মো. জুলফিকার আলীঃবাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) সুনামগঞ্জ উপকেন্দ্রে এর আয়োজনে এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, সিলেট অঞ্চল, সিলেট এর সহযোগিতায় বিনা’র গবেষণা কার্যক্রম শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের অর্থায়নে সিলেট হর্টিকালচার সেন্টাটের প্রশিক্ষণ হলরুমে সিলেট অঞ্চল উপযোগী বিনা উদ্ভাবিত জাতসমূহের পরিচিতি, চাষাবাদ কলাকৌশল এবং সম্প্রসারণ বিষয়ক কৃষক প্রশিক্ষণ ও মতবিনিময় সভা আজ ১৪ আগস্ট ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত হয়।
উক্ত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট এর মহাপরিচালক ড. শরিফুল হক ভূঞা এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মির্জা আশফাকুর রহমান। তিনি বক্তব্যে বলেন- সিলেট অঞ্চলে মাটি বেশি অ্যাসিটিক, সেচের পানির অনেক সমস্যা রয়েছে, হঠাৎ করে বন্যায় প্রচুর পানি চলে আসে, যখন পানির প্রয়োজন তখন সেচ দেওয়া পানি পাওয়া যায় না, এ অঞ্চলে মাত্র এক মৌসুমে ফসল চাষ হয়, ফলে অনেক জমি পতিত থেকে যাচ্ছে। তিনি আরোও বলেন- পতিত জমিতে এক ফসল থেকে দুই ফসলী জমিতে রুপান্তর করতে হবে। কৃষির উৎপাদন বৃদ্ধিতে কৃষকদের সার ও বীজ এবং কৃষি যন্ত্রপাতিসহ প্রনোদনা প্রদান হচ্ছে। কৃষকদের উদ্দেশ্যে বলেন-কৃষি গবেষণা প্রতিষ্টান ও বিনা উদ্ভাবিত জাতসমূহের চাষ বাড়াতে হবে এবং ফসল উৎপাদন দ্বিগুণ করতে হবে।
সিলেট অঞ্চলে বিনার গবেষণা কার্যক্রম শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কিত তথ্য উপস্থাপনা করেন পিএসও ও প্রকল্প পরিচালক, ড. মাহবুবুল আলম তরফদার এবং সিলেট অঞ্চল উপযোগী বিনা উদ্ভাবিত জাতসমূহের পরিচিতি সম্পর্কিত উপস্থাপনা পিএসও ও উপ-প্রকল্প পরিচালক ড. মোহাম্মদ আশিকুর রহমান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন-কৃষি মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা-১অধিশাখার যুগ্মসচিব মাকসুদা ইয়াসমিন; কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, সিলেট অঞ্চল, সিলেট এর অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ ড. মোশাররফ হোসেন; কৃষি মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা-৩ অধিশাখার উপসচিব মো. মনিরুজ্জামান; সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তররের উপপরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ ওমর ফারুক; সিলেট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তররের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. শামসুজ্জামান। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিনা উপকেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান মানিক; সিলেট বিএডিসি সেচ উইং এর তত্ত্বাবধায়ক প্রনজিত কুমার দেব ও নির্বাহী প্রকৌশলী আবু আহমেদ মাহমুদুল হাসান।
কৃষিখাতের এ উন্নয়নে বাংলাদেশের যে সকল গবেষণা প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা অনস্বীকার্য তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, যা পরমাণু শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার এবং বিভিন্ন আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে এ পর্যন্ত মোট ২২ টি ফসলের মোট ১৩৯ টি জাত ও বিভিন্ন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে এবং দেশের উৎপাদনশীলতা বৃদ্বিতে প্রতিনিয়ত অবদান রেখে চলেছে।
সভায় শেষে প্রধান অতিথি ও বিষেশ অতিথিবৃন্দ বিনা উদ্ভাবিত বারোমাসি, বীজবিহীন ও সুগন্ধিযুক্ত জাত বিনালেবু-১ এর একটি গাছের চারা উপস্থিত প্রত্যেক কৃষক- কৃষণীদের মাঝে বিতরণ করেন।
উক্ত কৃষক প্রশিক্ষণ ও মতবিনিময় সভায় সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার কৃষক-কৃষাণী, কৃষি উদ্যোক্তা ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাগণ অংশগ্রহণ করেন।