
এগ্রিলাইফ২৪ ডটকম: গতকাল ১৪ জানুয়ারী (বুধবার) মুন্সীগঞ্জ জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, জেলার কীটনাশক বিক্রেতা ও কৃষকগণের অংশগ্রহণে জেলা ভিজিল্যান্স কমিটির সভা ২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর,মুন্সীগঞ্জ জেলার উপপরিচালক ডঃমোঃ হাবিবুর রহমান।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে ও জেলা পেস্টিসাইড অফিসার্স এসোসিয়েশনের সহযোগিতায় আয়োজিত উক্ত সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ,মুন্সীগঞ্জ এর অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্ভিদ সংরক্ষণ) নাহিদ কামাল। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন ডঃমোঃ আনোয়ারুল ইসলাম, অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য)।
সভায় উপস্থিত ছিলেন মোঃ তাজুল ইসলাম,জেলা প্রশিক্ষণ অফিসার, শান্তণা রানী, অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্যান)। এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন মুন্সীগঞ্জ জেলাস্থ সকল উপজেলা কৃষি অফিসারগণ, অতিরিক্ত কৃষি অফিসার,কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার, জেলাস্থ বিভিন্ন পেস্টিসাইড কোম্পানির অফিসারবৃন্দ ও বিভিন্ন কৃষক প্রতিনিধি বৃন্দ।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন কৃষকের স্বার্থ রক্ষা করে সকলকে কাজ করতে হবে। মৌসুমী কীটনাশক বিক্রেতা যাদের কোন লাইসেন্স নেই এবং অঅনুমোদিত ও গুণগত মানহীন পণ্য বিক্রয় করে কৃষকদের ক্ষতি সাধন করছে তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে।
তিনি আরও বলেন ভিন্ন ভিন্ন পেস্টিসাইড ভিন্ন ভিন্ন ফসলের জন্য ব্যবহৃত হয়। এক্ষেত্রে ক্রয় করার সময় কৃষকদের যাতে সঠিক ফসলের উপযুক্ত পেস্টিসাইড দেয়া হয় এবং একই সাথে মাত্রা সম্পর্কে সুষ্পষ্ট ধারণা দেয়া হয়। কৃষকরা যাতে কোনভাবেই ক্ষতিগ্রস্থ না হোন এ ব্যাপারে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাগণ তাদের বক্তব্যে বলেন, কীটনাশক বিক্রেতাদের একটি জৈব বালাইনাশক কর্ণার তৈরি করতে হবে এবং কৃষকদের জৈব বালাইনাশক বিষয়ে জানাতে হবে। কৃষকদের বোঝার সুবিধার্থে সকল বালাইনাশক এর দোকানের একই রকম সাইনবোর্ড তৈরি করার প্রস্তাবনা দেন তারা। এছাড়াও এছাড়া কৃষকদের জন্য প্রদর্শণী প্লট দেয়া, নতুন পন্য আসলে সকলকে অবহিত করা, কৃষি অফিসের সাথে ডিলারদের নিয়মিত বৈঠক আয়োজন, প্রেসক্রিপশন্ ছাড়া ডার্টি পেস্টিসাইড বিক্রয় না করা, ওষুধের বোতলে মেজারমেন্ট কাপ দেয়া এবং বিক্রয়ের সময় কৃষকদের তা অবহিত করা, কৃষকদের বিভিন্ন সুরক্ষা সামগ্রী যেমন গ্লভস, মাস্ক, ক্যাপ ইত্যাদি প্রদান করা, বালাইনাশকের দোকানে পরিদর্শন রেজিস্টার রাখা সহ অন্যান্য বিষয়ে পরামর্শ দেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাগণ।
ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিগণ জানান এ ধরনের মতবিনিময় সভা আয়োজিত হওয়ায় তারা অত্যন্ত আনন্দিত। তারা বিভিন্ন লিফলেট ফোল্ডারে অথবা প্রেস্ক্রিপশনে নির্দিষ্ট ওষুধ কোম্পানির নাম না লিখে গ্রুপের নাম লিখার অনুরোধ করেন। জেলার বিভিন্ন স্থানে প্রদর্শণী প্লট দিতে সম্মতি জ্ঞাপন করেন। কৃষকের স্বার্থে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সাথে একতাবদ্ধ হয়ে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।