খুলনা, প্রতিনিধি: দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বোরো ধান চাষে পর্যায়ক্রমে ভিজানো ও শুকানো (এডব্লিউডি) প্রযুক্তির কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন ও সম্প্রসারণ বিষয়ক এক কর্মশালা মঙ্গলবার কৃষি তথ্য সার্ভিসের খুলনা আঞ্চলিক কার্যালয়ের হলরুমে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সফল ফর ইন্টিগ্রেটেড ওয়াটার রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট (IWRM) প্রোগ্রামের খুলনা অঞ্চলের ম্যানেজার কৃষিবিদ মোস্তফা নুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে আয়োজিত কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ক্রপস উইংয়ের পরিচালক কৃষিবিদ ড. সালমা লাইজু। বিশেষ অতিথি ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, খুলনা অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ মো. রফিকুল ইসলাম।
কর্মশালায় বোরো ধানে এডব্লিউডি প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে পানি ও সেচ ব্যয় সাশ্রয়, জ্বালানি খরচ কমানো, ফলন বৃদ্ধি এবং গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন হ্রাসের সম্ভাবনা তুলে ধরে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন উত্তরণের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা কৃষি প্রকৌশলী নাবিলা আজহার। স্বাগত বক্তব্যে কর্মশালার উদ্দেশ্য তুলে ধরেন মোস্তফা নুরুল ইসলাম। মাঠপর্যায়ে প্রযুক্তিটির প্রয়োগ থেকে প্রাপ্ত ফলাফল, চ্যালেঞ্জ ও সুপারিশ উপস্থাপন করেন সফল ফর IWRM প্রকল্পের সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার কৃষিবিদ ড. এস. এম. ফেরদৌস।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. সালমা লাইজু বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সুপারিশকৃত হলেও এডব্লিউডি প্রযুক্তি এখনও কৃষকদের মধ্যে কাঙ্ক্ষিতভাবে বিস্তার লাভ করেনি। পানি সাশ্রয়ী এ প্রযুক্তির সম্প্রসারণে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। বিশেষ অতিথি মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের চলমান পার্টনার ফিল্ড স্কুলের কৃষক প্রশিক্ষণে এডব্লিউডি প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্ত করা হলে এর সম্প্রসারণ আরও ত্বরান্বিত হবে।
উন্মুক্ত আলোচনায় উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. সাইফুল ইসলাম, কৃষিবিদ মো. নজরুল ইসলাম, কৃষিবিদ মোতাহার হোসেন, বিএডিসির নির্বাহী প্রকৌশলী জামাল ফারুক, উত্তরণের প্রকল্প ব্যবস্থাপক কৃষিবিদ মো. ইকবাল হোসেন, কৃষিবিদ শেখ ফজলুল হক মনি, কৃষিবিদ মো. নাজমুল হুদাসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। কর্মশালায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, খুলনা অঞ্চলের ২০ জন কর্মকর্তা, ১০ জন কৃষক, সলিডারিডাড নেটওয়ার্ক এশিয়ার প্রোগ্রাম কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন এনজিওর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা প্রযুক্তিটির সম্প্রসারণে বিভিন্ন সুপারিশ তুলে ধরেন, যা আগামী বোরো মৌসুমে মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে আয়োজকরা জানান।



