কাহালুতে অ্যাডভান্স এগ্রোটেক বাংলাদেশের আধুনিক মৎস্যচাষ বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

এগ্রিবিজ এন্ড টেক
Typography
  • Smaller Small Medium Big Bigger
  • Default Helvetica Segoe Georgia Times

এগ্রিলাইফ২৪ ডটকম:দেশের মৎস্যখাতকে আরও উৎপাদনশীল, লাভজনক ও টেকসই করার লক্ষ্যে শীর্ষস্থানীয় মৎস্য স্বাস্থ্যসেবা ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যাডভান্স এগ্রোটেক বাংলাদেশ আজ কাহালু বাজারস্থ ট্রেনিং সেন্টারে দিনব্যাপী “আধুনিক ও বিজ্ঞানভিত্তিক মৎস্যচাষ বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা ও মতবিনিময় সভা” আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানটি বাস্তবায়নে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেন অ্যাডভান্স এগ্রোটেক বাংলাদেশের কাহালু অঞ্চলের একক ডিলার মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন ভুঁইয়া। কর্মশালায় এলাকার বিপুল সংখ্যক মৎস্যচাষী, হ্যাচারি মালিকবৃন্দ, মাছ বাজারজাতকরণ উদ্যোক্তা, মাছের পোনা সরবরাহকারী, মৎস্য ব্যবসায়ী এবং স্থানীয় মৎস্য খাতের বিভিন্ন অংশীজন অংশগ্রহণ করেন।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট কৃষিবিদ, গবেষক এবং অ্যাডভান্স এগ্রোটেক বাংলাদেশের হেড অব টেকনিক্যাল অ্যান্ড সেলস রেজাউল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উত্তরবঙ্গ অঞ্চলের জোনাল সেলস ম্যানেজার তুহিন সরকার।

প্রশিক্ষণে আধুনিক মাছ চাষ ব্যবস্থাপনা, পুকুর প্রস্তুতি, পানির গুণগত মান নিয়ন্ত্রণ, মাছের রোগ প্রতিরোধ, পুষ্টি ব্যবস্থাপনা, বায়োসিকিউরিটি এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির বিভিন্ন কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

রেজাউল হক তাঁর বক্তব্যে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও অতিরিক্ত তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে মাছ চাষে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে। উচ্চ তাপমাত্রার কারণে পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন কমে যায়, মাছ হিট স্ট্রেসে আক্রান্ত হয় এবং রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। পাশাপাশি অতিরিক্ত খাদ্য প্রয়োগ ও জৈব বর্জ্য জমে থাকার কারণে পানিতে অ্যামোনিয়া ও নাইট্রাইটের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়ে মাছের স্বাস্থ্য ও উৎপাদনশীলতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এসব সমস্যা মোকাবেলায় নিয়মিত পানি পরীক্ষা, সঠিক ব্যবস্থাপনা এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি আরও বলেন, নিরাপদ ও টেকসই মাছ উৎপাদনের জন্য অ্যান্টিবায়োটিকের পরিবর্তে ফাইটোজেনিক প্রযুক্তি, প্রোবায়োটিক ও প্রিবায়োটিকের সঠিক ব্যবহার সময়ের দাবি। এতে উৎপাদন ব্যয় কমার পাশাপাশি নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

মতবিনিময় পর্বে খামারিরা তাদের বিভিন্ন সমস্যা ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন এবং বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে বাস্তবভিত্তিক পরামর্শ গ্রহণ করেন। কর্মশালার শেষে প্রশ্নোত্তর ও কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয় এবং বিজয়ীদের মাঝে বিশেষ পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

অংশগ্রহণকারী খামারিরা এ ধরনের সময়োপযোগী ও বাস্তবমুখী উদ্যোগের জন্য অ্যাডভান্স এগ্রোটেক বাংলাদেশ প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।