
ইসলামিক ডেস্ক: জাহান্নামের ভয়াবহ পরিণতি থেকে মানবজাতিকে সতর্ক করতে পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা স্পষ্ট বাণী নাজিল করেছেন। সূরা আল-জাসিয়ার ৩৪ ও ৩৫ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ বলেন, "আজ আমি তোমাদের ভুলে যাব, যেমন তোমরা এ দিনের সাক্ষাতকে ভুলে গিয়েছিলে। আর তোমাদের স্থান হবে জাহান্নাম এবং তোমাদের কোনো সাহায্যকারী থাকবে না। এটা এজন্য যে, তোমরা আল্লাহর আয়াতসমূহকে ঠাট্টা-বিদ্রুপের পাত্র বানিয়েছিলে এবং পার্থিব জীবন তোমাদেরকে প্রতারিত করেছিল।"
ইসলামিক স্কলারদের মতে, এ আয়াতদ্বয়ে কঠোর সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে যারা কোরআনের বিধানকে হালকাভাবে নেয়, আল্লাহর নির্দেশাবলীকে উপহাসের বিষয়বস্তু বানায় এবং দুনিয়ার সৌন্দর্য ও ভোগ-বিলাসে মোহগ্রস্ত হয়ে আল্লাহকে ভুলে যায় তাদের জন্য। এ আয়াতগুলোতে পরকালে সেই ভয়াবহ দিনের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে যখন জাহান্নামিদের আর কোনো মুক্তি থাকবে না, না ফিরে যাওয়ার সুযোগ থাকবে দুনিয়াতে, না ক্ষমা চাওয়ার সময় পাওয়া যাবে।
আলেমগণ ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, এ আয়াতগুলো আমাদের শিখায় যে দুনিয়ার জীবনই একমাত্র সুযোগ। এখানেই আল্লাহর বিধান মেনে চলতে হবে, কোরআনের মর্মার্থ অন্তরে ধারণ করতে হবে এবং পার্থিব মোহ-মায়া ত্যাগ করে পরকালমুখী জীবন গড়তে হবে। যারা মনে করে, "দুনিয়াতে যা ইচ্ছা তাই করব, শেষ সময়ে তওবা করে নেব" তাদের জন্য ভয়াবহ সতর্কবাণী এই আয়াতগুলো।
ইসলামিক ইসলামিক স্কলাররা বলেন, দুনিয়াবী জীবনে ভোগ-বিলাস ও ব্যস্ততা যেন আমাদের কোরআন ও সুন্নাহ থেকে দূরে না রাখে। ইহকালীন জীবনকে পরকালীন সাফল্যের জন্য প্রস্তুতির মাঠ হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। আল্লাহর নির্দেশিত পথে চললেই কেবল জাহান্নামের কঠিন আজাব থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব এবং আল্লাহর অনন্ত রহমতের অধিকারী হওয়া যাবে।
মহান রাব্বুল আলামিন আমাদের সবাইকে পবিত্র কোরআনের আলো এবং হাদিস-সুন্নাহর নির্দেশনা মোতাবেক জীবনযাপন করার তৌফিক দান করুন। ইহকালীন ও পরকালীন জীবনে যেন আমরা সফলতা অর্জন করতে পারি এবং জাহান্নামের আগুন থেকে নিরাপদে থাকতে পারি। দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী মোহে পড়ে যারা আল্লাহর বিধানকে উপহাস করে, তাদের অপেক্ষা করছে চিরস্থায়ী দুঃখ ও যন্ত্রণার জীবন। সময় থাকতে সচেতন হোন, ফিরে আসুন সঠিক পথে।-আমিন