর উদ্ভাবনী প্রয়োগে উদ্বুদ্ধ করাই ছিল এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন একাডেমির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক ড. জেড এন তাহমিদা বেগম। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী জনাব ফকির মাহবুব আনাম, এমপি এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন একাডেমির সম্পাদক অধ্যাপক ইয়ারুল কবির। দেশ-বিদেশের প্রায় ৪০০-এরও বেশি গবেষক ও শিক্ষার্থী এই সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন।

সম্মেলনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল যুক্তরাষ্ট্রের রচেস্টার ইউনিভার্সিটির খ্যাতনামা গবেষক অধ্যাপক ড. এহসান হকের থিম লেকচার। "An Unconventional Path Through AI and Why Discipline Beats Talent" শীর্ষক এই বক্তৃতায় তিনি স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে এআই-এর ব্যবহারের মাধ্যমে তরুণদের বৈশ্বিক নেতৃত্বে আসার আহ্বান জানান। বিশেষ সেশনে অস্ট্রেলিয়ার চার্লস স্টার্ট ইউনিভার্সিটির বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী মণি তাঁর অক্সফোর্ড ও কেমব্রিজের গবেষণালব্ধ অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি উপজেলা পর্যায়ে হার্ট অ্যাটাক শনাক্তে সাশ্রয়ী ডিভাইস এবং স্মার্ট হেলথ কার্ড ও প্রিসিশন এগ্রিকালচারে এআই-এর ভূমিকা নিয়ে আলোকপাত করেন। এ ছাড়াও বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী এবং বিএএস ফেলো অধ্যাপক তোফাজ্জল ইসলাম তাঁর গবেষণা দলের মাধ্যমে আলফাফোল্ড-৩ (AlphaFold 3) ও মেশিন লার্নিং ব্যবহার করে ব্লাস্ট-প্রতিরোধী গম উদ্ভাবন, কাঁঠালের জিনোম ডিকোডিং, বাংলাদেশের মাটির মাইক্রোবায়োম ম্যাপিং এবং জিনোম এডিটিংয়ের মাধ্যমে জলবায়ু-সহনশীল ধানের জাত উদ্ভাবন বিষয়ে তাঁদের যুগান্তকারী অভিজ্ঞতা ও সাফল্য তুলে ধরেন।

দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনে জীববিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞান, গণিত এবং ফার্মাসিউটিক্যাল সায়েন্সের তরুণ গবেষকরা প্রায় ৩০০টি মৌখিক ও পোস্টার প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন। উল্লেখযোগ্য সেশনের মধ্যে ছিল ইউআইইউ-এর অধ্যাপক হাসান সারওয়ারের "হিউম্যান বনাম এআই", বুয়েটের অধ্যাপক ড. তানজিমা হাশেমের "ট্রান্সলেশনাল এআই" এবং বৈজ্ঞানিক প্রকাশনার নৈতিকতা বিষয়ক বিশেষ সেমিনার।

আজ এক জমকালো পুরস্কার বিতরণী ও সমাপনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই কংগ্রেসের পর্দা নামে। সমাপনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি ছিলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব জনাব মো. আনোয়ার হোসেন। কংগ্রেসের আহ্বায়ক অধ্যাপক মেজর জেনারেল (অব.) এ এস এম মতিউর রহমান এবং সদস্য সচিব অধ্যাপক লিয়াকত আলী আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য দ্রুত একটি ‘জাতীয় এআই ইনস্টিটিউট’ প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব তুলে ধরেন। এই আয়োজনটি উদীয়মান প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে একটি শক্তিশালী বিজ্ঞানমনস্ক জাতি গঠনে বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমির অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন।