এগ্রিলাইফ২৪ ডটকম:ধান চাষে ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমিয়ে সেচের পানি সাশ্রয় ও উৎপাদন খরচ কমাতে পর্যায়ক্রমে ভিজানো ও শুকানো (Alternate Wetting and Drying—AWD) প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এ প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে গড়ে চারটি সেচ কম দেওয়ার পাশাপাশি প্রায় ২৩ শতাংশ সেচের পানি সাশ্রয় হয়েছে বলে কর্মশালায় জানানো হয়েছে।
আজ বুধবার যশোর এনজিও ফোরাম কনফারেন্স কক্ষে ধান ক্ষেতে পর্যায়ক্রমে ভিজানো ও শুকানো প্রযুক্তির ব্যবহার ও ফলাফল উপস্থাপন এবং করণীয় শীর্ষক কর্মশালায় এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। সফল ফর ইন্টিগ্রেটেড ওয়াটার রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট (SAFAL for IWRM) প্রকল্পের আওতায় সলিডারিডাড নেটওয়ার্ক এশিয়া (SNA) ও জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশন যৌথভাবে এ কর্মশালার আয়োজন করে।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন সলিডারিডাড নেটওয়ার্ক এশিয়ার ম্যানেজার-রিজেনারেটিভ, SAFAL for IWRM কৃষিবিদ ড. নাজমুন নাহার। প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের চিফ সায়েন্টিফিক অফিসার কৃষিবিদ ড. মো. মিজানুর রহমান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সলিডারিডাড নেটওয়ার্ক এশিয়া যশোরের প্রোগ্রাম অফিসার কৃষিবিদ শেখ মনিরুল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষিবিদ ড. মো. মিজানুর রহমান বলেন, ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমিয়ে ভূউপরিস্থ পানি ব্যবহার করা পরিবেশবান্ধব ও অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক। তিনি বলেন, ধান ক্ষেতে পর্যায়ক্রমে ভিজানো ও শুকানো প্রযুক্তির ওপর উপস্থাপিত তথ্য-উপাত্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি কৃষকদের এ প্রযুক্তি অনুসরণের আহ্বান জানান।
মূল প্রবন্ধে কৃষিবিদ শেখ মনিরুল ইসলাম বলেন, সাধারণভাবে বোরো ধান রোপণের ১০ দিন পর থেকে কর্তনের ১৫ দিন আগে পর্যন্ত কৃষকরা গড়ে ১৮ থেকে ২০ বার সেচ দিয়ে থাকেন। তবে পর্যায়ক্রমে ভিজানো ও শুকানো প্রযুক্তি অনুশীলনের কারণে গড়ে চারটি সেচ কম দেওয়া সম্ভব হয়েছে। এতে প্রায় ২৩ শতাংশ সেচের পানি সাশ্রয় হয়েছে। কর্মশালার শুরুতে সভাপতির বক্তব্যে ড. নাজমুন নাহার SAFAL for IWRM প্রকল্পের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন।
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের চিফ সায়েন্টিফিক অফিসার কৃষিবিদ ড. মো. মামুনুর রশীদ বলেন, এ প্রযুক্তি অনুসরণ করলে ধানের বাদামি গাছ ফড়িংয়ের আক্রমণ প্রতিরোধে সহায়তা পাওয়া যায়। মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা কৃষিবিদ ড. মোতাসীম আহমেদ বলেন, পর্যায়ক্রমে ভিজানো ও শুকানো প্রযুক্তি ব্যবহারে বিশেষ করে সালফার ও জিংকসমৃদ্ধ সারের ঘাটতিজনিত লক্ষণ কম দেখা যায়। কৃষি প্রকৌশলী সুজাউল হক বলেন, এ প্রযুক্তির মাধ্যমে সেচ খরচ কমানোর পাশাপাশি ধানের ফলন বৃদ্ধিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।
কর্মশালায় আরও উপস্থিত ছিলেন সদ্য পদায়নকৃত উপসচিব ও বিদায়ী উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. মোশারফ হোসেন। কর্মশালায় যশোর সদর, বাঘারপাড়া, অভয়নগর ও মণিরামপুর এবং নড়াইল সদর ও লোহাগড়া উপজেলার পুনঃখননকৃত মাইক্রো ওয়াটারশেডের নির্বাহী কমিটির সদস্য ও পর্যায়ক্রমে ভিজানো ও শুকানো প্রযুক্তি অনুশীলনকারী প্রদর্শনী কৃষকরা অংশ নেন।
উন্মুক্ত আলোচনায় সলিডারিডাড নেটওয়ার্ক এশিয়ার সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার কৃষিবিদ ড. এস এম ফেরদৌস, জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের কৃষিবিদ মো. রুবেল আলী এবং প্রদর্শনী কৃষকদের মধ্যে নড়াইল সদরের রবিউল ইসলাম, সুজিত কুমার ও জালাল উদ্দিন প্রমুখ অংশ নেন। তারা নিজেদের ধান ক্ষেতে প্রযুক্তিটি ব্যবহারের অভিজ্ঞতা এবং এর সুবিধা-অসুবিধা তুলে ধরেন। ভবিষ্যতে প্রযুক্তিটি অনুশীলনে পার্শ্ববর্তী ধান চাষিদের অবহিত করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।