শেকৃবি প্রতিনিধি:আজ ১৪ ই জুলাই ২০২৬ তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন, ক্যারিয়ার পরিকল্পনা এবং কর্মসংস্থানের জন্য প্রস্তুত করে তুলতে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘Empowering Youth-Season 2’ নামক ক্যারিয়ার গাইডলাইন সেশন’।
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটির (SAUDS) উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের মডারেটর প্রফেসর ড. মোঃ তাজুল ইসলাম চৌধুরী। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ বেলাল হোসেন । বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পোস্ট গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজ অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. সালাউদ্দিন মাহমুদ চৌধুরী, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোঃ আরফান আলী এবং শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি ওয়াসিউল হাসান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ রিসোর্স পারসন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন Mr. M. M. Mahbub Hasan, কাজী নিসাদ মাহবুব এবং মোছাঃ মরনাযারা খাতুন। তাঁরা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে ক্যারিয়ার পরিকল্পনা, কর্পোরেট জগতে সফল হওয়ার কৌশল, দক্ষতা উন্নয়ন, নেতৃত্ব, ব্যক্তিত্ব বিকাশ এবং আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন।
দিনব্যাপী এ আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে ক্যারিয়ার গঠন, সিভি(CV) প্রস্তুত, চাকরির সাক্ষাৎকারে সফল হওয়ার কৌশল, যোগাযোগ দক্ষতা, ব্যক্তিত্ব বিকাশ এবং কর্মক্ষেত্রের বাস্তব অভিজ্ঞতা নিয়ে একাধিক সেশন অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ock Interview Session, যেখানে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা বাস্তবধর্মী চাকরির সাক্ষাৎকারে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান। বিশেষজ্ঞরা তাঁদের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করে গঠনমূলক পরামর্শ প্রদান করেন, যা ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এছাড়া Career Adda & Question–Answer Session-এ শিক্ষার্থীরা সরাসরি অতিথি বক্তাদের কাছে ক্যারিয়ার, উচ্চশিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা-সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্ন করেন। প্রাণবন্ত এই পর্বে শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানটিকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। পরবর্তীতে সৃজনশীল ও প্রাসঙ্গিক প্রশ্নের জন্য একজন অংশগ্রহণকারীকে Best Question Award প্রদান করা হয়।
প্রধান অতিথি ও অতিথিবৃন্দ তাঁদের বক্তব্যে বলেন, বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে শুধুমাত্র একাডেমিক ফলাফল যথেষ্ট নয়; বরং সমস্যা সমাধানের দক্ষতা, কার্যকর যোগাযোগ, নেতৃত্ব, দলগত কাজ এবং পেশাগত নৈতিকতাই একজন শিক্ষার্থীকে সফলতার শিখরে পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে এ ধরনের বাস্তবমুখী ক্যারিয়ার উন্নয়ন কর্মসূচির বিকল্প নেই।
তাঁরা আরও বলেন, বাংলাদেশের তরুণদের দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং কর্পোরেট খাতের মধ্যে কার্যকর সংযোগ গড়ে তোলা জরুরি। নিয়মিত প্রশিক্ষণ, মেন্টরশিপ এবং ইন্ডাস্ট্রি-ভিত্তিক অভিজ্ঞতার সুযোগ সৃষ্টি করা গেলে শিক্ষার্থীরা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক কর্মবাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠবে।
অনুষ্ঠানজুড়ে শিক্ষার্থীদের ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। অংশগ্রহণকারীরা জানান, এ ধরনের উদ্যোগ তাদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি, ক্যারিয়ার পরিকল্পনা এবং বাস্তব কর্মজীবনের জন্য প্রস্তুত হতে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।
আয়োজকরা জানান, Empowering Youth উদ্যোগের মাধ্যমে ভবিষ্যতেও তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন, নেতৃত্ব বিকাশ এবং কর্মসংস্থানের উপযোগী করে গড়ে তুলতে ধারাবাহিকভাবে প্রশিক্ষণ, কর্মশালা এবং ক্যারিয়ার উন্নয়নমূলক কর্মসূচির আয়োজন করা হবে।



