
বাকৃবি প্রতিনিধি: সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে আসন্ন গণভোট বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গতকাল ৩১ জানুয়ারি (শনিবার) বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) এক বিশেষ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ নজরুল ইসলাম সম্মেলন ভবনে সকাল ১১:০০ ঘটিকায় অনুষ্ঠিত এই মতবিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার।
অনুষ্ঠানে প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া, সভাপতিত্ব করেন ইউজিসি’র সদস্য প্রফেসর ড. মাছুমা হাবীব, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড.মোঃ রোকনুজ্জামান।
আরও উপস্থিত ছিলেন জুলাই যোদ্ধা আল-আমিন, বাকৃবি ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সস্পাদক মোঃ আতিকুর রহমান ও মোঃ শফিকুল ইসলাম প্রমুখ ।
বাকৃবির এই আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষদীয় ডীন, ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা, উচ্চ শিক্ষা ও গবেষণা কমিটির কো-অর্ডিনেটর,পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, রেজিস্ট্রার, প্রক্টর, ট্রেজারার, বিভিন্ন বিভাগের পরিচালকবৃন্দ, বিভিন্ন হলের প্রভোস্ট এবং সহকারী প্রভোস্টবৃন্দ, সহকারী প্রক্টরবৃন্দ, সকল অনুষদের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ, কর্মকর্তাবৃন্দ এবং শিক্ষার্থীবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। সভায় আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিতব্য গণভোটের গুরুত্ব এবং এ বিষয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সঠিক ধারণা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
প্রধান অতিথি মনির হায়দার তাঁর বক্তব্যে বলেন, জুলাই যুদ্ধে যারা শহীদ হয়েছেন হাত, পা হারিয়েছেন ,পঙ্গুত্ববরণ করেছেন কোন কিছুরই মূল্য পরিশোধ যোগ্য নয়, তারা এই যে, ত্যাগ স্বীকার করেছেন দেশের এমপি বা মন্ত্রী হওয়ার জন্য নয়। তারা ১৬ বছরের মাফিয়াতান্ত্রিক ফ্যাসিবাদী শাষনের অবসান ঘটিয়ে বৈষম্যহীন, শোষনমুক্ত সাম্য ও মৈত্রীর বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য রক্ত ও জীবন দিয়েছেন। তাদের এই ত্যাগ কে স্বীকৃতি দিতে হলে আমাদেরকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ের দিকে অগ্রসর হতে হবে। এর কোন বিকল্প নাই।
অনুষ্ঠানের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, আমরা কী চাই বা কী চাই না এই ১২টি আহ্বানের মধ্যে এমন কোনো বিষয় নেই যা অন্তর্ভুক্ত হয়নি। কোন প্রস্তাবের পক্ষে বা বিপক্ষে মত দিলে তার সম্ভাব্য ফলাফল কী হতে পারে, রাষ্ট্রে প্রকৃত জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, প্রয়োজনীয় পরিবর্তন, সংস্কার কিংবা ত্রুটি সংশোধনের নানা দিক সবই এই সনদের ভেতরে সুস্পষ্টভাবে সংযুক্ত করা হয়েছে।
তাই এই সনদকে সমর্থন করার অর্থ হলো, আমরা সচেতনভাবে একটি কাঠামোবদ্ধ পরিবর্তনের পথে এগিয়ে যাওয়া। এখানে বিষয়গুলো এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যে, পক্ষে মত দিলে আমরা প্রত্যাশিত সুফল অর্জনের সুযোগ পাবো, আর বিপক্ষে গেলে তা থেকে বঞ্চিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে।
