শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সুসম্পর্ক ছাড়া শিক্ষার লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়: ইউজিসি চেয়ারম্যান

কৃষিবিদ ও ক্যাম্পাস
Typography
  • Smaller Small Medium Big Bigger
  • Default Helvetica Segoe Georgia Times

বাকৃবি প্রতিনিধি:বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেছেন, প্রতিটি শিক্ষার্থীর সঙ্গে একটি পরিবার, একটি স্বপ্ন এবং দেশের ভবিষ্যৎ জড়িয়ে থাকে। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের দায়িত্ব শিক্ষকদের ওপর বর্তায়। তাই শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা ও আন্তরিকতার সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। এই সম্পর্কের ভিত্তি মজবুত না হলে শিক্ষার চূড়ান্ত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মিলনায়তনে ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের কেন্দ্রীয় নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ইউজিসি চেয়ারম্যান শিক্ষকদের উদ্দেশে বলেন, আজ যারা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে, তারা সবাই একটি স্বপ্ন নিয়ে এসেছে। এই স্বপ্ন শুধু তাদের ব্যক্তিগত নয়; এর সঙ্গে তাদের পরিবার, সমাজ ও দেশের প্রত্যাশাও জড়িয়ে আছে। শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবে, আর শিক্ষকরাও শিক্ষার্থীদের প্রতি স্নেহশীল হবেন। পারস্পরিক সম্মান ও বিশ্বাসের এই সম্পর্কই একজন শিক্ষার্থীকে প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।

তিনি বলেন, কোনো সংকট বা বিপদের সময়ে যেন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে খেসারত দিতে না হয়, সে বিষয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। একটি সুস্থ, নিরাপদ ও ইতিবাচক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করাই বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।

অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, তোমরা অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে এই ঐতিহ্যবাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছ। তাই তোমরা মেধাবীদের মধ্যেও মেধাবী। তবে শুধু মেধা নয়, আত্মবিশ্বাস, দায়িত্ববোধ, নৈতিকতা ও মানবিক গুণাবলি অর্জনের মাধ্যমে নিজেদের দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় দেশের কৃষি, গবেষণা ও উচ্চশিক্ষায় ঐতিহাসিক অবদান রেখে চলেছে। শিক্ষার্থীদের শুধু একাডেমিক শিক্ষায় সীমাবদ্ধ না থেকে গবেষণা, খেলাধুলা, বিতর্ক, নেতৃত্ব বিকাশ এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হতে হবে।

উচ্চশিক্ষার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে স্মার্ট ক্যাম্পাসে রূপান্তরের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। হাই-স্পিড ইন্টারনেট, স্মার্ট ক্লাসরুম, সমন্বিত ডিজিটাল সেবা এবং অনলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ভর্তি থেকে শুরু করে প্রাক্তন শিক্ষার্থী হিসেবেও বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারবেন।

নবীনবরণ কর্মসূচি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি এবং ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল হকের সভাপতিত্বে এবং সহযোগী ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন বাকৃবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিন পরিষদের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমান, প্রভোস্ট পরিষদের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. রুহুল আমিন, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল আলীম এবং রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড. মো. হেলাল উদ্দীন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।