তিন ক্যাটাগরিতে রিটেইল এশিয়া অ্যাওয়ার্ডস পেল এপেক্স ফুটওয়্যার

কর্পোরেট
Typography
  • Smaller Small Medium Big Bigger
  • Default Helvetica Segoe Georgia Times

এগ্রিলাইফ২৪ ডটকম: রিটেইল এশিয়া অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬-এ তিনটি পুরস্কার জিতেছে এপেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেড। টানা তৃতীয় বারের মতো মর্যাদাপূর্ণ এ আয়োজনে স্বীকৃতি পেল প্রতিষ্ঠানটি। এ অর্জনের মাধ্যমে দেশের জুতা শিল্পে নিজেদের শীর্ষ অবস্থান আরও দৃঢ় করল এপেক্স।

এ বছর 'এআই ইনিশিয়েটিভ অব দ্য ইয়ার', 'ফুটওয়্যার রিটেইলার অব দ্য ইয়ার' এবং 'সাসটেইনেবিলিটি ইনিশিয়েটিভ অব দ্য ইয়ার'—এই তিন ক্যাটাগরিতে পুরস্কার জিতেছে প্রতিষ্ঠানটি।

রিটেইল এশিয়া অ্যাওয়ার্ডস প্রতিবছর এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের রিটেইল খাতে অসামান্য সাফল্য, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং নেতৃত্বকে স্বীকৃতি দেয়। এর আগে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে টানা দুই বছর 'ফুটওয়্যার রিটেইলার অব দ্য ইয়ার' ও 'সাসটেইনেবিলিটি ইনিশিয়েটিভ অব দ্য ইয়ার' ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পেয়েছিল এপেক্স। এবার প্রথমবারের মতো 'এআই ইনিশিয়েটিভ অব দ্য ইয়ার' ক্যাটাগরিতেও স্বীকৃতি পেল প্রতিষ্ঠানটি। এর মাধ্যমে পুরস্কারের তালিকায় যুক্ত হলো নতুন একটি অর্জন।

অ্যাওয়ার্ড-এর জন্য এপেক্সের বিভিন্ন কার্যক্রমকে মূল্যায়ন করেন বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা। বিচারক প্যানেলে ছিলেন ইওয়াই-পার্থেনন, ইউরোমনিটর ইন্টারন্যাশনাল, কেপিএমজি, আরএসএম সিঙ্গাপুর, কার্নেই, পিডব্লিউসি অস্ট্রেলিয়া, এবং প্রতিনিধিরা।

সম্প্রতি সিঙ্গাপুরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এপেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ফিরোজ মোহাম্মদ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে পুরস্কার গ্রহণ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন এপেক্সের হেড অব মার্কেটিং মোঃ রায়হান কবির এবং হেড অব রিটেইল বিজনেস আরবাবুর রহমান।

এবারের স্বীকৃতির পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে ঈদ উপলক্ষে চালু করা 'এপেক্স এআই স্টাইলিস্ট' উদ্যোগ। বাংলাদেশের রিটেইল খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-এর ব্যবহারে এটি একটি উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ। এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ৮৩ হাজারের বেশি সেশন সম্পন্ন হয়েছে এবং এআই সাজেশনের মাধ্যমে প্রায় ৩ লাখ ৯০ হাজার বার ক্রেতাদের পণ্য বেছে নিতে সহায়তা করেছে। এর মাধ্যমে প্রায় ৯ হাজার ৫০০ টি ডিজিটাল অর্ডার সম্পন্ন করেছে এপেক্স, যেখানে গ্রাহক সন্তুষ্টির হার ছিল ৯০ দশমিক ৪ শতাংশ। সব মিলিয়ে প্রায় ১ কোটি ৯১ লাখ মার্কিন ডলার সমমূল্যের পণ্য বিক্রি করেছে প্রতিষ্ঠানটি, যা আগের বছরের তুলনায় ৭ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি।

পুরস্কারপ্রাপ্তি প্রসঙ্গে এপেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফিরোজ মোহাম্মদ বলেন, "বিশ্বমঞ্চে স্বীকৃত হওয়ায় আমরা বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান হিসেবে গর্বিত। টানা তিন বছর ধরে রিটেইল এশিয়া এপেক্সকে 'ফুটওয়্যার রিটেইলার', 'সাসটেইনেবিলিটি' এবং এবার 'এআই ইনিশিয়েটিভ অব দ্য ইয়ার' পুরস্কারে সম্মানিত করেছে। এই অর্জন আমাদের প্রতিটি এপেক্সিয়ান এবং সেই সব গ্রাহকের, যারা বিশ্বাস করেন বাংলাদেশি মান বিশ্বমঞ্চে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে। বছরের পর বছর আমাদের পাশে থাকার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ।"

পরিবেশবান্ধব কার্যক্রমেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখিয়েছে এপেক্স। বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি বছরে ৪৬ লাখ লিটার ভূগর্ভস্থ পানি সাশ্রয় করছে। এ ছাড়া দেশের একমাত্র পূর্ণাঙ্গ এলডব্লিউজির গোল্ড সনদপ্রাপ্ত বর্জ্য শোধনাগার (ইটিপি) পরিচালনা করছে তারা। সৌরশক্তির ব্যবহার এবং পিইটি-টু-প্রোডাক্ট সার্কুলার ইকোনমি উদ্যোগের আওতায় ৪৫১ টন বর্জ্য পুনর্ব্যবহারের মাধ্যমে গত এক বছরে ২ হাজার ৫০৭ দশমিক ২০ টন কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ কমিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও টেকসই উদ্যোগের পাশাপাশি দেশের খুচরা বাজারেও শক্ত অবস্থান গড়ে তুলেছে এপেক্স। ২০২৫ সালের ফাউন্ডার্স ডে উপলক্ষে ৫৪ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলারের বিক্রির মাইলফলক স্পর্শ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে সারা দেশে এপেক্সের খুচরা বিক্রয়কেন্দ্রের সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়েছে।

ঈদকে কেন্দ্র করে পরিচালিত কৌশলগত বিপণণ (স্ট্র্যাটেজিক মার্কেটিং)-এর মাধ্যমে প্রায় ৩ কোটি ২০ লাখ মানুষের কাছে পৌঁছেছে এপেক্স। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির বিস্তৃত রিটেইল নেটওয়ার্কের আওতায় রয়েছেন ৭০ লাখের বেশি ক্রেতা। এর মধ্যে ৫৮ লাখ নিবন্ধিত লয়্যালটি গ্রাহকের ৫৭ শতাংশ নিয়মিত পুনরায় কেনাকাটা করেন, যা জুতার বাজারে এপেক্সের অবস্থানকে আরও শক্ত করেছে।