ইসলামিক ডেস্ক: বর্তমান সমাজে যখন চারিদিকে সৎকাজের চরম অভাব এবং অন্যায়-অত্যাচারের আধিক্য দেখা যাচ্ছে, তখন সূরা আনকাবুতের ৫৮ ও ৫৯ নম্বর আয়াত দুটি আমাদের জন্য এক মহান দিকনির্দেশনা। এই আয়াতদ্বয়ে মহান আল্লাহ তাআলা শক্তিশালী ঈমান, সৎকর্ম এবং ধৈর্যের এক অপূর্ব সমন্বয় ঘটিয়েছেন, যা মানবজীবনের ইহকালীন শান্তি ও পরকালীন মুক্তির একমাত্র চাবিকাঠি।
সূরা আনকাবুতের ৫৮ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন, যারা আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাস স্থাপন করে তথা শক্তিশালী ঈমান আনে এবং দুনিয়ার জীবনে সৎ কাজ করে, তাদেরকে অবশ্যই পরকালে সুউচ্চ জান্নাতে বসবাসের সুযোগ দেওয়া হবে। সেই জান্নাতের তলদেশ দিয়ে প্রবাহমান থাকবে চিরসবুজ নদীসমূহ এবং সেখানে তারা চিরকাল অবস্থান করবে। এটি সৎকর্মশীলদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে এক সর্বোত্তম প্রতিদান। অথচ আজ আমাদের সমাজে মানুষ অল্পতেই অধৈর্য হয়ে পড়ছে, হারিয়ে ফেলছে সততার পথ। অন্যায় ও অসৎ কাজের দিকে ঝুঁকে পড়ছে সমাজ। এই আয়াতটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, ক্ষণস্থায়ী দুনিয়ার লোভ-লালসা বিসর্জন দিয়ে সৎ পথে চলাই মুমিনের আসল লক্ষ্য হওয়া উচিত।
পরবর্তী ৫৯ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ সেইসব সফলকাম মানুষের দুটি বিশেষ গুণের কথা উল্লেখ করেছেন—ধৈর্য এবং আল্লাহর ওপর অবিচল ভরসা। বর্তমান যুগে মানুষ যেকোনো ছোটখাটো বিপদ বা সমস্যায় পড়লেই দিশেহারা হয়ে পড়ে এবং অধৈর্য হয়ে যায়। কিন্তু এই আয়াত আমাদের শেখায়, জীবনের প্রতিটি কঠিন পরিস্থিতিতে ধৈর্য ধারণ করতে হবে। একই সাথে, কোনো মানুষ বা অন্য কোনো সৃষ্টির ওপর ভরসা না করে, কেবলমাত্র আমাদের মহান রবের ওপর পূর্ণ আনুগত্য ও তাওয়াক্কুল (ভরসা) রাখতে হবে।
বিপদ-আপদ ও প্রতিকূলতায় যারা আল্লাহর ওপর অটুট বিশ্বাস রেখে ধৈর্য ধরবে, তাদের জন্যই রয়েছে আল্লাহর বিশেষ সাহায্য ও পুরস্কার। অতএব, আসুন আমরা সমাজ থেকে সব ধরনের অন্যায়, অত্যাচার ও অসৎ কাজ বর্জন করি। জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে শক্তিশালী ঈমান ও সৎকাজের মাধ্যমে নিজেদের গড়ে তুলি এবং যেকোনো সংকটে কেবলমাত্র মহান রবের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে ধৈর্যের পরিচয় দিই। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা আমাদের উত্তম প্রতিদানে ভূষিত করবেন।



