এগ্রিলাইফ২৪ ডটকম: ম্যানগ্রোভ প্রতিবেশ সংরক্ষণের পাশাপাশি টেকসই মৎস্য চাষ সম্প্রসারণে সরকারি-বেসরকারি সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ আরও জোরদারের আহ্বান জানানো হয়েছে। এ লক্ষ্যে Global Nature Fund (GNF)-এর সহযোগিতায় Bangladesh Environment and Development Society (BEDS) আয়োজিত Mainstreaming Sustainable Aquaculture in Mangrove Ecosystems (SAIME) প্রকল্পের আওতায় “Strategic Consultations of the Working Groups” শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট খুলনার ওয়েস্টার্ন ইন হোটেলের কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন BEDS-এর নির্বাহী প্রধান মো. মাকছুদুর রহমান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় পরিচালক কৃষিবিদ মো. জাহাঙ্গীর আলম। কর্মশালার কারিগরি সেশন ও উন্মুক্ত আলোচনা সঞ্চালনা করেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রফেসর ড. সরদার শফিকুল ইসলাম।
কর্মশালার শুরুতে BEDS-এর মনিটরিং অ্যান্ড ইভালুয়েশন অফিসার মৌসুমী হালদার প্রকল্পের সার্বিক কার্যক্রম ও অগ্রগতির ওপর পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপন করেন। তিনি জানান, সমন্বিত ম্যানগ্রোভভিত্তিক মৎস্য চাষ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে স্থানীয় পর্যায়ে ছয় ধরনের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘেরের বেড়ি ও ঢিবি তৈরি করে ম্যানগ্রোভ ও ফলজ গাছ রোপণ করা হয়েছে। চাষ কার্যক্রমকে বেগবান করতে চাষীদের মধ্যে বেড়িবাঁধ মেরামতের উপকরণ, নেট, বাঁশ ও রেণু পোনা বিতরণ করা হয়েছে। এসব উদ্যোগের ফলে চাষীদের তথ্য সংরক্ষণ নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি তুলনামূলকভাবে উৎপাদনও বৃদ্ধি পেয়েছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মৎস্য অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় পরিচালক কৃষিবিদ মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, প্রকল্পের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সঠিকভাবে বাস্তবায়নে মৎস্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে। একই সঙ্গে তিনি ফিশ ক্লিনিকের মাধ্যমে চাষীদের দক্ষতা উন্নয়নে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দেন।
কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মৎস্য অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় উপপরিচালক কৃষিবিদ বিপুল কুমার বসাক, খুলনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. বদরুজ্জামান, বাগেরহাট জেলা মৎস্য কর্মকর্তা কৃষিবিদ রাজ কুমার এবং সলিডারিডাড নেটওয়ার্ক এশিয়া, খুলনার সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার-মাইক্রো ওয়াটারশেড গভর্নেন্স কৃষিবিদ ড. এস এম ফেরদৌস।
মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন মৎস্য অধিদপ্তরের সিনিয়র সহকারী পরিচালক কৃষিবিদ মো. বদরুল আলম, কৃষিবিদ ফারহানা তাসলিম, কৃষিবিদ এ টি এম তৌফিক মাহমুদ, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আবু বকর সিদ্দিক এবং ম্যানগ্রোভ সিলভিকালচার ডিভিশনের ড. মো. মমিনুল ইসলাম নাহিদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
কর্মশালায় দাকোপের বনজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি কমলা গাইন এবং রামপালের আরেফিন তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, প্রকল্পের আওতায় কেওড়া ফলের আচার, গোলপাতার রস থেকে গুড় উৎপাদনসহ বিভিন্ন আয়বর্ধনমূলক কর্মকাণ্ডের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে ঘেরের আইলে সারা বছর মৌসুমি সবজি চাষের সুযোগও তৈরি হয়েছে। আলোচনায় অংশ নেওয়া সরকারি-বেসরকারি প্রতিনিধিরা ম্যানগ্রোভভিত্তিক মৎস্য চাষকে আরও গতিশীল, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তারা প্রকল্পের কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ করে দীর্ঘমেয়াদে পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এ সময় প্রকল্পভুক্ত চাষীদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, অভিজ্ঞতা ও তথ্য আদান-প্রদান সহজতর করতে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ চালু করা হয়। সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, এ উদ্যোগের মাধ্যমে ম্যানগ্রোভ প্রতিবেশ সংরক্ষণ এবং টেকসই মৎস্য চাষ—উভয় ক্ষেত্রেই আরও কার্যকর সমন্বয় ও সহযোগিতা গড়ে উঠবে।