মৎস্য আহরণকারীরা কৃষক কার্ডের আওতায় আসবেন- মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

ফারমার্স এন্ড ফার্মিং
Typography
  • Smaller Small Medium Big Bigger
  • Default Helvetica Segoe Georgia Times

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতোমধ্যেই সাধারণ জনগণের জন্য ফ্যামিলি কার্ড এবং কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড প্রদান কার্যক্রম শুরু করেছেন। আর মৎস্য আহরণকারীরাও  কৃষক কার্ডের আওতায় আসবেন।

(০৬ মে) দুপুরে রাঙ্গামাটির কাপ্তাই হ্রদ মৎস্য উন্নয়ন ও বিপণনকেন্দ্রে কাপ্তাই হ্রদে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ ও মৎস্যজীবীদের মাঝে ভিজিএফ (চাল) বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, কাপ্তাই লেক বাংলাদেশের ঐতিহ্যের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। অতীতে এই লেক থেকে যে পরিমাণ মাছ আহরণ করা হতো, বর্তমানে তা আর পাওয়া যাচ্ছে না। আজ যে পোনা মাছ অবমুক্ত করা হচ্ছে, তা বড় হয়ে এখানকার মৎস্য শিকারিরাই আহরণ করবেন। তবে মাছগুলো বড় হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সময় দিতে হবে।

তিনি বলেন, সরকার সবসময় মৎস্যজীবীদের পাশে রয়েছে। তাই মাছের উৎপাদন নিশ্চিত করতে পোনা মাছগুলোকে বেড়ে ওঠার সুযোগ দিতে হবে, যাতে দেশের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি মৎস্যজীবীরাও অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারেন। এ লক্ষ্যে তিনি সকলকে তিন মাস মাছ আহরণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী দিনে দেশকে এগিয়ে নিতে হলে সকলকে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে এবং বাংলাদেশকে হৃদয়ে ধারণ করে চলতে হবে। তিনি বলেন, কাপ্তাই লেক একটি জাতীয় সম্পদ, যেখানে প্রতিনিয়ত দেশি-বিদেশি পর্যটকরা আসেন। তাই এ লেকে কোনো ধরনের ময়লা-আবর্জনা ফেলা থেকে সবাইকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, আমরা যদি নিজেরা সচেতন হই, তাহলে কাপ্তাই লেককে অনেকাংশে দূষণমুক্ত রাখা সম্ভব। অন্যথায়, ক্রমাগত দূষণের ফলে একসময় এটি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়তে পারে। তিনি বলেন, লেককে দূষণমুক্ত রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং পর্যটনসংশ্লিষ্টদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। এছাড়া কাপ্তাই লেকের নাব্যতা রক্ষায় প্রয়োজনীয় খনন কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) চেয়ারম্যান মো: ইমাম উদ্দীন কবীরের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: দেলোয়ার হোসেন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) রাঙ্গামাটির সেক্টর কমান্ডার কর্নেল আবু মোহাম্মদ সিদ্দিক আলম, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. অনুরাধা ভদ্র, রাঙ্গামাটির ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মো: মোবারক হোসেন, নৌ-পুলিশ চট্টগ্রাম অঞ্চলের পুলিশ সুপার বিএম নুরুজ্জামান ও রাঙ্গামাটির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোছাইন প্রমুখ।

উল্লেখ্য, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলার কাপ্তাই হ্রদনির্ভর ২৬ হাজার ৮৪৫টি জেলে পরিবারকে প্রথম ধাপে পরিবার প্রতি ২০ কেজি হারে দুই মাসের জন্য মোট ৪০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হবে, যার মোট পরিমাণ ১ হাজার ৭৪ মেট্রিক টন।

এছাড়া চলতি মৌসুমে কাপ্তাই হ্রদে ৬০ মেট্রিক টনেরও বেশি মাছের পোনা অবমুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বিএফডিসি।