বর্ণাঢ্য আয়োজনে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে পহেলা বৈশাখ ১৪৩৩ উদযাপন

Category: কৃষিবিদ ও ক্যাম্পাস Written by Shafiul Azam

শেকৃবি প্রতিনিধি: শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদযাপিত হয়েছে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩। এ উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার (০১ বৈশাখ ১৪৩৩) দিনব্যাপী নানা আয়োজনের মাধ্যমে ক্যাম্পাসজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে। পহেলা বৈশাখকে ঘিরে একদিন আগে থেকেই শুরু হয় আল্পনা অঙ্কন, স্টল সাজানো, ঐতিহ্যবাহী খাবার প্রস্তুত এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মহড়া।

আজ মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদ ভবনের সম্মুখে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ আব্দুল লতিফ। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। কৃষি আমাদের সংস্কৃতি ও কৃষ্টির অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই কৃষক ও কৃষিকে রক্ষা করতে পারলেই দেশের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব।”

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ বেলাল হোসেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মুহাম্মদ আবুল বাশার, অন্যন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও হিসাব শাখার পরিচালক অধ্যাপক ড. এ কে এম রুহুল আমিন, সাউরেসের পরিচালক অধ্যাপক ড. এফ এম আমিনুজ্জামান, অধ্যাপক ড. এইচ এম এম তারেক হাসান, এগ্রিবিজনেস অনুষদের ডিন অধ্যাপক মোঃ জাকির হোসেন, প্রভোস্ট কাউন্সিলের আহবায়ক অধ্যাপক ড. ফিরোজ মাহমুদ, এএসভিএম অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোঃ আরফান আলী, ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহা. আশাবুল হক, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কৃষিবিদ খোন্দকার আসাদুজ্জামান এবং রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ মোঃ নজরুল ইসলামসহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীবৃন্দ।

উদ্বোধন শেষে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি কৃষি অনুষদ ভবন থেকে শুরু হয়ে এম মহবুবউজ্জামান একাডেমিক ভবন, অপরাজিতা ২৪, চামেলী ভবন, বেগম সৈয়দুন্নেছা হল, বেগম রোকেয়া হল এবং প্রশাসনিক ভবন প্রদক্ষিণ করে পুনরায় একাডেমিক ভবনের সামনে এসে শেষ হয়। এ সময় উপ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ, প্রক্টরসহ অন্যান্য সিনিয়র অধ্যাপকবৃন্দও বক্তব্য প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহা. আশাবুল হক।

আলোচনা সভা শেষে শুরু হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যেখানে শিক্ষার্থীরা নাচ, গান, কবিতা আবৃত্তি ও নাটিকা পরিবেশন করেন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ২৪টি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের অংশগ্রহণে আয়োজন করা হয় বৈশাখ মেলা। দুপুর ১২টায় উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীবৃন্দ মেলার স্টল পরিদর্শন করেন। এ সময় তাঁরা পিঠা, পায়েস, ফিরনি, বাতাসা, পান্তা-ইলিশসহ নানা ঐতিহ্যবাহী খাবার উপভোগ করেন। অনুষ্ঠান শেষে সেরা স্টল নির্বাচন করে পুরস্কার প্রদান করা হবে বলে জানা গেছে।