মো. জুলফিকার আলীঃবাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) সুনামগঞ্জ উপকেন্দ্রের আয়োজনে এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় বিসিসিটিএফের ‘পরমাণু কৌশলের মাধ্যমে হাওর ও চরাঞ্চল অভিযোজন’ প্রকল্পের অর্থায়নে বিনা উদ্ভাবিত আউশ ধানের উন্নত জাত (বিনাধান -১৯ এবং বিনাধান-২১) সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের বাদে সাদকপুর গ্রামে ০৫ আগস্ট ২০২৬ তারিখে ‘মাঠ দিবস’ অনুষ্ঠিত হয়।
মাঠ দিবসের প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে- সুনামগঞ্জে হাওরে বোরো-পরবর্তী পতিত অনাবাদি জমিতে আউশ ধানের আবাদ সম্প্রসারণে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা, বিনাধান-১৯ ও বিনাধান-২১-এর চাষাবাদ পরিচিতি, ফলন ও বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে ধারণা দেওয়া। পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ে উৎপাদনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে কৃষকদের আউশ চাষে উৎসাহিত করা হয়।
উক্ত মাঠ দিবসে বিনা উপকেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান মানিক এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ ওমর ফারুক। তিনি বক্তব্যে বলেন, যেখানে ধান চাষের সুযোগ রয়েছে, সেখানে আবাদ বাড়াতে হবে। দেশের খাদ্য চাহিদার কথা বিবেচনা করে কৃষকদের অনাবাদি জমি চাষের আওতায় আনার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে কৃষকদের কৃষি সংক্রান্ত যেকোনো সমস্যায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।
বিশেষ অতিথি সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহাদৎ হোসেন বক্তব্যে বলেন, হাওরের যেসব জমিতে পানি ওঠেনি এবং বোরো কাটার পর খালি থাকে, সেসব জমিতে আউশ ধান চাষের সুযোগ রয়েছে। স্বল্পমেয়াদি জাত হওয়ায় দ্রুত ফসল ঘরে তোলা সম্ভব।
কৃষক আব্দুল আকলিস বলেন, বোরো ধান ডুবে যাওয়ার পর বিনা অফিসের পরামর্শে বিনাধানের বীজ নিয়ে চাষ করেন তিনি। প্রায় ১৫ হাজার টাকা খরচ হলেও সেচ ছাড়াই বৃষ্টির পানিতে ভালো ফলন পেয়েছেন।
বিনা উপকেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান মানিক বলেন, বিনাধান-১৯ ও ২১ আউশ মৌসুমের উপযোগী স্বল্পমেয়াদি ও খরাসহিষ্ণু জাত। জাত দুটির জীবনকাল প্রায় ১০০ থেকে ১০৫ দিন। সেচের প্রয়োজন কম হওয়ায় বৃষ্টির পানিতেই চাষ করা যায় এবং তুলনামূলক কম সার লাগে। তিনি বলেন, এ বছর সুনামগঞ্জের হাওরের কান্দা এলাকার জমিতে কৃষকদের বিনামূল্যে বীজ ও প্রয়োজনীয় উপকরণ দিয়ে জাত দুটি চাষে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। এতে ভালো ফলন পাওয়া গেছে। বিনাধান-১৯-এর গাছ সহজে হেলে পড়ে না এবং এর চিকন ও ঝরঝরে চালের বাজারে চাহিদা রয়েছে।
মাঠ দিবসে কৃষক, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা ও স্থানীয় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।