নজরুল জন্মজয়ন্তীতে 'রুম ঝুম' গান দিয়ে ফিরছে কোক স্টুডিও বাংলা
এগ্রিলাইফ২৪ ডটকম:কোকা-কোলা বাংলাদেশ নিয়ে এলো কোক স্টুডিও বাংলার চতুর্থ সিজন। ২৩ মে নজরুল সংগীত 'রুম ঝুম'-এর মাধ্যমে এই সিজনের যাত্রা শুরু হচ্ছে। যে সুর একসময় বসফরাস উপকূল থেকে বাংলায় এসেছিল এবং এখানেই থেকে সেই সুরে শুরু হচ্ছে নতুন সিজন।
রাজধানীর ২৯ হাটে বিনামূল্যে ভেটেরিনারি সেবা দিচ্ছে ডিএলএস
বাকৃবি প্রতিনিধি-মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর (ডিএলএস) রাজধানীর মোট ২৯টি কোরবানির হাটে বিনামূল্যে ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম পরিচালনা করছে।
ডিএলএসের উদ্যোগে পরিচালিত ওই মেডিকেল টিমে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি), শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়(শেকৃবি) ও গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের(গবি) মোট ৮৭ জন শিক্ষার্থী ইন্টার্ন ভেটেরিনারি চিকিৎসক হিসেবে অংশ নিয়েছেন। তারা দায়িত্বরত অফিসার ও সিনিয়র ভেটেরিনারিদের সঙ্গে মিলিয়ে হাটের ভেতরে ভ্রাম্যমাণ সেবা প্রদান করছেন।
শনিবার (২৩ মে) সকাল থেকে আগামী ২৬ মে পর্যন্ত সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চার দিনব্যাপী ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ১১টি হাট ও ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ১৮টি হাটে এই সেবার আওতায় প্রাণীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও জরুরি মেডিকেল সহায়তা প্রদানের কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ১১ নং হাটের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ভেটেরিনারিয়ান ডা. মোঃ সাইফুল্লাহ মাহমুদ বলেন, "এখানে আমরা অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ পরিহার করে চিকিৎসা করছি এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে বিকল্প, নিরাপদ ও বৈজ্ঞানিক প্রমাণভিত্তিক পদ্ধতি অনুসরণ করছি। এর ফলে শুধু প্রাণীর স্বাস্থ্যই সুরক্ষিত হবে না; সংক্রমণের ঝুঁকি কমে জনস্বাস্থ্যের নিরাপত্তাও নিশ্চিত হবে, এবং পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাবও হ্রাস পাবে। প্রাণিসম্পদের নির্দেশনায় আমরা এই সমন্বিত পদ্ধতির মাধ্যমে 'ওয়ান হেলথ' নীতির বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে চাই পশু, মানুষ ও পরিবেশের সম্মিলিত স্বাস্থ্যের জন্য।"
ওই হাটের ইন্টার্ন ভেটেরিনারি চিকিৎসক, বাকৃবির শিক্ষার্থী মো. আশিকুজ্জামান বলেন, "ইন্টার্ন হিসেবে এখানে কাজ করে বাস্তব অনুশীলনের সুযোগ পাচ্ছি। রোগ নির্ণয়, উপযুক্ত চিকিৎসা প্রদান ও রোগপ্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সরাসরি অভিজ্ঞতা অর্জন করছি। একই সঙ্গে আমরা কৃষকদের সচেতন করে হাট ব্যবস্থাপনা এবং প্রাণী স্বাস্থ্য সংরক্ষণ বিষয়ে কাজ করে যাচ্ছি, যা ভবিষ্যতে আমার পেশাগত দক্ষতাকে আরও সমৃদ্ধ করবে।"
উত্তর সিটি কর্পোরেশনের দিয়াবাড়ি হাটের ইন্টার্ন ভেটেরিনারি চিকিৎসক বাকৃবির শিক্ষার্থী মাহমুদ হাসান বলেন, "হাটে এসে আমি দেখেছি যে অনেক প্রাণী ছোট ছোট আঘাত কিংবা স্ট্রেসে রয়েছে যেগুলো দ্রুত সনাক্ত ও চিকিৎসা না করলে সমস্যা বাড়ে। আমরা প্রথমে দ্রুত ফিজিক্যাল চেকআপ করে ঝুঁকিপূর্ণ প্রাণী আলাদা রাখার পরামর্শ দিচ্ছি, ক্ষত-বালাই করছি এবং মালিকদের প্রয়োজনীয় ঘরোয়া যত্ন এবং চিকিৎসা-পরামর্শ দিচ্ছি। এতে কেবল রোগ তাড়াতাড়ি নিয়ন্ত্রিত হবে না বরং ক্রেতা-বিক্রেতাদেরও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত হবে।"
