
বাকৃবি প্রতিনিধিঃবাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) তাপসী রাবেয়া হলে অন্তঃহল বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় হলের সম্মেলন কক্ষে এ আয়োজন করা হয়।
পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠান হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. ইসরাত জাহান শেলীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাকৃবির ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো.আবদুল আলীম, কৃষিতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. আহমদ খায়রুল হাসান, ইন্সটিটিউট অব বায়োটেকনোলজি অধ্যাপক ড. সাবিনা ইয়াসমিন সহ হলের হাউজ টিউটর, কর্মকর্তা,কর্মচারী ও হলের শিক্ষার্থীবৃন্দ।
পবিত্র কোরআন তেলায়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়।পরবর্তীতে অন্তঃহল ক্রীড়া (ক্যারাম, টেবিল টেনিস, ব্যাডমিন্টন, লুডু ও দাবা) প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন আমন্ত্রিত অতিথিরা। ক্যারাম, টেবিল টেনিস, ব্যাডমিন্টন ও লুডু খেলায় তিনজন করে মোট ১২ জন বিজয়ী এবং দাবা খেলায় প্রথম ও দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারীকে পুরস্কৃত করা হয়।সর্বমোট ১৪জনকে পুরষ্কার দেওয়া হয়।
ব্যাডমিন্টনে বিজয়ী হয়েছেন মোছা. মাছুমা বিনতে মারিয়া, রুখসানা আক্তার রিদিতা ও নুজহাত নূয়েরী।টেবিল টেনিসে তানজুমা তাসনিম হিরা, মোছা. মাছুমা বিনতে মারিয়া ও মোছা. মাশরুবা আক্তার মারিশা।ক্যারামে মাছুমা আক্তার, ফাতেমাতুজ জোহরা ও মেহেরিন মেহেবুবা। লুডুতে নুসরাত জাহান, মাহফুজা ফারিহা প্রমি ও মোছা. নুসরাত জাহান নুসা এবং দাবায় রেজোয়ানা ফেরদৌস ও নুসরাত জাহান বিজয়ী হন।
টেবিল টেনিসে বিজয়ী তানজুমা তাসনীম হিরা তার অনুভূতি প্রকাশে বলেন,"আমরা সবসময় পড়াশোনার মধ্যে ব্যস্ত থাকি এবং অনেক সময় খেলাধুলাকে অপ্রয়োজনীয় বলে মনে করি। কিন্তু বাস্তবে যেকোনো প্রতিযোগিতা আমাদের মানসিকভাবে আরও দৃঢ় করে তোলে এবং জীবনের নানা বাধা অতিক্রম করার আত্মবিশ্বাস জোগায়।"
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল আলীম বলেন,"যারা খেলায় অংশগ্রহণ করে তাদের কথায় ও কাজে এক ধরনের স্বতঃস্ফূর্ততা ফুটে ওঠে। খেলাধুলা তোমাদের শৃঙ্খলা শেখায় এবং মানসিক ও শারীরিকভাবে দৃঢ় করে তোলে। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ভালো ও গঠনমূলক কাজে তোমাদের এমন স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ আমরা সবসময় প্রত্যাশা করি।"
প্রধান অতিথি অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল হক বলেন, "পড়াশোনার পাশাপাশি সুস্থ থাকতে খেলাধুলা অত্যন্ত জরুরি। এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণই আমাদের শেখার ও নিজেকে গড়ে তোলার জায়গা। বিজয়ীদের অভিনন্দন এবং সকল অংশগ্রহণকারীদের আন্তরিক ধন্যবাদ তোমাদের অংশগ্রহণেই অনুষ্ঠান সফল হয়েছে। আমরা চাই পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও তোমাদের সক্রিয় উপস্থিতি থাকবে। এতে তোমাদের মানসিক ও সামগ্রিক উন্নয়ন ঘটবে।"
হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. ইসরাত জাহান শেলী বলেন,"যেকোনো প্রতিযোগিতায় জয়ী হওয়াটা বড় কথা নয়, বরং সাহসের সাথে সেখানে অংশগ্রহণ করাটাই আসল। জয় তো আসবেই, কিন্তু তার আগে অংশ নেওয়ার মানসিকতা তৈরি করা প্রয়োজন।বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের এই সময়টি হলো তোমাদের জীবনের সবচেয়ে সোনালী সময়। এটাই সেরা সময় নিজের দক্ষতাগুলোকে ঝালাই করে নেওয়ার এবং নতুন কিছু শেখার। আমরা চাই সারা বছর জুড়েই বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় তোমাদের স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ থাকবে।"
























