এগ্রিলাইফ২৪ ডটকম:রাজশাহী, ১৯ আগস্ট ২০২৬: “জাতীয় ফল কাঁঠালের গুরুত্ব ও প্রাণিসম্পদ উন্নয়নে কাঁঠাল পাতার ভূমিকা”–এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে উত্তরন সেভিংস এন্ড ক্রেডিট কো-অপারেটিভ সোসাইটি লি. ও রোটারি ক্লাব অব রাজশাহী সেন্ট্রালের যৌথ উদ্যোগে আজ বিকেল ৫টায় রাজাবাড়ীহাটস্থ দুগ্ধ ও গবাদি উন্নয়ন খামার এবং পোল্ট্রি খামার প্রাঙ্গণে কাঁঠাল গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন সমবায় দপ্তর, রাজশাহী বিভাগের যুগ্ম রেজিস্ট্রার মো. মোখলেসুর রহমান। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “কাঁঠাল শুধু আমাদের জাতীয় ফলই নয়, এটি অর্থনৈতিক দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ফসল। সরকারি প্রাণী খামারে কাঁঠাল গাছ লাগানোর মাধ্যমে আমরা একই সঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণ ও পশুপালনের খাদ্য সংকট নিরসনে ভূমিকা রাখতে পারি। আমি এই উদ্যোগকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাই এবং আশা করি, আগামী দিনে এ ধরনের কর্মসূচি আরও ব্যাপক আকারে গ্রহণ করা হবে।”
বিশেষ অতিথি ড. মো. ইসমাইল হক, উপপরিচালক, দুগ্ধ ও গবাদি উন্নয়ন খামার, রাজাবাড়ীহাট তাঁর বক্তব্যে কাঁঠাল পাতার পুষ্টিগুণ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, “কাঁঠাল গাছের পাতা প্রাণীখাদ্য হিসেবে অত্যন্ত উৎকৃষ্ট ও পুষ্টিসমৃদ্ধ। এটি গবাদি পশুর দুগ্ধ উৎপাদন বাড়াতে সহায়ক এবং খামারিদের জন্য একটি সাশ্রয়ী খাদ্য উৎস। আজকের এই চারা রোপণ ভবিষ্যতের খাদ্য নিরাপত্তায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।”
অনুষ্ঠানে আরও বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা যুগ্ম রেজিস্ট্রার আবু সাইদ, রোটারি ক্লাব অব রাজশাহী সেন্ট্রালের পাস্ট প্রেসিডেন্ট রোটারিয়ান ডা. মো. হেমায়েতুল ইসলাম আরিফ, উপপরিচালক ডা. মো. তোফিজুল ইসলাম, পোল্ট্রি জেনেটিশিয়ান ডা. ওয়াসিম কুমার প্রামানিক, ক্লাব সেক্রেটারি রোটারিয়ান ডা. মো. গোলাম মওলা, এবং রোটারিয়ান মো. আতিকুর রহমান প্রমুখ।
এছাড়া সভাপতিত্ব করেন উত্তরন সেভিংস এন্ড ক্রেডিট কো-অপারেটিভ সোসাইটি লি.-এর সিইও ও রোটারি ক্লাব অব রাজশাহী সেন্ট্রালের আইপিপি রোটারিয়ান মো. মিজানুর রহমান। তিনি তাঁর সমাপনী বক্তব্যে সকলের প্রতি কৃষি ও পরিবেশবান্ধব এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং আগামীতেও সমাজসেবামূলক এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন।
আমরা কেন কাঁঠাল গাছ রোপনের সিধান্ত নিয়েছি এ প্রসঙ্গে রোটারিয়ান ডা. মো. হেমায়েতুল ইসলাম আরিফ জানান, কাঁঠাল গাছের পাতা প্রাণিসম্পদের জন্য অত্যন্ত পুষ্টিকর ও সহজলভ্য খাদ্য। পাশাপাশি কাঁঠাল বাংলাদেশের জাতীয় ফল এবং এটি সম্প্রতি বিদেশে রপ্তানি করে ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। চলতি বছর দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে উৎপাদিত কাঁঠাল রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা আয় হয়েছে । কাঁঠালের ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক চাহিদা ও প্রাণিসম্পদ খাতে এর অপার সম্ভাবনা বিবেচনা করেই খামারগুলিতে এসব গাছ লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে অতিথিরা খামার প্রাঙ্গণে কাঁঠালের চারা রোপণ করেন এবং খামারের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে নিয়ে পরিবেশ সুরক্ষা ও পশুখাদ্য উৎপাদন বাড়ানোর অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।