বাকৃবি প্রতিনিধিঃবাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) একদল গবেষক স্থানীয় হাঁসের প্লেগ ভাইরাস ব্যবহার করে স্বল্পমূল্যের হাঁসের প্লেগ টিকা উদ্ভাবন করেছেন। গবেষকরা বলছেন, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে টিকাটি দেশের হাঁস পালন খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে।
আজ সোমবার (২৭ জুলাই) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের গ্যালারিতে প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের (এলডিডিপি) অর্থায়নে গবেষণা প্রকল্পের সমাপনী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা কমিটির (সিএএসআর) সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. মো. সামছুল আলম। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্চ সিস্টেমের (বাউরেস) পরিচালক অধ্যাপক ড. এম. হাম্মাদুর রহমান, ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পরিচালক ড. শামসাদ জাহান শিরাজী এবং এলডিডিপির চিফ টেকনিক্যাল কোঅর্ডিনেটর ড. মো. জাহাঙ্গীর হোসেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রকল্পের প্রধান গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য ও ভেটেরিনারি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমান।
স্বাগত বক্তব্য দেন মাইক্রোবায়োলজি ও হাইজিন বিভাগের অধ্যাপক এবং প্রকল্পের সহ-গবেষক ড. মোহাম্মদ ফেরদৌসুর রহমান খান।
গবেষণা কার্যক্রম উপস্থাপন করে অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমান জানান, হাঁসের প্লেগ একটি প্রাণঘাতী ভাইরাসজনিত রোগ। এতে আক্রান্ত হাঁসের মৃত্যুহার ৪০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। শুরুতে অ্যাটেন্যুয়েটেড ভ্যাকসিন তৈরির লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু হলেও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের (ডিএলএস) অনুরোধে ইনঅ্যাক্টিভেটেড ও ডিএনএ ভ্যাকসিন নিয়েও গবেষণা করা হয়। ইনঅ্যাক্টিভেটেড ভ্যাকসিনে প্রত্যাশিত ফল না মিললেও ডিএনএ ও ওরাল ভ্যাকসিনে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে।
তিনি জানান, বর্তমানে টিকাটি মাঠপর্যায়ের পরীক্ষার অপেক্ষায় রয়েছে। প্রয়োজনীয় সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে আগামী এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে এটি খামারিদের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হতে পারে। তার আশা, উদ্ভাবিত টিকাটি ৯০ শতাংশের বেশি সুরক্ষা দেবে এবং ডিএলএসের মাধ্যমে দেশের খামারিদের কাছে পৌঁছে হাঁস পালন খাতের উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মো. সামছুল আলম বলেন, ভাইরাসজনিত এ রোগে আক্রান্ত হাঁসকে চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ করা কঠিন। তাই রোগ প্রতিরোধে টিকাই সবচেয়ে কার্যকর ব্যবস্থা। তিনি বলেন, বাকৃবির অণুজীববিজ্ঞান ও স্বাস্থ্যবিধি বিভাগের ভ্যাকসিন গবেষণার দীর্ঘ ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় স্থানীয় হাঁসের প্লেগ ভাইরাস ব্যবহার করে স্বল্পমূল্যের এ টিকা উদ্ভাবন একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। ভবিষ্যতে ভাইরাসের পরিবর্তনশীল বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় নিয়ে টিকাটির কার্যকারিতা আরও বাড়ানো সম্ভব হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।



