নিরাপদ হাট ব্যবস্থাপনা ও জাল টাকা প্রতিরোধে সরকারের সর্বাত্মক ব্যবস্থা রয়েছে-মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী

ফোকাস
Typography
  • Smaller Small Medium Big Bigger
  • Default Helvetica Segoe Georgia Times

এগ্রিলাইফ২৪ ডটকম:মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, দেশের বিভিন্ন পশুর হাটে ব্যবসায়ী, খামারি ও ক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

জাল টাকা শনাক্তে হাটে বিশেষ মেশিন স্থাপন করা হয়েছে পাশাপাশি হাট এলাকায় ব্যাংকিং সেবা রাখা হয়েছে, যাতে বিক্রেতারা নিরাপদে অর্থ জমা দিতে পারেন এবং প্রয়োজনে নতুন হিসাব খুলেও অর্থ সংরক্ষণ করতে পারেন।

আজ সকালে রাজধানীর দিয়াবাড়ী  পশুর হাটে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে কোরবানির পশুর হাট পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, দেশে আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে কোরবানিযোগ্য গবাদিপশুর পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে এবং এ বছর দেশীয়ভাবে উৎপাদিত পশু দিয়েই কোরবানির চাহিদা পূরণ সম্ভব হবে। তিনি বলেন, দেশের কৃষক ও খামারিরা যে পরিমাণ গরু, ছাগল ও মহিষ উৎপাদন করেছেন, তা দেশের কোরবানির চাহিদা পূরণের জন্য যথেষ্ট।

পশু হারিয়ে যাওয়া বা চুরির অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, বড় হাটগুলোতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবক দল সার্বক্ষণিক কাজ করছে। হারিয়ে যাওয়া পশু উদ্ধারে মাইকিং, তদারকি এবং তাৎক্ষণিক সহায়তার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই হারানো পশু দ্রুত উদ্ধার করে মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।

ভারতীয় বা সীমান্তপথে আসা গবাদিপশুর বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকার সীমান্তে অবৈধ পশু প্রবেশ রোধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। কোরবানির আগেই আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে সীমান্তরক্ষী বাহিনী, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

কোরবানির পশুর মূল্য নিয়ে মন্ত্রী বলেন, দেশে এখনো মূলত পশুর গঠন, স্বাস্থ্য, আকৃতি ও বাহ্যিক মান বিবেচনায় দরদামের মাধ্যমে ক্রয়-বিক্রয় হয়। ফলে একই ধরনের পশুর দাম ভিন্ন হতে পারে। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে ধীরে ধীরে ওজনভিত্তিক বা “লাইভ ওয়েট” পদ্ধতিতে পশু বিক্রির সংস্কৃতি গড়ে উঠলে মূল্য নির্ধারণ আরও স্বচ্ছ ও নির্ধারিত হবে।

মন্ত্রী বলেন, বাজারে হাজারো বিক্রেতা ও ক্রেতার উপস্থিতির কারণে কোনো ধরনের কৃত্রিম সিন্ডিকেট তৈরি করা কঠিন। বাজারের প্রতিযোগিতা ও চাহিদা-সরবরাহের ভিত্তিতেই পশুর দাম নির্ধারিত হয়।

মন্ত্রী আরও বলেন, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন পশুর হাটে শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু বেচাকেনা নিশ্চিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় জনবল মোতায়েন করেছে এবং ঈদ পর্যন্ত এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোঃ  শাহজামান খান, অধিদপ্তরের পরিচালক ডাঃ মোঃ বয়জার রহমান, অধিদপ্তরের প্রকল্প পরিচালক ডাঃ মো: আবদুর রহিম, ডাঃ মো: সফিকুর রহমানসহ মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।