বাকৃবি বিএনসিসি প্লাটুনের দোয়া ও ইফতার মাহফিল

Category: কৃষিবিদ ও ক্যাম্পাস Written by Shafiul Azam

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি: পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) বিএনসিসি প্লাটুনের উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাজুয়েট ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (জিটিআই) ডরমিটরিতে এই আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএনসিসি বাকৃবি প্লাটুনের ব্যাটালিয়ন ট্রেনিং অ্যান্ড ফিল্ড অফিসার (BTFO) ও গ্রাজুয়েট ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক লেফটেন্যান্ট এ.কে.এম. রফিকুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল আলীম ।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত পরিচয় তুলে ধরেন। তারা বলেন, ১৯৭৯ সালে প্রতিষ্ঠিত বিএনসিসি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত একটি শিক্ষার্থীভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। এর মূল লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলা, নেতৃত্বগুণ, দেশপ্রেম ও দায়িত্ববোধ গড়ে তোলা এবং প্রয়োজনে দেশের সেবামূলক কাজে অংশগ্রহণে উদ্বুদ্ধ করা।

বক্তারা আরও জানান, বিএনসিসির কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে সামরিক ড্রিল ও প্রশিক্ষণ, ক্যাম্প ও প্যারেড, নেতৃত্ব উন্নয়ন কার্যক্রম, জাতীয় দিবস উদযাপন এবং দুর্যোগকালীন সেবামূলক কার্যক্রম। সংগঠনটি আর্মি উইং, নেভাল উইং এবং এয়ার উইং—এই তিনটি শাখায় পরিচালিত হয়। বাকৃবি বিএনসিসি প্লাটুন মূলত আর্মি উইংয়ের অধীনে এবং রমনা রেজিমেন্টের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়ে আসছে।

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল আলীম, বিএনসিসি সদস্যরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পরীক্ষা পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। পাশাপাশি তারা দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করে। বিএনসিসির মাধ্যমে ক্যাডেটরা শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব ও দায়িত্ববোধের শিক্ষা লাভ করে, যা তারা সারাজীবন ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে কাজে লাগাতে পারবে বলে আমি মনে করি। আমরা তাদের এই বিষয়ে আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।

গ্রাজুয়েট ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক লেফটেন্যান্ট এ.কে.এম. রফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা এখানে একত্রিত হয়েছি দোয়া করার জন্য, যেন সবাই চারিত্রিকভাবে সৎ ও নৈতিক হতে পারে এবং কোনো সমাজবিরোধী কাজে জড়িত না হয়। সংকটময় মুহূর্তে দেশ ও মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতা গড়ে তোলাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকার তোমাদের জন্য বিপুল বিনিয়োগ করছে—তাই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে দেশ ও জাতির কল্যাণে কীভাবে অবদান রাখা যায়, সে বিষয়ে সবসময় চিন্তা করতে হবে। সর্বোপরি, তোমরা নৈতিকভাবে সৎ ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলবে।