
ইসলামিক নিউজ ডেস্ক:মহান রাব্বুল আলামীনের অপার করুণা ও মহাশক্তির অন্যতম নিদর্শন এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ড। আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টির উদ্দেশ্যে যদি কাউকে জিজ্ঞেস করা হয়, তবে সবাই স্বীকার করবে একমাত্র মহাপরাক্রমশালী, মহাজ্ঞানী আল্লাহই এগুলোর স্রষ্টা। পবিত্র কুরআনের সূরা আয-যুখরুফের ৯ ও ১০ নম্বর আয়াতে এ সত্যই সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা ভূপৃষ্ঠকে আমাদের জন্য প্রশস্ত আশ্রয়স্থল বানিয়েছেন, যেখানে আমরা স্থিতি ও বিশ্রাম লাভ করি এবং তাঁর দেওয়া রিজিক ও পথনির্দেশনা অনুসরণ করে আমাদের গন্তব্যে পৌঁছাতে পারি।
এই আয়াতদ্বয় নাযিল হয়েছিল তখন, যখন মক্কার মুশরিকরা আল্লাহর একত্ববাদ ও রিসালাতকে অস্বীকার করছিল। তারা নবিজি (সা.)-কে জিজ্ঞেস করত, "কে এই পৃথিবী ও আসমান সৃষ্টি করেছেন?" তখন আল্লাহর পক্ষ থেকে এই উত্তর আসে, যাতে তারা নিজেদের স্বীকারোক্তিতেই সত্যকে মেনে নেয়। কারণ, মুশরিকরাও সাধারণভাবে মানত যে, বিশ্বজগতের স্রষ্টা আল্লাহ, কিন্তু তারা তাঁর সাথে শরিক করত। আয়াতদ্বয়ের মাধ্যমে তাদেরকেই সাক্ষী মানা হয়েছে তাদের নিজস্ব বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে।
মহান আল্লাহ যে পৃথিবীকে আমাদের বসবাসের উপযোগী করে সৃষ্টি করেছেন, তা কেবল ভোগের স্থান নয়; এটি একটি পরীক্ষাগার। এখানে আমাদের করণীয় হলো আল্লাহর দেওয়া নির্দেশনা কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে জীবন পরিচালনা করা। এর অর্থ হলো, আমাদের কর্মজীবন, ব্যবসা-বাণিজ্য, সামাজিক সম্পর্ক সবকিছুতে হালাল পথ অবলম্বন করা। আল্লাহর দেওয়া প্রাকৃতিক নিয়ামত ও মেধা-শক্তিকে কাজে লাগিয়ে হালাল রুজি অর্জন করাই হলো ইবাদতের অংশ। এভাবে ইহকালীন জীবনকে সুশৃঙ্খল ও পরকালীন জীবনের জন্য প্রস্তুত করতে হবে।
আল্লাহর দেওয়া পথে চলা কোনো অলৌকিক বা কঠিন বিষয় নয়; বরং এটি সহজ-সরল পথ। নামাজ, রোজা, যাকাত, হজ্জের মতো ফরজ ইবাদতগুলোর পাশাপাশি সততা, আমানতদারিতা, ন্যায়পরায়ণতা ও দয়া-মায়ার মাধ্যমে জীবনকেই ইবাদতে পরিণত করা যায়। এভাবেই একজন মুমিন দুনিয়াতেই শান্তি পায় এবং আখিরাতের চিরস্থায়ী গন্তব্য জান্নাতের দিকে এগিয়ে যায়।
আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করে, তাঁর নির্দেশিত পথে অটল থেকে এবং হালাল পন্থায় জীবন-জীবিকা নির্বাহ করে আমরা ইহকালীন সফলতা ও পরকালীন মুক্তি নিশ্চিত করতে পারি। মহান রবের একত্ববাদে অগাধ বিশ্বাস রেখে, তাঁর কোনো শরিক না করে, কেবল তাঁরই ইবাদতে নিবেদিত হতে হবে। সূরা আয-যুখরুফের আয়াতদ্বয় আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় এই মহাবিশ্বের সবকিছুর মালিক ও নিয়ন্ত্রক একমাত্র আল্লাহ; তিনিই আমাদের সঠিক পথ দেখান এবং তাঁর দিকে ফিরে যাওয়ারই অঙ্গীকার আমাদের করতে হবে।
মহান আল্লাহর অপার মহিমা ও দয়ার্দ্র হস্ত সর্বত্র পরিব্যাপ্ত। তাঁর দেওয়া জীবনব্যবস্থা মানেই হলো সুষম, ন্যায়ভিত্তিক ও শান্তিপূর্ণ জীবন। কুরআনের আলোকে জীবন গড়ে তোলাই হলো মুমিনের একমাত্র লক্ষ্য, যার পরিণতি হবে জান্নাতের অনন্ত সুখ। আসুন, আমরা আল্লাহর নিয়ামত চিনি, শুকরিয়া আদায় করি এবং তাঁর পথেই চলিইহকাল ও পরকালের সফলতা অর্জনের জন্য।