
এগ্রিলাইফ২৪ ডটকম:বাংলাদেশে গবাদিপশুর জাত উন্নয়ন ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার মাধ্যমে দুধ ও মাংসের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ‘ব্র্যাক কৃত্রিম প্রজনন (AI) এন্টারপ্রাইজ’-এর বিশেষ কর্মসূচি। আজ ২৫ এপ্রিল রাজশাহী জেলার, পবা উজেলার, হরিপুরে ‘মোবাইল ভেটেরিনারি ক্লিনিক (MVC) ২০২৬’ কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়।
এ কার্যক্রমের আওতায় ভ্রাম্যমাণ ভেটেরিনারি ক্লিনিকের মাধ্যমে বিনামূল্যে গবাদিপশুর চিকিৎসা এবং খামারিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করা হয়।
উক্ত মোবাইল ভেটেরিনারি ক্লিনিকে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি এন্ড এনিমেল সায়েন্সেস বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা ডীন, প্রফেসর ড. মো. জালাল উদ্দিন সরদার। ডা. মো. আব্দুল লতিফ, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, পবা।
ব্র্যাকের এ কার্যক্রম পরিচালনা খামারিদের উন্নয়নের পাশাপাশি প্রাণিসম্পদের উন্নয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বক্তারা উল্লেখ করেন এবং এ কার্যক্রম ভবিষ্যতও চলমান থাকবে বলে প্রত্যাশা করেন।
উক্ত মোবাইল ভেটেরিনারি ক্লিনিকে আরো উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাক এ আই এন্টারপ্রাইজের ভেটেরিনারি সার্জন, ডা. মুহাম্মদ আল হেলাল মন্ডল, ডা.রোমানা আক্তার, রিজিওনাল সেলস ম্যানেজার মোবাশ্বের হক পলাশ, এরিয়া ম্যানেজার এনামুল হক।
উল্লেখ্য, ১৯৮৭ সালে যাত্রা শুরু করা ব্র্যাক কৃত্রিম প্রজনন কার্যক্রম বর্তমানে দেশের ৬৪টি জেলার প্রতিটি উপজেলায় বিস্তৃত। খামারিদের আধুনিক ও উন্নতমানের কৃত্রিম প্রজনন সেবা প্রদানের পাশাপাশি ২০১৭ সাল থেকে নিয়মিতভাবে ফ্রি হেলথ ক্যাম্প ও ভ্রাম্যমাণ ভেটেরিনারি ক্লিনিক পরিচালনা করে আসছে ব্র্যাক।
এই ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে জুন মাস পর্যন্ত দেশব্যাপী মোট ২১০টি ভ্রাম্যমাণ ভেটেরিনারি ক্লিনিক পরিচালনা করা হবে। এছাড়াও গবাদিপশুর জাত উন্নয়নের সাফল্য প্রদর্শনে ২৪টি স্থানে ‘প্রোজেনি শো’ বা বাছুর প্রদর্শনী এবং খামারিদের সচেতনতা বৃদ্ধিতে ২৪টি স্থানে বিশেষ নাটক আয়োজন করা হয়েছে। এই পুরো কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশের প্রায় ৩০,০০০ খামারির প্রায় ১ লক্ষ ৫ হাজার গবাদিপশুকে নিবন্ধিত ভেটেরিনারি চিকিৎসকের মাধ্যমে সরাসরি সেবা প্রদান করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ব্র্যাক কৃত্রিম প্রজনন এন্টারপ্রাইজ-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, একটি সুস্থ গবাদিপশুই একটি শক্তিশালী খামারের ভিত্তি। প্রান্তিক খামারিদের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রাণিসম্পদের উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। পর্যায়ক্রমে এই সেবা কার্যক্রম দেশের আরও বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে দেওয়া হবে।