ভেটেরিনারি মেডিকেল টিমের কেন্দ্রীয় সমন্বয় টিমের কর্মকর্তা ড. মোঃ সফিকুর রহমান বলেন, "আমাদের টিমের মূল লক্ষ্য হলো কোরবানির হাটগুলোতে জনস্বাস্থ্য ও প্রাণী স্বাস্থ্য রক্ষা করা। প্রতিটি হাটে পর্যাপ্ত ওষুধ, জরুরি সরঞ্জাম ও তথ্যবহুল লিফলেট সরবরাহ করা হয়েছে। টিমগুলো সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সার্বক্ষণিকভাবে দায়িত্ব পালন করছে এবং কোরবানির প্রধান দিনগুলোতে কার্যক্রম আরও বাড়ানো হবে যাতে কোনও ধরনের জরুরি পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলা করা যায়।"
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক মোঃ শাহজামান খান বলেন, হাটগুলোতে প্রদানকৃত সেবার মধ্যে রয়েছে বিনামূল্যে ফিজিক্যাল চেকআপ, টিকাদান প্রয়োজনীয়তাসংক্রান্ত পরামর্শ, ক্ষত-বালাই এবং সংক্রমণজনিত সমস্যা শনাক্ত করে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা। এছাড়া প্রয়োজনবোধে মালিককে প্রাণী আলাদা রাখার নির্দেশ ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। প্রাণিকল্যাণ আইন–২০১৯ বাস্তবায়ন, কোরবানির প্রাণী পরিবহন বিধি, কৃত্রিমভাবে মোটাতাজাকৃত বা অসুস্থ প্রাণী ক্রয় না করার বিষয়ে ও সুস্থ প্রাণী কেনাবেচা সংক্রান্ত দিকনির্দেশনা সম্বলিত লিফলেট ও পোস্টারও বিতরণ করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, কোরবানির সময় প্রাণী সমাগম বেড়ে যাওয়ায় রোগ-রোগাণু ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। তাই জেলা-উপজেলা প্রশাসন ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের এ ধরনের উদ্যোগকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, অনুষ্ঠান চলাকালে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত টিমের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং কোরবানির প্রধান দিনগুলোতে সেবার পরিধি বাড়িয়ে আরও তৎপরতা গ্রহণ করা হবে।
অপো এ সিরিজকে নম্বর ১ স্মুথনেস, ব্যাটারি লাইফ ও ডিউরেবিলিটির স্বীকৃতি দিলো বুয়েট
With 16 New Brands, Robi Elite Offers Up To 52% Discount
Agrilife24.com|Robi Elite’ program has introduced 16 more renowned brands to its portfolio. Robi Elite customers will now be able to enjoy discounts of up to 52% and attractive benefits across various products and services from these brands.
কোরবানির পশুতে বাংলাদেশের স্বনির্ভরতা: বদলে যাওয়া এক অর্থনীতির গল্প
ড. মো. শরীফুল ইসলাম:বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতির নীরব বিপ্লবগুলোর মধ্যে কোরবানির পশু উৎপাদনে স্বনির্ভরতা অন্যতম। একসময় কোরবানির ঈদ ঘনিয়ে এলেই সীমান্তপথে বিদেশি গরুর প্রবেশ ছিল সাধারণ দৃশ্য। দেশের বাজার অনেকাংশেই নির্ভর করত বাইরের পশুর ওপর। কিন্তু সময় বদলেছে। আজ বাংলাদেশ শুধু কোরবানির পশু উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়, বরং উদ্বৃত্ত উৎপাদনের সক্ষমতাও অর্জন করেছে। এটি নিছক কৃষি বা প্রাণিসম্পদ খাতের সাফল্য নয়; এটি গ্রামীণ উন্নয়ন, যুব উদ্যোক্তা সৃষ্টি, নারীর অংশগ্রহণ এবং জাতীয় অর্থনীতির এক অনন্য অর্জনের গল্প।
২০২৫ সালের কোরবানির ঈদে বাংলাদেশে প্রায় ৯১ লাখ ৩৬ হাজার ৭৩৪টি পশু কোরবানি হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৪৭ লাখ ৫ হাজার গরু ও মহিষ এবং ৪৪ লাখ ৩০ হাজার ছাগল ও ভেড়া ছিল। অথচ সরকারি হিসাব অনুযায়ী, কোরবানির জন্য প্রস্তুত ছিল প্রায় ১ কোটি ২৪ লাখ ৪৭ হাজার পশু। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় প্রায় ২০ লাখেরও বেশি পশু উদ্বৃত্ত ছিল। আরও বিস্ময়ের বিষয়, প্রায় ৩৩ লাখ পশু অবিক্রীত থেকেছে। এই পরিসংখ্যানই প্রমাণ করে—বাংলাদেশ আজ কোরবানির পশু উৎপাদনে একটি নতুন সক্ষমতার জায়গায় পৌঁছেছে।
এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের নীতি সহায়তা, খামারভিত্তিক উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃত্রিম প্রজনন প্রযুক্তির সম্প্রসারণ এবং সাধারণ মানুষের উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার প্রবণতা। দেশের প্রায় প্রতিটি অঞ্চলে এখন ছোট, মাঝারি ও বড় খামার গড়ে উঠেছে। অনেক শিক্ষিত তরুণ চাকরির বাজারে অনিশ্চয়তার বদলে গবাদিপশু খামারকে বেছে নিচ্ছেন। নারী উদ্যোক্তারাও ঘরভিত্তিক খামারের মাধ্যমে পরিবারে আর্থিক স্বচ্ছলতা আনছেন।
একসময় ভারতীয় গরু ছাড়া কোরবানির বাজার কল্পনাই করা যেত না। সীমান্ত এলাকায় ঈদের আগে গরুর অস্বাভাবিক প্রবাহ ছিল প্রকাশ্য বাস্তবতা। কিন্তু বর্তমানে সরকার স্পষ্টভাবে বলছে—দেশে কোরবানির পশুর জন্য বিদেশি আমদানির কোনো প্রয়োজন নেই। এই পরিবর্তনের অর্থনৈতিক গুরুত্ব অনেক বড়। আগে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে চলে যেত; এখন সেই অর্থ দেশের গ্রামীণ অর্থনীতির ভেতরেই আবর্তিত হচ্ছে।
কোরবানির পশু কেন্দ্রিক অর্থনীতি এখন একটি বিশাল ভ্যালু চেইনে পরিণত হয়েছে। খামারি ছাড়াও এর সঙ্গে যুক্ত আছেন পশুখাদ্য ব্যবসায়ী, ওষুধ বিক্রেতা, পরিবহন শ্রমিক, হাট ইজারাদার, কসাই, চামড়া ব্যবসায়ী ও মৌসুমি শ্রমিকরা। প্রতিবছর কোরবানিকে কেন্দ্র করে হাজার হাজার কোটি টাকার অর্থনৈতিক কার্যক্রম সৃষ্টি হয়। এটি গ্রামীণ অর্থনীতিতে নগদ অর্থ প্রবাহ বাড়ায়, যা স্থানীয় বাজার ও ক্ষুদ্র ব্যবসাকে চাঙ্গা করে।
বাংলাদেশের প্রাণিসম্পদ খাত বর্তমানে জাতীয় জিডিপিতে প্রায় ১ দশমিক ৯ শতাংশ এবং কৃষিজ জিডিপিতে প্রায় ১৪ থেকে ১৫ শতাংশ অবদান রাখছে। যদিও এই খাতের পূর্ণ সম্ভাবনা এখনও কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি, তারপরও কোরবানিকেন্দ্রিক উৎপাদন দেশের অর্থনীতিতে একটি শক্তিশালী চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কোরবানির চিত্রও পরিবর্তনের বার্তা দেয়। ২০২৫ সালে রাজশাহী বিভাগে সবচেয়ে বেশি, প্রায় ২৩ লাখ ২৪ হাজার পশু কোরবানি হয়েছে। এরপর ঢাকায় প্রায় ২১ লাখ ৮৫ হাজার পশু। উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলো এখন গবাদিপশু উৎপাদনের বড় কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। চরাঞ্চল ও গ্রামীণ এলাকায় ঘাস চাষ এবং খামার সম্প্রসারণ এই পরিবর্তনের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
তবে এই অর্জনের মাঝেও বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বর্তমানে খামারিদের সবচেয়ে বড় সংকট পশুখাদ্যের দাম বৃদ্ধি। ভুট্টা, খৈল, খড়, ঘাস ও অন্যান্য খাদ্য উপকরণের মূল্য বাড়তে থাকায় উৎপাদন ব্যয়ও দ্রুত বাড়ছে। অনেক ক্ষুদ্র খামারি ব্যাংক ঋণ বা প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা পান না। ফলে তারা উচ্চ সুদে ধার নিয়ে খামার পরিচালনা করতে বাধ্য হন।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হলো বাজার ব্যবস্থাপনা। অনেক সময় খামারিরা ন্যায্যমূল্য পান না, অথচ ভোক্তাদের উচ্চমূল্যে পশু কিনতে হয়। মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে খামারি ও ক্রেতা উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হন। আধুনিক ও ডিজিটাল হাট ব্যবস্থাপনা চালু করা গেলে এই সমস্যা অনেকাংশে কমানো সম্ভব। অনলাইন পশুর হাটের ধারণা করোনাকালে জনপ্রিয়তা পেলেও সেটিকে এখনও পুরোপুরি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া যায়নি।
