এগ্রিলাইফ২৪ ডটকম:সাময়িক পতিত জমিতে কন্ট্রাক্ট ফার্মিংয়ের মাধ্যমে তেল জাতীয় ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি ও প্রক্রিয়াজাতকরণের লক্ষ্যে গোপালগঞ্জ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ)-এর উদ্যোগে প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার আরডিএ’র কনফারেন্স রুমে আয়োজিত কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন আরডিএ গোপালগঞ্জের মহাপরিচালক কৃষিবিদ ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমির মহাপরিচালক কৃষিবিদ ড. মো. আব্দুল মজিদ প্রামাণিক। বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ মো. রফিকুল ইসলাম, কৃষিবিদ ওবায়দুর রহমান মণ্ডল এবং সলিডারিডাড নেটওয়ার্ক এশিয়ার সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার কৃষিবিদ ড. এস এম ফেরদৌস।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষিবিদ ড. মো. আব্দুল মজিদ প্রামাণিক বলেন, দেশের ভোজ্যতেলের আমদানি নির্ভরতা কমাতে তেল জাতীয় ফসলের আবাদ বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। তিনি সূর্যমুখী চাষে আগ্রহী কৃষক ও উদ্যোক্তাদের চিহ্নিত করার পাশাপাশি সূর্যমুখীর বীজ থেকে তেল নিষ্কাশনের জন্য উদ্যোক্তা নির্বাচন ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি স্থাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এতে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
কর্মশালায় খুলনা অঞ্চলে সূর্যমুখী চাষের বর্তমান অবস্থা, চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপন করেন কৃষিবিদ মো. রফিকুল ইসলাম। বরিশাল অঞ্চলের ওপর পৃথক উপস্থাপনা করেন বরগুনা জেলার উপপরিচালক কৃষিবিদ বদরুল আলম ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরাফাত রহমান।
কৃষিবিদ ওবায়দুর রহমান মণ্ডল বলেন, রবি মৌসুমে পতিত জমিতে সূর্যমুখী চাষে কৃষকদের সচেতন করতে হবে। জিও-এনজিও সমন্বিত উদ্যোগে তেল ফসলের আবাদ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি পতিত জমির পরিমাণ দ্রুত চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট উপপরিচালকের কাছে পাঠানোর জন্য সকল উপজেলা কৃষি অফিসারকে অনুরোধ করেন।
কৃষিবিদ মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, সূর্যমুখী চাষের মাধ্যমে স্বল্প খরচে উচ্চ আয়, ভোজ্যতেলের আমদানি নির্ভরতা হ্রাস এবং জলবায়ু সহিষ্ণু জাত ব্যবহারের পাশাপাশি পতিত জমিকে চাষের আওতায় আনা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে তিনি রোপা আমন-পতিত-পতিত ফসল বিন্যাস অনুসরণের পরামর্শ দেন।
সলিডারিডাড নেটওয়ার্ক এশিয়ার সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার কৃষিবিদ ড. এস এম ফেরদৌস বলেন, দেশে সূর্যমুখী চাষের অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, প্রণোদনা বা সহায়তা থাকলে কৃষকরা এ ফসল চাষে আগ্রহী হন, কিন্তু সহায়তা না থাকলে আগ্রহ কমে যায়। তাই তেলবীজ ফসল উৎপাদন বৃদ্ধিতে সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
উন্মুক্ত আলোচনায় ঢাকা খামারবাড়ির অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ ড. মো. জামালউদ্দিন, বাগেরহাটের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. মোতাহার হোসেন, পটুয়াখালীর উপপরিচালক ড. আমানুল্লাহ, বরিশালের উপপরিচালক কৃষিবিদ মোসা. মরিয়ম বেগম, বাউফল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মুরাদ হোসেন, ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক কৃষিবিদ মো. আজিজুল হক এবং কৃষিবিদ তৌশি আহমেদ কোরেশীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন।
আলোচনায় বক্তারা সূর্যমুখী চাষের প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে মানসম্মত বীজ প্রাপ্তি, লবণাক্ততা, জলাবদ্ধতা, সেচের পানির সংকট এবং বিলম্বে জো আসার বিষয়গুলো তুলে ধরেন। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উপযুক্ত সময়ে প্রণোদনা প্রদান, কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতে খাল খনন, কন্ট্রাক্ট ফার্মিং এবং উৎপাদিত বীজ থেকে তেল নিষ্কাশনের নিশ্চয়তাসহ সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়। কর্মশালায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেন, ২০২৫-২০২৮ সালের মধ্যে দেশে তেল জাতীয় ফসলের আবাদ প্রায় ১২ শতাংশ বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে।
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কৃষি উন্নয়ন পরিকল্পনায় তেলবীজসহ কৃষির বহুমুখীকরণ, পতিত জমি চাষের আওতায় আনা, সেচ সম্প্রসারণ ও কৃষকদের সহায়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কর্মশালায় খুলনা, বরিশাল ও ঢাকা অঞ্চলের উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট জেলার উপপরিচালকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।