“TEA” প্রযুক্তিতে ফিশ ফিডে বিপ্লবঃ কম খরচে বেশি উৎপাদনের নতুন সূত্র

Category: এগ্রিবিজ এন্ড টেক্ Written by Shafiul Azam

এগ্রিলাইফ প্রতিবেদক: মাছের খাদ্য ব্যবস্থাপনায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে “Trace Elements Adjusted (TEA)” বা ট্রেস উপাদান সামঞ্জস্য পদ্ধতি চালুর এখনই উপযুক্ত সময় বলে মনে করেন পুষ্টিবিদ সাইফি নাসির। আধুনিক অ্যাকোয়াকালচারে মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টের সঠিক ভারসাম্য নিশ্চিত করে মাছ ও চিংড়ির বিপাকীয় কার্যক্রম, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং সামগ্রিক উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে এই ধারণাটি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

তিনি জানান, TEA পদ্ধতিতে প্রচলিত ফিড ফর্মুলেশনের বাইরে গিয়ে জিংক, আয়রন, কপার, ম্যাঙ্গানিজ ও সেলেনিয়ামের মতো অপরিহার্য ট্রেস উপাদানগুলোকে বিজ্ঞানভিত্তিকভাবে সমন্বয় করা হয়। এর ফলে মাছের বৃদ্ধি দ্রুত হয়, খাদ্য দক্ষতা বৃদ্ধি পায় এবং বর্জ্য উৎপাদন কমে যা সরাসরি চাষির লাভজনকতা বাড়াতে সহায়ক। একই সঙ্গে এটি অ্যান্টিবায়োটিক নির্ভরতা কমিয়ে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই মাছ চাষ নিশ্চিত করতে পারে।

তিনি বলেন, "TEA" পদ্ধতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার। ধাতু-ভিত্তিক ন্যানোপার্টিকেল যেমন জিঙ্ক বা কপার পুষ্টি সরবরাহে সহায়ক ভূমিকা রাখে এবং অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এছাড়া গাঁজনকৃত (fermented) উপাদান ব্যবহার হজম ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং মাছের স্বাস্থ্য উন্নত করে।

পুষ্টিবিদ সাইফি নাসির সতর্ক করে বলেন, ট্রেস উপাদানের সঠিক মাত্রা নির্ধারণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত মাত্রায় ক্যাডমিয়াম, সীসা বা ক্রোমিয়ামের মতো উপাদান মাছের জন্য বিষাক্ত হতে পারে এবং পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে, অপরিহার্য উপাদান যেমন জিংক, আয়রন, ম্যাঙ্গানিজ ও কপার মাছের এনজাইম কার্যক্রম ও বিপাকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ফিশ ফিডে ট্রেস উপাদান সংযোজনের ক্ষেত্রে মাছের প্রজাতি, খাদ্যাভ্যাস, ব্যবহৃত কাঁচামাল এবং পানি ও মাটির গুণাগুণ বিবেচনা করা জরুরি। কারণ অতিরিক্ত বা ঘাটতি উভয় ক্ষেত্রেই মাছের বৃদ্ধি ব্যাহত হতে পারে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যেতে পারে।

সার্বিকভাবে, "TEA" পদ্ধতি মাছের স্বাস্থ্য, উৎপাদনশীলতা ও পরিবেশগত স্থায়িত্ব নিশ্চিত করার একটি আধুনিক ও কার্যকর কৌশল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করা গেলে এই পদ্ধতি দেশের মৎস্য খাতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে এবং পুষ্টিবিদ ও উদ্যোক্তাদের জন্য সৃষ্টি করতে পারে নতুন সম্ভাবনার ক্ষেত্র বলে আশা করেন পুষ্টিবিদ সাইফি নাসির।