পশুর স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী দ্রুত মোটাতাজাকরণের জন্য ক্ষতিকর স্টেরয়েড বা ওষুধ ব্যবহার করে থাকে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। যদিও সরকারের নজরদারি বৃদ্ধি পেয়েছে, তবুও এ বিষয়ে আরও কঠোর মনিটরিং প্রয়োজন। নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত পশু উৎপাদনের জন্য খামারিদের প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।
জলবায়ু পরিবর্তনও প্রাণিসম্পদ খাতের জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করছে। অতিরিক্ত তাপমাত্রা, বন্যা, খরা ও ঘূর্ণিঝড় গবাদিপশুর স্বাস্থ্য ও খাদ্য উৎপাদনের ওপর প্রভাব ফেলছে। চরাঞ্চল ও উপকূলীয় অঞ্চলের খামারিরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। তাই জলবায়ু সহনশীল খামার ব্যবস্থাপনা ও অভিযোজন কৌশল এখন সময়ের দাবি।
বাংলাদেশের কোরবানির পশু খাতকে আরও শক্তিশালী করতে কয়েকটি বিষয়ে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
প্রথমত, খামারিদের জন্য সহজশর্তে ঋণ ও বীমা সুবিধা বাড়াতে হবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা রোগে ক্ষতির ঝুঁকি কমাতে পশুবীমা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
দ্বিতীয়ত, গবেষণা ও প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। দেশীয় জাতের গরুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও অভিযোজন শক্তি অনেক বেশি। উন্নত জাতের সঙ্গে দেশীয় জাতের বৈশিষ্ট্য সমন্বয় করে উৎপাদনশীলতা বাড়ানো সম্ভব।
তৃতীয়ত, পশুখাদ্য উৎপাদনে স্বনির্ভরতা বাড়াতে হবে। পতিত জমি, চরাঞ্চল ও রাস্তার পাশের খালি জমিতে ঘাস চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে খাদ্য সংকট অনেকাংশে কমবে।
চতুর্থত, আধুনিক কোরবানির হাট গড়ে তুলতে হবে। স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ডিজিটাল পেমেন্ট ও নিরাপদ পরিবহন নিশ্চিত করা গেলে হাট ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হবে।
পঞ্চমত, কোরবানির পর চামড়া শিল্পকে আধুনিকায়ন করতে হবে। প্রতিবছর কোরবানির সময় বিপুল পরিমাণ কাঁচা চামড়া উৎপাদিত হলেও সঠিক সংরক্ষণ ও বাজার ব্যবস্থাপনার অভাবে দেশের অর্থনীতি কাঙ্ক্ষিত সুবিধা পায় না।
সবশেষে বলতে হয়, কোরবানির পশুতে বাংলাদেশের স্বনির্ভরতা শুধু একটি কৃষিভিত্তিক অর্জন নয়; এটি আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি। এই সাফল্য প্রমাণ করে, পরিকল্পিত নীতি, প্রযুক্তি, গবেষণা এবং মানুষের পরিশ্রম একসঙ্গে কাজ করলে বাংলাদেশ যেকোনো খাতেই আত্মনির্ভরতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।
আজ দেশের খামারিরা আর শুধু কোরবানির বাজারের চাহিদা পূরণ করছেন না; তারা জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তিতে পরিণত হচ্ছেন। গ্রামীণ বাংলাদেশে যে নীরব অর্থনৈতিক বিপ্লব চলছে, কোরবানির পশুতে স্বনির্ভরতা তারই উজ্জ্বল উদাহরণ। এই অর্জনকে টেকসই ও আধুনিক রূপ দিতে পারলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ শুধু নিজস্ব চাহিদা পূরণই করবে না, বরং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন প্রাণিসম্পদ খাত গড়ে তোলার পথেও এগিয়ে যাবে।
-লেখক:সিনিয়র প্রোগ্রাম স্পেশালিস্ট, সার্ক কৃষি কেন্দ্র, ঢাকা, বাংলাদেশ।
অন্তরের পবিত্রতা ও হালাল উপার্জন: কুরবানির মূল শর্ত
ইসলামিক ডেস্ক:প্রতি বছর জিলহজ মাস এলে আমরা কুরবানির পশুর বয়স, তার শারীরিক নিখুঁত অবস্থা এবং সেটি শরিয়তসম্মত উপায়ে কেনা হচ্ছে কিনা তা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করি। কিন্তু পশুর বাহ্যিক ত্রুটিমুক্ততার চেয়ে কুরবানি দাতার ভেতরের নিখুঁত হওয়া এবং তার নিয়ত সহি হওয়া বহুগুণ বেশি গুরুত্বপূর্ণ।


