লাইলাতুল কদর: হাজার মাসের চেয়ে উত্তম রাতের সন্ধানে

Category: ইসলাম ও জীবন Written by Shafiul Azam

ইসলামিক ডেস্ক: মহান আল্লাহ তাআলা রমজান মাসকে অসংখ্য বৈশিষ্ট্যে অনন্য করে দিয়েছেন। এই মাসের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে লুকিয়ে আছে একটি মহিমান্বিত রাত, যা 'লাইলাতুল কদর' বা 'শবে কদর' নামে পরিচিত। এই রাতটি হাজার মাসের ইবাদত থেকেও উত্তম । পবিত্র কোরআনে সূরা কদরে আল্লাহ ঘোষণা করেছেন, "নিশ্চয়ই আমি কোরআন নাজিল করেছি কদরের রাতে। আর আপনি কি জানেন, কদরের রাত কী? কদরের রাত হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম।" ।

এই রাতের বেশ কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে। প্রথমত, এই রাতেই পবিত্র কোরআন প্রথম লাওহে মাহফুজ থেকে পৃথিবীর আসমানে নাজিল হয় । দ্বিতীয়ত, এ রাতে ফেরেশতারা ও জিবরাইল (আ.) পৃথিবীতে অবতরণ করেন এবং ঈমানদারদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন। এই শান্তির ধারা ফজর পর্যন্ত অব্যাহত থাকে । তৃতীয়ত, এই রাতের ইবাদতের বিশেষ ফজিলত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সওয়াব লাভের আশায় লাইলাতুল কদরে রাত জেগে ইবাদত করে, তার পূর্ববর্তী সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়" ।

লাইলাতুল কদর সুনির্দিষ্টভাবে জানা না গেলেও, এর কিছু আলামত হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। রাতটি হবে অত্যন্ত শান্ত, নাতিশীতোষ্ণ অতি গরম বা ঠাণ্ডা নয়। আকাশ পরিষ্কার ও আলোকোজ্জ্বল থাকবে এবং মৃদু বাতাস প্রবাহিত হবে। এই রাতের সবচেয়ে বড় আলামত হলো পরদিন সকালে সূর্য কিরণহীন অবস্থায় উদিত হবে, যা দেখতে পূর্ণিমার চাঁদের মতো মনে হবে ।

যেহেতু এই রাতটি রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোর (২১, ২৩, ২৫, ২৭, ২৯) যেকোনো একটিতে হতে পারে, তাই মুমিনদের উচিত শেষ দশক জুড়ে ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল থাকা । হজরত আয়েশা (রা.) একবার রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলেন, "হে আল্লাহর রাসূল! আমি যদি লাইলাতুল কদর সম্পর্কে জানতে পারি, তাহলে সে রাতে কী দোয়া পড়ব?" জবাবে রাসুল (সা.) তাকে একটি সংক্ষিপ্ত কিন্তু ব্যাপক অর্থবোধক দোয়া শিখিয়ে দেন। সেটি হলো:

উচ্চারণ: "আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন, তুহিব্বুল আফওয়া, ফা’ফু আন্নি।"

অর্থ: "হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আপনি ক্ষমাশীল, আপনি ক্ষমা করতে ভালোবাসেন, অতএব আমাকে ক্ষমা করে দিন।"

এই দোয়ার মাধ্যমে বান্দা তার সব গুনাহ মাফের জন্য আল্লাহর দরবারে কাতর প্রার্থনা জানায়। আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনার চেয়ে বড় আর কিছুই হতে পারে না, আর তাই রাসুল (সা.) তাঁর উম্মতকে এই রাতের জন্য সর্বোত্তম দোয়াটি শিখিয়ে দিয়েছেন। তাই আসুন, আমরা সবাই শেষ দশকে ইবাদতের পরিমাণ বাড়িয়ে এই মহিমান্বিত রাত তালাশ করি এবং উল্লেখিত দোয়াটি বেশি বেশি পড়ি ।-আমিন