ভাইস-চ্যান্সেলর বলেন, গত ১৬–১৭ বছরে আমরা দেখেছি বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদ, জুলুম, অন্যায়-অত্যাচার ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় অনেককেই দেশ ছাড়তে হয়েছে। এ সময় আমরা যাঁদের চিনেছি ও শুনেছি, তাঁদের মধ্যে অন্যতম প্রধান উপদেষ্টা মহোদয়ের বিশেষ সহকারী, বিশিষ্ট সাংবাদিক, কলামিস্ট ও বিশ্লেষক জনাব মনির হায়দার আজ আমাদের মাঝে উপস্থিত আছেন। তাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। উনার
কথায় অনুপ্রাণিত হয়ে তরুণ প্রজন্ম সাহস পেয়েছে, সংগ্রামে এগিয়ে এসেছে। অবশেষে ২০২৪ সালের ৪ ও ৫ আগস্টের ঘটনাপ্রবাহে আমরা দেশে একটি বড় পরিবর্তন প্রত্যক্ষ করেছি, যা ফ্যাসিবাদের পলায়ন হিসেবে ইতিহাসে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। আগে আমরা তাঁকে অনলাইনে দেখতাম ও তার কথা শুনতাম, আর আজ তাঁকে সরাসরি আমাদের মাঝে পেয়ে আমরা সত্যিই সৌভাগ্যবান।
তিনি আরও বলেন, আপনারা জেনে আনন্দিত হবেন যে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ই প্রথম এ ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। আমরা মাত্র গতকালই কর্মসূচি আয়োজনের বার্তা পেয়েছি, আর তার পরপরই আজ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় উদ্যোগ নিয়ে অনুষ্ঠানটি বাস্তবায়ন করছে।
খাদ্য নিরাপত্তা থেকে শুরু করে এদেশের মানুষের দারিদ্র্য, কর্মসংস্থান এবং সাধারণ মানুষের রুটি-রুজি এবং ভাগ্য পরিবর্তনে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এলামনাই এবং ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দ ১৯৬১ সন থেকে তদানিন্তন পূর্ব পাকিস্তান পরবর্তীতে বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তরে প্রতিটি জায়গায় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেমেয়েরা ভূমিকা রাখছে। আমরা যেরকম আমাদের ছেলেমেয়েরা স্মার্ট এবং অ্যাট দ্য সেম টাইম তারা আবার মাটি ও মানুষের মানুষের সাথে মিশে গিয়ে কৃষির ভূমিকা, কৃষিতে উন্নয়নশীল এবং উৎপাদনে ভূমিকা রেখে সাড়ে সাত কোটির থেকে শুরু করে আজকে সাড়ে সতের কোটি মানুষকেও বাংলাদেশের এই কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বে ফুড সিকিউরিটিতে অবদান রেখে যাচ্ছে এবং খাদ্য নিরাপত্তাতেও অবদান রেখে যাচ্ছে এবং খাদ্যের যেই সেফটি সেখানেও আমরা কনসার্ন দিয়ে যাচ্ছি।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কখনো জাতির প্রয়োজনে নেয্য ভূমিকা রাখতে পিছপা হয়নি। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের অনেক ছাত্র স্বাধীনতা যুদ্ধে জীবন দিয়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা,কর্মচারীগণ এই ফ্যাসিস্ট আন্দোলনের পরিবর্তনে একদম ফোরফ্রন্টে আমরা যুদ্ধক্ষেত্রে অবস্থান করেছি এবং আমরা জাতীয় ইস্যুতে ভূমিকা রাখতে এতটুকু পিছপা হইনি।
আমরা আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি সেই পরিবর্তনের ঝান্ডা হাতে নিয়ে বাংলাদেশকে দীর্ঘমেয়াদী ভাবে একটি সুখী সমৃদ্ধ এবং একটি স্বাধীন জাতি হিসেবে বাংলাদেশ তথা পৃথিবীর বুকে যেন মাথা উঁচু করে সারা জীবন কাটাতে পারি এই আহ্বান জানাচ্ছি।
মতবিনিময় সভায় বক্তারা আরো বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সচেতন সমাজকে এই আইনি কাঠামোর মধ্যে থেকে সাধারণ মানুষকে গণভোটের প্রক্রিয়া সম্পর্কে সচেতন করতে হবে। জাতীয় এই গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সমুন্নত রাখাই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।