
এগ্রিলাইফ প্রতিনিধি:ময়মনসিংহ বিভাগের নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার মাছ চাষিদের কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে “গুণগত খাদ্য পরিমিত পরিমাণ, মাছের বৃদ্ধি চাষির লাভ” প্রতিপাদ্যে এক দিনের মৎস্য প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। নারিশ ফিডের উদ্যোগে এবং US Grains and BioProducts Council (USGBC)–এর সহায়তায় এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
রবিবার (২৬ এপ্রিল) সকাল ১০টায় কেন্দুয়ায় আয়োজিত এই কর্মশালায় প্রায় ৭০ জন মৎস্যচাষি, ফিড ডিলার ও সংশ্লিষ্টরা অংশ নেন। এই প্রশিক্ষণ কর্মশালাটি দুটি সেশনে অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম সেশনে মাছের বৈজ্ঞানিক চাষ পদ্ধতি সর্ম্পকে তত্ত্বীয় জ্ঞান প্রদান করা হয় এবং দ্বিতীয় সেশনে ব্যবহারিক জ্ঞান প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে কেন্দুয়া উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তা খাদিজা খাতুন, নারিশ ফিডস লিমিটেডের সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং বিভাগের এভিপি মো. সামিউল আলিম, USGBC)–এর গ্লোবাল স্ট্যাটিসটিকস অ্যান্ড ট্রেডের ম্যানেজার মি. মার্ক সিভিয়ার, নারিশ ফিডস লিমিটেডের সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং বিভাগের জিএম এস এস এ হক, সেলস অ্যান্ড সার্ভিস সিনিয়র ডিজিএম ডা. মুহাম্মদ মুছা কালিমুল্লাহ, মৎস্য পরামর্শক কবির চৌধুরী ও অং থোয়েন এ (অন্তু), মৎস্যবিদ ও নারিশ ফিডস লিমিটেডের জুনিয়র এজিএম ওবাইদুল ইসলাম ও প্রশিক্ষক মাহি আলম সারোয়ার ও সহ প্রায় ৭০ জন খামারি।
প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্য ও আলোচনার মূল বিষয় নিয়ে আয়োজকরা জানান, আধুনিক অ্যাকুয়াকালচার প্রযুক্তি, পুকুর ব্যবস্থাপনা, সুষম খাদ্য প্রয়োগ ও রোগ নিয়ন্ত্রণের সর্বোত্তম পদ্ধতি সম্পর্কে চাষিদের সচেতন করাই এই কর্মশালার মূল লক্ষ্য।
মি. মার্ক সিভিয়ার বলেন, এ প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্য খামারিদের আধুনিক চাষাবাদ বিষয়ে সচেতন করা। আমরা আশাবাদী এই উদ্যোগ বাংলাদেশে মাছ উৎপাদন আরও বাড়াতে সহায়তা করবে।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা খাদিজা খাতুন বলেন, এই প্রশিক্ষণ কর্মশালাটি দারুণ। এই কর্মশালার মাধ্যমে খামারীরা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মাছ চাষ এবং মাছের রোগের কারণ ও প্রতিরোধ সর্ম্পকে জানতে পারছে। আমরাও খামারীদের যেকোনো প্রয়োজনে সাহায্য করতে প্রস্তুত আছি।
এভিপি মো. সামিউল আলিম বলেন, দেশে মাছের উৎপাদন বাড়াতে হলে বিজ্ঞানভিত্তিক মৎস্য চাষে চাষিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া জরুরি। পুকুরের পানির গুণমান এবং চাষের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করলেই সফলতা অর্জন সম্ভব।
এস এস এ হক বলেন, অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের কারণে দেশীয় মাছের বিদেশি বাজারে চাহিদা কমে যাচ্ছে এবং এটি জনস্বাস্থ্যের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ।
ডা. মুহাম্মদ মুছা কালিমুল্লাহ বলেন, আধুনিক বিজ্ঞান প্রচারে নারিশ ফিড নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে। খামারিদের সর্বোচ্চ লাভ নিশ্চিত করতে আমরা সর্বদা প্রস্তুত আছি ।
আলোচনায় আন্তর্জাতিক মৎস্য বিশেষজ্ঞরা বলেন, মাছ চাষের ক্ষেত্রে সঠিক পোনা ও পুষ্টিগুণসম্পন্ন খাবার নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভালো খাদ্য পানির গুণগত মান বজায় রাখে এবং অ্যামোনিয়ার উৎপাদন কমায়। নারিশ ফিড এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। পানি ও খাদ্যের সঠিক ব্যবস্থাপনা মাছের স্বাস্থ্য ও বৃদ্ধিকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে।

একজন মৎস্যচাষি বলেন, নারিশ ফিডের ঘ্রাণ, গুণমান ও রং অন্য সবার কোম্পানীর খাদ্য থেকে আলাদা। এই কারণে ব্র্যান্ডের প্রতি আমাদের আস্থা দীর্ঘদিনের।
মানষী ট্রেডার্সের স্বত্তাধিকারী বিলাশ চন্দ্র সরকার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নারিশ গ্রুপের খাদ্য বিক্রয় করছি। পুষ্টিগুণ ও মান ভালো হওয়ায় খামারিদের কাছে এর চাহিদা অনেক বেশি। একবার কোনো খামারি এই খাদ্য ব্যবহার করলে পরবর্তী সময়ে তার চাহিদা আরও বেড়ে যায়।
প্রশিক্ষণ কর্মশালার শেষে প্রশিক্ষণার্থীদের মূল্যায়নের জন্য কুইজের ব্যবস্থা করা হয়। এখানে খামারীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহন করেন।