পবিত্র মাহে রমজান: ধৈর্য, সংযম ও সহমর্মিতার বার্তা নিয়ে এলো পবিত্র মাস

Category: ইসলাম ও জীবন Written by Shafiul Azam

ইসলামিক ডেস্ক: আজ বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) থেকে বাংলাদেশে শুরু হয়েছে পবিত্র মাহে রমজান। বিশ্বজুড়ে লাখো মুসলমান প্রথম রোজা রাখার মাধ্যমে স্বাগত জানিয়েছে এই মহিমান্বিত মাসকে। রহমত, বরকত ও নাজাতের এই মাসে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা সংযম, সহনশীলতা ও মানবতার সেবায় নিজেদের নিয়োজিত করার আহ্বান জানিয়েছেন আলেম সমাজ ও বিশিষ্টজনেরা।

রমজান মাস তিনটি দশকে বিভক্ত প্রথম দশক রহমত, দ্বিতীয় দশক মাগফিরাত এবং তৃতীয় দশক নাজাতের। এ মাস সংযোগের, সংযমের ও সহমর্মিতার। ধর্মীয় এই গুরুত্বের পাশাপাশি এ বছর সামাজিক ও অর্থনৈতিক দায়িত্ববোধের বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে।

রমজান এলেই দেশের বাজারমূল্যে এক ধরনের অস্থিরতা দেখা দেয়, যা সাধারণ মানুষের জন্য দুঃসহ হয়ে ওঠে। নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য, ফলমূল ও ইফতার সামগ্রীর দাম যাতে অস্বাভাবিক না বাড়ে, সেদিকে কঠোর দৃষ্টি রাখার আহ্বান জানিয়েছেন ধর্মীয় নেতারা। তারা বলেছেন, ব্যবসায়ীদের উচিত অহেতুক মুনাফার লোভ পরিহার করে সাধারণ ক্রেতা ও রোজাদারদের কথা চিন্তা করা। রমজান মাস যাতে সবার জন্য সহজ ও শান্তিময় হয়, সেদিকে খেয়াল রেখে ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রি করা প্রতিটি ব্যবসায়ীর নৈতিক দায়িত্ব।

রমজান মাস আত্মশুদ্ধি ও ত্যাগের পাশাপাশি অসহায় ও গরিবদের পাশে দাঁড়ানোর মাস। এ উপলক্ষে বিত্তবান ও সমাজের সচ্ছল ব্যক্তিদের প্রতি বেশি পরিমাণে দান-খয়রাত ও জাকাত প্রদানের অনুরোধ জানানো হয়েছে। পবিত্র এ মাসে যেন কোনো গরিব পরিবার ইফতার বা সেহরি না খেয়ে না থাকে, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন সমাজকর্মীরা।

"রমজান মাসে অসহায় ও গরিবরাও যাতে ভালোভাবে রোজা পালন করতে পারে, খেয়ে-পড়ে বাঁচতে পারে, সে দিকটি দেখার দায়িত্ব সমাজের বিত্তবান ও বিদ্যমান ব্যক্তিদের। শুধু নির্ধারিত জাকাত নয়, এর বাইরেও সাধ্যমতো সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া উচিত," বলেন স্থানীয় এক ধর্মীয় আলোচক।

আমাদের সমাজে পরিবার থেকে শুরু করে রাষ্ট্র ও রাজনৈতিক অঙ্গন সর্বত্র প্রায়ই দেখা যায় এক ধরনের অসহিষ্ণু অবস্থা। এই পবিত্র রমজান যেন সেই অসহিষ্ণুতা দূর করে পরস্পরের প্রতি সহমর্মিতা ও সহযোগিতার মনোভাব জাগ্রত করে এমনটাই প্রত্যাশা সবার।

আলেম সমাজ বলেছেন, রমজান শুধু পানাহার থেকে বিরত থাকার মাস নয়, বরং রাগ, অসহিষ্ণুতা ও মন্দ কাজ থেকেও বিরত থাকার মাস। তাই আসুন আমরা সবাই মহান আল্লাহর নির্দেশিত পথে রমজান পালন করি, একে অপরের সাহায্যে এগিয়ে আসি এবং সমাজে শান্তি ও সহমর্মিতার বার্তা ছড়িয়ে দিই।

পবিত্র এ মাস উপলক্ষে দেশবাসীসহ বিশ্বের সব মুসলমানের প্রতি রইল শুভেচ্ছা ও দোয়া আল্লাহ আমাদের সবাইকে রমজানের পূর্ণ রহমত ও বরকত দান করুন।