বরিশালে ব্রি ধান১১৮ জাতের বীজ উৎপাদন কর্মসূচি উদ্বোধন করলেন ব্রির পরিচালক

স্মার্ট ফার্মিং ও পণ্য
Typography
  • Smaller Small Medium Big Bigger
  • Default Helvetica Segoe Georgia Times

নাহিদ বিন রফিক (বরিশাল): বরিশালে ব্রি ধান১১৮ জাতের বীজ উৎপাদন কর্মসূচি উদ্বোধন করলেন বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক (গবেষণা) ড. মো. রফিকুল ইসলাম।

আজ নগরীর চরবদনা ফার্মে ব্রি আঞ্চলিক কার্যালয়ের উদ্যোগে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এসময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আঞ্চলিক কৃষি তথ্য অফিসার শেখ হাবিবুর রহমান, ব্রির ঊধর্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. হাসিনা খাতুন, কৃষি তথ্য সার্ভিসের কর্মকর্তা নাহিদ বিন রফিক প্রমুখ। 

উল্লেখ্য, দীর্ধদিন ধরে হাওর অঞ্চলের কৃষকরা ১৪০ থেকে ১৬০ দিন মেয়াদি ব্রি ধান২৮ ও ব্রি ধান২৯ জাতের ধানের আবাদ করে আসছেন। কিন্তু আগাম বন্যার কারণে এসব দীর্ঘমেয়াদি জাত এখন আর আশানুরূপ নিরাপত্তা ও ফলনের নিশ্চয়তা দিতে পারছে না। এ প্রেক্ষাপটে হাওর অঞ্চলের আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি মোকাবেলায় ব্রি উচ্চ ফলনশীল, তুলনামূলক স্বল্পমেয়াদি এবং ঠান্ডা সহিষ্ণু বোরো ধানের জাত ব্রি ধান১১৮ উদ্ভাবন করেছে। এই জাতের বিশেষ গুণ হলো হাওরের পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথেই অক্টোবর মাসের প্রথম দিকে বীজ বপন করলেও চারা এবং প্রজনন উভয় পর্যায়ে ঠান্ডা সহ্য করে আগাম বন্যার ক্ষতি এড়িয়ে নিরাপদে ভালো ফলন  দিতে পারে। প্রচলিত জাতগুলো অক্টোবর মাসের প্রথম দিকে বপন করলে সাধারণত ঠান্ডার কারণে ধান চিটা হয়ে যায়। আগাম রোপণযোগ্য এবং ঠান্ডা সহিষ্ণুতার কারণে ব্রি ধান১১৮ চাষে আগাম বন্যার আগেই নিরাপদে ঘরে তোলা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন ব্রি বিজ্ঞানীরা। ফলে হাওর অঞ্চলের কৃষকদের ক্ষতি কমানোর পাশাপাশি জাতীয় ধান উৎপাদন বৃদ্ধিতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। 

আগামী বোরো মৌসুমে হাওর অঞ্চলে ব্রি  ধান১১৮ জাতের ৫ হাজার প্রদর্শনী স্থাপনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট আসন্ন আমন মৌসুমে ব্রি ধান১১৮-এর একটি বিশেষ বীজ উৎপাদন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। বর্তমানে হাওর অঞ্চলের অধিকাংশ জমি পানির নিচে থাকায় বীজ উৎপাদন কর্মসূচিটি দেশের অন্যান্য একালায় পাশাপাশি  ব্রি বরিশালের চরবদনা ফার্মের ৩ হেক্টর জমিতে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।