
আহমেদ আলীঃমাশরুম চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন ও দারিদ্র্য হ্রাসকরণ প্রকল্পের আঞ্চলিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যটন মোটেল, বগুড়া’র সম্মেলন কক্ষে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষিবিদ ড. মোহাম্মদ কাজি মজিবুর রহমান, অতিরিক্ত পরিচালক, প্রশাসন ও অর্থ উইং, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, খামারবাড়ি, ঢাকা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত পরিচালক বলেন, বাংলাদেশ কৃষিতে মিরাকেল উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। ফলে আমরা বিশ্বে গর্বিত অংশীদার হচ্ছি। আমাদের কৃষি জমি প্রতিনিয়তই কমে যাচ্ছে। ক্রমহ্রাস জমিতে বিকল্প খাদ্য হিসেবে মাশরুম চাষ করতে পারি। মাশরুম হালাল, পুষ্টিকর, সুস্বাদু ও ঔষধিগুণ সম্পন্ন খাবার। এতে আছে প্রোটিন, ভিটামিন, মিনারেল, অ্যামাইনো এসিড, অ্যান্টিবায়োটিক ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। স্বাদ, পুষ্টি ও ঔষধিগুণের কারণে এরই মধ্যে এটি সারা বিশ্বে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। মাশরুম নিজে খাব, চাষ ও সম্প্রসারণ করব এবং অন্যকে চাষ করতে উৎসাহিত করব।
তিনি আরো বলেন, আমাদের দেশে জমির অপ্রতুলতা, বেকারত্ব, পুষ্টিহীনতা, মাথাপিছু আয়ের স্বল্পতা, মহিলাদের আত্মকর্মসংস্থান, সর্বোপরি দারিদ্র্য বিমোচন ইত্যাদি বিষয় বিবেচনায় মাশরুম একটি সম্ভাবনাময় ফসল। এদেশের আবহাওয়া মাশরুম চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। মাশরুম ঘরের ফসল। সম্ভাবনাময় ফসল মাশরুম চাষের জন্য কোনো উর্বর জমির প্রয়োজন হয় না। দেশে মাশরুম উৎপাদন যতই বাড়ানো হোক না কেন তাতে কোনো ফসলেরই উৎপাদন কমার সম্ভাবনা নেই। এতে সাধারণত কোনো রোগবালাই হয় না এবং কীটনাশক ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ে না, বিধায় মাশরুম নিরাপদ খাদ্য।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন কৃষিবিদ মোঃ আব্দুল ওয়াদুদ, অতিরিক্ত পরিচালক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, বগুড়া অঞ্চল, বগুড়া। কৃষিবিদ শাহ মো: আপেল মাহমুদ, কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার, শিবগঞ্জ, বগুড়া এর সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষিবিদ মোঃ মতলুবর রহমান, অধ্যক্ষ, কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট, ঈশ্বরদী, পাবনা এবং কৃষিবিদ সোহেল মোঃ শামসুদ্দীন ফিরোজ, উপপরিচালক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, বগুড়া ও কৃষিবিদ মোঃ জাহাঙ্গীর আালম প্রামানিক, উপপরিচালক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, পাবনা। প্রকল্প কার্যক্রম ও মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন- কৃষিবিদ ড. আখতার জাহান কাঁকন, প্রকল্প পরিচালক, মাশরুম চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন ও দারিদ্র্য হ্রাসকরণ প্রকল্প।
কর্মশালায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, হর্টিকালচার সেন্টার, এসসিএ, ড্যাম, বারি, কৃষি তথ্য সার্ভিসসহ কৃষি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিভাগ, স্কুল-কলেজ, এনজিও, রেস্টুরেন্ট, ভ্রাম্যমান দোকান, সুপারসপ প্রতিনিধি, কৃষি উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী এবং অন্যান্য সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাসহ ১৫০ জন অংশগ্রহণ করেন।